Tuesday, December 24, 2013

খাদ্য পণ্যঃ কৃষিতে উন্নয়ন হলেও উপখাতগুলো পিছিয়ে

খাদ্য পণ্যঃ কৃষিতে উন্নয়ন হলেও উপখাতগুলো পিছিয়ে
ড. ফোরকান আলী
খাদ্য পণ্যে নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী। শুরু হয়েছে আমাদের দেশেও। কারন আর্ন্তজাতিক বাজারে খাদ্য পণ্য মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ওই সঙ্গে দাম বাড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ফাওয়ের হিসাবে গত আগষ্ট মাসে বিশ্ব বাজারে খাদ্যমূল্য ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফাওয়ের তথ্যে প্রকাশ, গত জুলাই মাসে বিশ্ব বাজারে গমের মূল্য ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ ও ভুট্টার মূল্য ৪০ শতাংশ এবং চালের মূল্য বেড়েছে ৭ শতাংশ। জুলাই ও আগষ্ট মাসে গমের মূল্য আফগানিস্তানে ২৪ শতাংশ, মঙ্গোলিয়ায় ২৩ শতাংশ, তাজিকিস্তানে ২২ শতাংশ, বাংলাদেশে ২১ শতাংশ, কিরকিস্তানে ১৯ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৮ শতাংশ বেড়েছে। ফাও তথ্যে জানায়, বিশ্ব বাজারে খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ৭৭ নিম্ন আয়ের দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে দুই হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৯-১০ অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরে আমদানি ব্যয় ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাকিস্তান, চীন, জার্মান ও কানাডায় বন্যার কারণে খাদ্য বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। খরার কারণে রাশিয়ায় খাদ্য দ্রব্য রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে মোজ্জাম্বিকে দাঙ্গা শুরু হয়েছে। খাদ্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন সাধারণ মানুষ মোজাম্বিকে মারা গেছে। সামনের দিনগুলোতে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য মূল্য বৃদ্ধিতে অস্থিরতার আশঙ্কায় সম্প্রতি রোমে খাদ্য মূল্য নিয়ে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সঙ্কটের কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে খাদ্য দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। সঙ্কট না থাকলেও বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। একই হারে বেড়ে চলছে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম। মূল্য বৃদ্ধির বেপরোয়া মনোভাবের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)। বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্য বৃদ্ধির উদ্বেগ নিয়ে ইতোমধ্যে ফাও তার ৭৫ সদস্যকে নিয়ে রোমে জরুরী বৈঠক করে। এদিকে, মূল্য বৃদ্ধির ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিলেও বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুবই সামান্য। উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে খাদ্য নিরাপত্তা মোকাবেলা করতে বড় ধরণের কোন প্রস্তুুতি নেয়া হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের হাতে খাদ্য মজুদ রয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। পনেরো কোটি মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সময়ে মজুদের দরকার কমপে ১১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সম্প্রতি ওইসব দেশ প্রতি মেট্রিক টন চালে ১শ মার্কিন ডলার মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়েছে। বর্ধিত মূল্যে চাল আমদানি করা হলে প্রতি কেজি চালের মূল্য হবে ৫৫ টাকার উপরে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের মূল্য বেড়েই চলছে। এক বছরে খুচরা বাজারে ৫০ শতাংশ মূল্য বেড়েছে। প্রতিদিন সকল পণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছে। কারণ, মানুষের আয়ের ৬৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে খাদ্যপণ্যের পেছনে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নিত্যপণ্যের দাম বিশেষ করে চালের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে আগামীতে মূল্যস্ফীতির চাপে নতজানু হবে গরীব মানুষ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্য বাড়ে ৬.৪৫ শতাংশ এবং গত এক বছরে মূল্য বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এই সময়ে দাম বেড়েছে মাঝারী চালের ২.৮২ শতাংশ ও সরু চাল ৫.০৬ শতাংশ। গমের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এক মাসের ব্যবধানে আটার কেজিতে ১৮.৮৭ শতাংশ ও ময়দার কেজিতে ৪.৪৮ শতাংশ মূল্য বেড়েছে। এক মাসে সয়াবিনের কেজিতে ৬.৭৯ শতাংশ ও পামতেলের কেজিতে ১০.৬৭ শতাংশ, মশুর ডাল ২.