Monday, December 23, 2013

দেশের শ্রম বাজারে সঙ্কটের আভাস

দেশের শ্রম বাজারে সঙ্কটের আভাস
ড.ফোরকান আলী
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। অনেক েেত্র ইতিমধ্যে পড়ে গেছে। লিবিয়া, বাহারাইন, ইয়েমেনসহ আরও কয়েকটি দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে ইতোমধ্যে বহু শ্রমিক বা কর্মী দেশে ফেরত এসেছে। প্রায় প্রতিদিনই কয়েক হাজার কর্মী দেশে ফেরত আসছে। এতে একদিকে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশে জনসংখ্যার চাপ ও বেকারত্ব বাড়ছে। ইতোমধ্যে লিবিয়া থেকে ৩২ হাজার কর্মী দেশে ফেরত এসেছে। বাহারাইন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সেখান থেকেও বিপুল সংখ্যক কর্মী ফেরত আসার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে ইয়েমেন থেকেও প্রায় ১৫ হাজার কর্মী ফেরত আসার উপক্রম হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এতে করে বহু পরিবার সর্বশান্ত হয়ে দারিদ্র্য সীমার অনেক নিচে চলে যাবে। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থাও নাজুক অবস্থায় পড়বে।
এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সরকারের পে কঠিন হয়ে পড়বে। তবে যেসব কর্মী দেশে ফেরত আসছে, তাদের সরকারী ব্যবস্থাপনায় অন্য কোন দেশে পাঠানো এবং সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজারই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। সেখান থেকেই যদি কর্মীরা ফেরত আসে তাহলে এটা দেশের জন্য তির কারণ। কারণ বিশ্বের অন্য কোন দেশে আমাদের শ্রমবাজার খুব এটা প্রসারিত নয়। যারা ফেরত আসছে তাদের অনেকে সহায় সম্বল বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছিল। এখন তাদের হাতে কোন পুঁজি নেই। তারা কি করে খাবে। দেশে কর্মেেত্রর চরম সঙ্কট। নতুন করে এই লোকগুলো এসে বেকারত্বের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন যেটা সরকারের করণীয় সেটা হচ্ছে-এই লোকগুলোকে বিকল্প শ্রমবাজারে সরকারী ব্যবস্থাপনায় পাঠানো। বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় পাঠাতে গেলেই আবার লোকগুলো ধার দেনা করবে। কিছু লোক যাতে দেশেই কিছু করতে পারে-সেজন্য তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। কিছু লোককে প্রশিণের মাধ্যমে দ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা ভাল কোন দেশে যেতে পারে। সরকারের একার পে তো এত কাজ করা সম্ভব না। কারণ আমাদের সরকারের সেই মতাও নেই। আমাদের তো জাতীয় আয়ে এই খাতের অবদান মাত্র শতকরা সাড়ে ১১ ভাগ। এ দিয়ে তো আর এ বিশাল জনসংখ্যার সব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়।
ফলে লিবিয়াসহ আরব দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঘটনায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তাই ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে হবে। বাড়াতে হবে কূটনৈতিক তৎপরতা। যে সব দেশে জনশক্তির চাহিদা বেশি সেই সব দেশের চাহিদা অনুযায়ী দ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারী খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রবাসে দেশের মোট জনসংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখ। এর মধ্যে লিবিয়ায় রয়েছে ৬০ থেকে ৮০ হাজার। সংখ্যার দিক থেকে লিবিয়ায় প্রবাসীর সংখ্যা খুব বেশি না। কিন্তু বাহরাইনে রয়েছে এক লাখ ১০/১৫ হাজার। লিবিয়া থেকে রেমিট্রেন্স প্রবাহ খুব বেশি ছিল না। তবে বাহরাইন থেকে রেমিট্রেন্স প্রবাহ বেশি। সেই বাহরাইনে যে অবস্থা চলছে তাতে সেখান থেকেও বহু লোক দেশে ফেরত আসবে। বড় ধরনের সংকটে পড়বে দেশ। হাজার হাজার শ্রমিক শূন্য হাতে লিবিয়া থেকে ফেরত এসেছে। বাহরাইন কিম্বা ইয়েমেন থেকে যদি শ্রমিক এমন শূন্য হাতে ফেরত আসে তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়বে। সেেেত্র দ্রুত নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করে এ শ্রমিকদের ওই নতুন বাজারে পাঠানো জরুরী। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের একটা সুযোগ যেহেতু এসেছে-তাদের সেখানেও পাঠানো যেতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ফান্ড থেকে এসব শ্রমিকদের ঋণ সুবিধা দিতে হবে। দেশে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে আসে। এই লোকগুলোর কর্মসংস্থান করাই সম্ভব হচ্ছে না। সেেেত্র আরব দেশ থেকে লোক ফেরত এলে দেশে বেকারত্ব আরো বেড়ে যাবে।

†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267






0 comments:

Post a Comment