Monday, December 23, 2013

মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় হুমকি

মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় হুমকি
ড.ফোরকান আলী
এইচআইভি ও এইডস এখন মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় হুমকি। গত শতাব্দীতে সবগুলো যুদ্ধে যত মানুষ মারা গেছে তার চেয়েও অনেক বেশী লোক মারা গেছে এইডস-এ। এইচআইভি ও এইডস, আক্রান্ত মানুষের জীবনে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক বিপর্যয় নিয়ে আসে। সে ও তার পরিবারের লোকজন অপমান, দুর্ব্যবহার, নিন্দা ও বিরূপ সামাজিক অবস্থার শিকার হয়। তাদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে একদিকে যেমন তাদের সহ্য করতে হয় এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার মানসিক ও শারীরিক কষ্ট, অন্যদিকে তেমনি জীবনের প্রতিেেত্র অপমান ও বৈষম্যের মুখোমুখী হতে হয়। তাদের পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখী হয়, বিশেষত যদি আক্রান্ত ব্যক্তিই হয় পরিবারের উপার্জনের উৎস। শিশুরা অনাথ হয়ে পড়ে। এইসব কারণগুলো দেশের সামাজিক ও অর্থনীতির উপর ভয়ানক চাপ সৃষ্টি করে।
এইচআইভি ভাইরাস আবিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত গত বিশ বছরে এইডস-এ প্রায় ৪০ মিলিয়ন লোক মারা গেছে এবং আরও ৩৩ মিলিয়ানেরও বেশী লোক এইচআইভি ও এইডস-এ আক্রান্ত এবং এইচআইভি সংক্রমিতদের প্রায় শতকরা ৫০ ভাগই নারী। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার কম। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এ দেশের জনগণ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। বেকারত্ব, চাকরিহীনতা, শিাগ্রহণের সীমিত সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও সর্বোপরি দারিদ্র্য এই ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের সমাজ জীবনে দৃশ্যত সকল েেত্র নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য এবং অসমতা দেখা যায়।  যৌন স্বাস্থ্য, যৌনজীবন বা জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে নারীদের আলোচনার বা সমঝোতার কোন সুযোগ থাকে না। এমন কি একজন বিবাহিতা নারী, স্বামীর একাধিক যৌনসঙ্গী আছে বা তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত আছেন (যেমন- যৌনকর্মী বা এমএসএম-এর কাছে যাওয়া বা ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা গ্রহণ করা) এসব জানার পরও কনডম ব্যবহারের কথা বলতে পারেন না। নির্যাতন, ধর্ষণ এবং জোরপুর্বক যৌন কাজে লিপ্ত করার ঘটনা নারীদের বিপর্যস্ত করে তোলে যা তাদেরকে যৌনবাহিত রোগ এবং এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার ব্যাপারে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনকে সমাজের অনেকে তাদের ব্যক্তিগত  বিষয় মনে করেন। ফলে এ ধরনের নির্যাতিত নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে বা তাদের সাহায্যে সামাজিক ভাবে এগিয়ে আসার সুযোগও কম থেকে যাচ্ছে। এসব কারণ ছাড়াও কিশোরী ও নারীদের জীবনদতা বৃদ্ধির সুযোগ (যেমন-সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিশ্লেষণমূলক চিন্তায় নিজস্ব দতা) কম থাকার কারণে তাদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশী।  তবে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক তথ্য যতদুর পাওয়া যায় তা সরবরাহের মধ্য দিয়ে জনমানুষকে সচেতন ও তাদের চিন্তাচেতনার পরিবর্তন সাধনের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, আমাদের শিা ব্যবস্থায়ও কিশোর-কিশোরীদের উপযুক্ত জীবনভিত্তিক শিা কার্যক্রম অনুপস্থিত। বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যার কথা এরা কাউকে বলতে পারে না। এদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ব্যবস্থাও খুবই সীমিত। গণমাধ্যমেও এদের জন্য প্রয়োজনীয় জীবনধর্মী তথ্য বা বিনোদনের অভাব রয়েছে। ফলে বাড়ন্ত বয়সে এরা কৌতুহলের বশে স্বভাবতই নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছে বা জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার মধ্যে আছে। এইচআইভি’র ঝুঁকি কমাতে হলে আমাদের এদের কথাও ভাবতে হবে। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন আপনার, আমার এবং আমাদের সকলের এক সাথে এইচআইভি প্রতিরোধে কাজ করা।
এইডস শুধু দেশ ও পারিবারিক সম্পদের বিনাশ করে না বরং এটা সামাজিক কাঠামো, আক্রান্তদের জীবন, তাদের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের ওপরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে থাকে। সঠিক তথ্য, উদার মনোভাব ও সহানুভূতি থাকলে সমাজের সকল স্তরের মানুষ এইচআইভি’র বিস্তার বন্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে। এইডস পদমর্যাদা, আয়, শিা, ধর্ম এসব কিছুরই সীমা বা গন্ডি মানে না। বর্তমান বিশ্বে এটা সবার জন্য সমান হুমকি স্বরূপ। সুতরাং আসুন এইচআইভি প্রতিরোধে আমরা সকলে একসাথে উদ্যোগী হই।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment