ড.ফোরকান আলী
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে প্রতি বছর দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাগুলো ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়ে থাকে। উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কক্সবাজার, ভোলা, বরগুনা, বরিশাল, শরীয়তপুর, খুলনা, সাতীরা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, পিরোজপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। প্লাবনের ফলে প্রাণহানিসহ তাৎণিক তির তালিকা অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়। প্লাবনে মানুষের প্রাণহানিসহ পশুপাখির ও তি সাধন হয়ে থাকে। এসময় নিখোঁজ হয়ে যায় জেলেসহ আরও অনেক মানুষ। ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়। শুধু এক মৌসুম নয়, আরও বেশ কয়েক মৌসুম ভুগতে হবে কৃষকদের। হাজার হাজার একর চিংড়ি ঘের ভেসে যায়। চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে তিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। অন্যদিকে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে খাদ্য ও পানীয়ের জোগান ছাড়া স্রেফ পানিবন্দি হয়ে পড়ে লাখো মানুষ। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে গৃহহারা হয়ে পড়ে। গৃহহীন মানুষকে সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র বা বেড়িবাঁধে পুনর্বাসন করা হয়। সাগরের লবণাক্ত পানি জনবসতিতে ঢুকে যাওয়ায় পানযোগ্য পানির উৎস সহসা ফুরিয়ে বা সংকুচিত হয়ে পড়ে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দ্রুততম সময়ে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ পৌঁছানো জরুরি হয়ে পড়ে। আমরা আশা করি, সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো এেেত্র দ্রুত তৎপর হয়ে উঠবে। দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছাবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্লাবনের ফলে তাৎণিক তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব অনেক গভীর ও সুদূরপ্রসারী হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, নতুন করে যে ফসলের মাঠে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে তাতে আগামী বছরগুলোতে ফসল উৎপাদন দুরূহ হয়ে উঠে। অর্থাৎ নতুন ও পুরনো মিলিয়ে প্লাবিত ভূমির পরিমাণ কম নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই প্লাবন আমাদের কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করা হচ্ছে। নিম্নচাপ ও প্লাবন আমাদের প্রকৃতিতে নতুন ঘটনা নয়। বরং প্রতিবছর এমন দুর্যোগের মোকাবেলা করেই আমরা অভ্যস্ত। এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি রাখাই রেওয়াজ। অভিযোগ উঠেছে, উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো যথাসময়ে মেরামত ও সংস্কার করা হয়না।এ কারণেই অল্প প্লাবনেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বলা চলে, আমাদের প্রস্তুতিহীনতার কারণেই বিপর্যয় ঘটে। সিডর ও আইলার পর উপকূলের বহু কিলোমিটার বেড়িবাঁধ তিগ্রস্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও এগুলো মেরামত, সংস্কার ও পুনর্র্নিমাণের যথাযথ উদ্যোগ এ পর্যন্ত আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলের মানুষ ও অর্থনীতিকে রা করতে হলে সর্বাগ্রে এই বাঁধ নির্মাণের কথা ভাবতে হবে। শুধু তা-ই নয়, বৈশ্বিক উষ্ণতার পরিপ্রেতি বিবেচনা করে এখনকার বাঁধগুলোকে আরও উঁচু করে নির্মাণ করতে হবে এবং বাঁধে প্রয়োজনীয় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু এ যাবৎ যে খবর উপকূল থেকে মিলেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বাঁধের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়নি। অনেক স্থানে সবুজ বেষ্টনী কেটে ফেলা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থাৎ বাঁধ নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারে গড়িমসি করলে আরও বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় হয়ে জীবন ও ফসলের তি চেয়ে দেখতে হবে। তাই এখনকার দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ মোকাবেলার উদ্যোগগুলোর কথা ভাবতে হবে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment