Monday, December 23, 2013

পাট খাতের সংকট দূর করুন

পাট খাতের সংকট দূর করুন
ড.ফোরকান আলী
এবার দেশে ল্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয়েছে। সারা দেশের কৃষকরা পাট বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছেন। অন্যদিকে আনন্দের বিষয় যেÑ ইতিপূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু পাটকল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন ফিরে আসায় কৃষকের মুখে যেমন হাসি ফুটতে শুরু করেছে, তেমনি উদ্ধার হচ্ছে ব্যাপক রপ্তানিমুখী এ খাতের হৃত গৌরব। কিন্তু সম্প্রতি একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে পাট নিয়ে দুটি রিপোর্টে যে সমস্যার কথা প্রকাশিত হয়েছে তার ত্বরিত সমাধান না হলে এই খাতটি আবারো সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি হচ্ছেÑ মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে আন্দোলন দানা বাঁধছে। অন্যটিÑ প্রয়োজনীয় পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছে না দণি-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা। বলার অপো রাখে নাÑ সমস্যা দুটির খুব শিগগিরই সমাধান প্রয়োজন।  
রাষ্ট্রায়ত্ত ৭ পাটকল শ্রমিকদের দাবিÑ ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, সেটআপ সংশোধন করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, বন্ধ মিলগুলো দ্রুত চালু, ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার বকেয়া প্রদান। এছাড়া বিজেএমসির মতো পাটকলগুলোর কর্মচারীদের জন্যও এলপিআর সুবিধা প্রদান। উল্লিখিত দাবিগুলো যথেষ্ট যাচাই-বাছাই পূর্বক কর্তৃপরে আমলে নিতে হবে অবশ্যই। এই খাতের উন্নতির বিষয়টি শ্রমিক-কর্মচারীদের ভাগ্যোন্নয়নের চিন্তা ব্যতিরেকে করার কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে দেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা প্রয়োজনীয় পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারার কারণে তাদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে হতাশা। কেউ কেউ চড়া দামে পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পাটের উৎপাদন মূল্য যে হারে বেড়ে যাচ্ছে তাতে তারা আশঙ্কা করছেন পাট চাষের মূলধন ফিরে না আসার। অনেকেই েেতর পাশে পাট ¯তূপ করে রাখছেন। বৃষ্টির জন্য অপো করে তারা পাট কাটতে একরকম বাধ্যই হচ্ছেন। কারণ পাট কাটার অব্যবহিত পরেই রোপা-আমন চাষের তোড়জোড় শুরু হবে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প থেকে কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পদ্ধতিটি হচ্ছেÑ ১ মিটার গভীর, ২ মিটার চওড়া ও ৩ মিটার লম্বা সাইজের একটি চৌবাচ্চার পানিতে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিতে হবে। তারপর খড়কুটা ও আবর্জনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির পাট পচানো যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছেÑ পদ্ধতিটি তো কৃষকদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। এ জন্য তাদের প্রশিণ দেয়া দরকার।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এবার ভরা বর্ষাকালেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এজন্য পাট পচানোর কৃত্রিম পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দিতে হবে কৃষকদের। না হলে তারা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। বলা বাহুল্য, পাটশিল্পের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি গবেষণার মাধমে পাটের জিন ও জন্ম রহস্য উন্মোচনে যে সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ তাতে এই খাতটির সম্ভাবনার দ্বার নতুনভাবে অবারিত হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যে সরকারি খাতের বন্ধ হয়ে যাওয়া কমপে ৫টি পাটকল চালু হচ্ছে শিগগিরই এবং আরো কিছু পাটকল চালু হওয়ার অপোয়। এসবই এই খাতের জন্য উজ্জ্বলতম দিক। আমাদের দেশসহ বিশ্বব্যাপীই স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ পরিবেশ সচেতনতা অনেক বাড়ছে। প্লাস্টিক ও সিনথেটিক জাতীয় পণ্যের বিপরীতে পাটজাত পণ্যের চাহিদা তাই বিশ্বব্যাপীই ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যপণ্য বহনে বিশ্বজুড়েই চটের ব্যাগ বা বস্তার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক বাইপ্রোডাক্ট হিসেবেও দিন দিন পাটের ব্যবহার বাড়ছে। আমরা মনে করি, পাটের যে নব উন্নয়ন শুরু হয়েছেÑ তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে সরকারের সুষ্ঠু পৃষ্ঠপোষকতার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। এই নবজাগরণকে উচ্চে তুলে ধরতে কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করে তোলাসহ সরকারিভাবে এর সংকটগুলো সমাধান করতে হবে। অবিলম্বে খুলনার আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হোক। অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম উপায়ে পাট পচানো সংক্রান্ত পদ্ধতিটি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলা হোক।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267


0 comments:

Post a Comment