৮৭ শতাংশ দাম বেড়েছে। বাজারে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ছে। মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিম্ম, মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষের মধ্যে বেশি আঘাত হেনেছে। কারণ এই শ্রেনীর মানুষের মোট আয়ের ৬৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে খাদ্য দ্রব্যের পিছনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমান চালের মজুদ হচ্ছে ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। চলতি বাজেটে সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখে। ওই বরাদ্দ থেকে ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। থাইল্যান্ড থেকে অন্যান্য দেশে চাল থাকলেও তা হচ্ছে আতপ চাল। কিন্তু ভারত ও ভিয়েতনামে সিদ্ধ চাল পাওয়া যায়। যা বাংলাদেশের জন্য উপযোগি। কিন্তু সম্প্রতি ওই দুইটি দেশ প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য একশ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি করে। বোরো মৌসুমে ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহের কথা থাকলে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। চালের মজুদ সরকারের হাতে না থাকলেও বেসরকারী ভাবে কৃষক, মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের হাতে মজুদ রয়েছে। ওই মজুদ প্রক্রিয়া আর্ন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য প্রাপ্তির দিক থেকে সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে মূল্য বাড়তির দিকে যাচ্ছে। এতে অপোকৃত কম আয়ের দেশগুলো সমস্যায় পড়বে। বর্তমানে আমাদের দেশে খাদ্য মজুদ প্রয়োজন ১৩ থেকে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু মজুদ আছে অর্ধেকের কম। এ বছর খাদ্য সংগ্রহ কম হয়েছে। এ থেকে আমাদের সাবধান হওয়া দরকার। এই সময়ে আমদানি বাড়াতে হবে। মূল্য সহনীয় রাখতে এখন থেকে একটি পরিকল্পনা করা দরকার। মূল্য সহনীয় রাখতে ওএমএস কর্মসূচি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচি গ্রহণ করতে হবে। যাতে কম মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষ খাদ্য সুবিধা পায়। কম আয়ের মানুষকে খাদ্য প্রাপ্তির ব্যাপারে নিশ্চিত করতে হবে। চাল ও গম নিয়ে কেউ সিন্ডিকেট করতে না পারে সরকারকে সে ব্যাপারে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে। সবকিছুতে সরকারের নজরদারী বাড়াতে হবে। সরকারের উদ্যোগ মিয়ানমার থেকে ইতোমধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন চাল দেশে আসছে। ভারত থেকে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল আনা হয়েছে। খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলা করতে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গম কিনছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৪২ লাখ ১১ হাজার টাকা।  আশার কথা, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর নীতি ও খাদ্য নীতিতে পরিবর্তন আনছে সরকার। সার ও ডিজেলে ভর্তুকি দেয়ার পর তাই আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রপাতিও শুল্কমুক্ত রাখার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ সুলভে পৌঁছে দিতে ৯ বছর আগে জারিকৃত নির্বাহী অধ্যাদেশ (এসআরও) এবার পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জমি চাষে ব্যবহৃত কৃষি আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির বর্তমান শুল্কহার মওকুফ করলে রাজস্ব কার্যক্রমে কতটা প্রভাব পড়বে, তা চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপরে কাছে জানতে চেয়েছে এনবিআর। এদিকে চাষযোগ্য পতিত জমি চাষের আওতায় এনে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টন ধান উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও নিচ্ছে সরকার। উৎপাদিত এ শস্য দূুর্যোগকালীন সময়ের জন্য সংরণ করতে ৬টি বিভাগীয় শহরে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে অর্ধশত খাদ্য গুদাম। দেশের সব বিভাগীয় কৃষি ও খাদ্য অফিস থেকে এজন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। আবার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বন্দরে ভোগ্যপণ্য আসার পর মালামাল খালাস করতে আমদানিকারকদের ন্যূনতম সময়সীমা বেঁধে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। বিবেচনা করা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯ ধরনের পণ্যে ব্যাংক ঋণের বর্তমান সুদের হার পুনঃনির্ধারণের বিষয়টিও। উল্লেখ্য, ৩ মাসের নির্ধারিত সময়সীমায় ঋণ পরিশোধ করলে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকদের এখন ১২ শতাংশ সুদ গুণতে হচ্ছে। এরপর এ সুদের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত। খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাষযোগ্য সব জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবো আমরা। দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপান সরকারের সহায়তায় ২১০ কোটি টাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণ করা হচ্ছে খাদ্য গুদাম। পাশাপাশি আমদানিকৃত পণ্যে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিতে প্রয়োজনে ব্যাংকঋণসহ যাবতীয় বিষয় পুনঃবিবেচনা করা হবে। বিনিময়ে তাদের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম অযোক্তিকভাবে না বাড়ানোর নিশ্চয়তা চাইবো আমরা।’ মন্ত্রী, খাদ্য নীতিতে কৌশলগত আরও পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেন। এদিকে কর নীতি পরিবর্তনের আভাস দিয়ে আভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বন্দরে আসা ভোগ্যপণ্য ন্যূনতম সময়ের মধ্যে খালাস করতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হতে পারে। আবার কৃষকদের উৎসাহীত করতে প্রয়োজনে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির উপরও সব বিধি নিষেধ তুলে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। এজন্য ব্যবসায়ী ও কাষ্টম কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় হয়েছে। এছাড়া সরকারের বর্তমান সময়ে যত অর্জন তার মধ্যেই কৃষিত্রেটিই অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিচ্ছে। বর্তমান মহাজোট সরকার নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহারে যে যে দিকগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় করণীয় হিসেবে জনগণের সামনে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম খাত ছিল কৃষি। এটি অত্যান্ত আশার কথা যে, অনেক আগে থেকেই বর্তমান সরকার কৃষিেেত্র আমূল পরিবর্তনের ল্েয কাজ করছে। কৃষকের দুর্ভোগ লাঘব করা থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন অনুকূল করা, কৃষকের পণ্য বিপণনের একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করে, কৃষির প্রধান প্রধান উপকরণগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দেয়ার বিষয়গুলো সরকার বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছিল। যার কার্যকর বাস্তবায়ন ঘটে সরকারের দায়িত্বগ্রহণের পরপরই অর্থাৎ সরকার প্রথম সপ্তাহের কর্মদিবসের মধ্যেই নন ইউরিয়া সারের দাম এক ধাক্কায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে। কমিয়ে দেয় ডিজেলের দাম। আবার গত নভেম্বরে আরেক দফা কমায় নন ইউরিয়া সারের দাম। শুধু তা-ই নয়, সার ডিলার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সরকার সার বিক্রয় প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছে। যা সরকারের গৃহিত পরিকল্পনার একটি। অবশ্য ইউরিয়ার দাম কমানো নিয়ে কৃষকের দীর্ঘদিনের আবেদন নিবেদন রয়েছে। নন ইউরিয়ার দাম দৃষ্টান্তমূলকভাবে কমানোর কারণে ইউরিয়ার মূল্য খুব বেশি মাথা ব্যথার কারণ হয়নি কৃষকদের কাছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সরকারি গুদামে ১২ লাখ টন খাদ্য মজুত ছিল। তার পরবর্তীতে অনেক প্রতিবন্ধকতার ভেতরও বিগত বোরো ও সদ্য শেষ হওয়া আমন মৌসুমে উৎপাদন ল্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৩ কোটি ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। গেল আমন মৌসুমের শুরুতে সারাদেশ পুড়ছিল অনাবৃষ্টিতে। খরায় আগাম আউশ মৌসুমের ফলন চরমভাবে ব্যাহত হয়। সরকারি বে-সরকারি হিসেবে প্রায় ১০ লাখ টন ফসলহানী ঘটেছে ওই সময়ে। একইভাবে বিঘœ ঘটেছে আমন রোপণেও। কিন্তু দেখা যায়, সারের যোগান ঠিকমত থাকায় সকল শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে আমন মৌসুমের উৎপাদন ল্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সরকারি হিসেবে এবার আমনে ১ কোটি ৩১ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে গত আউশ মৌসুমের ঘাটতিও পুষিয়ে গেছে। সরকার খাদ্য উৎপাদনের প্রশ্নে বা মূল কৃষিতে যে সাফল্যের নজির সৃষ্টি করেছে কৃষির উপখাতগুলোতে যেমনÑ মৎস্য, পশুসম্পদ ও পোল্ট্রি সেক্টরের জন্য তেমন দৃষ্টান্তমূলক উন্নয়নের নজির সৃষ্টি করেনি। একই সঙ্গে এর আগে ডিম আমদানির সিদ্ধান্তে যেভাবে বেকায়দায় পড়েছিলেন খামারিরা একইভাবে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন আলু চাষিরা। কৃষিেেত্রর উন্নয়ন বা অগ্রগতিতে কৃষক পর্যায়ে ঋণ ব্যবস্থা সুগম করার েেত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রসংশনীয়। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির পুনঃজাগরণ ঘটাতে এই প্রথম প্রত্যন্ত গ্রামে চলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮৩ জন সহকারি পরিচালককে নিয়ে গঠিত ৩৫টি টিম কাজ করছে কৃষকের জন্য যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রান্তজনের অর্থনৈতিক দতা ও আন্তরিকতার প্রতিফলন। কৃষিেেত্র সরকারের নানামুখি তৎপরতার পরও ভোক্তারা সবেেত্র এর সুফল পায়নি। বাজারে আকস্মিকভাবে চালের দাম বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বারবারই বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু কার্যত কৃষক এবং ভোক্তা উভয়ের জন্য অনুকূল একটি বাজার কাঠামো তৈরিতে সরকারের ব্যর্থতাই সূচিত হয়েছে। কৃষি উন্নয়নের অংশ হিসেবেই সরকারের প্রতিশ্র“তি ছিল কৃষক একটি অনুকূল বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য যাতে পায় সেটি নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনেেত্রই সরকারের এ প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছরের আগস্ট মাসে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খোদ খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কৃষককে পণ্য পরিবহনের েেত্র বহু স্থানে চাঁদা দিতে হয়। বহুবার হাতবদল ও চাঁদাবাজির কারণেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত এ অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। এখনও গ্রামের ুদ্র পর্যায়ের চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্য তে থেকেই কিংবা নিকটতম বাজারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। মধ্যস্বত্বভোগীর বলয় ভেঙ্গে তারা বের হতে পারেনি। বর্তমানে বিতরণকৃত কৃষিঋণ কৃষককে ফসল ফলাতে উদ্বুদ্ধ করবে। উৎপাদিত কৃষি পণ্যে যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় তারও বাজার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। তবে সরকারের বর্তমান কৃষিতে উন্নয়ন সূচিত হলেও উপখাতগুলো রয়েছে অনেক অনেক পিছিয়ে। আমরা আশাকরি সরকার খাদ্য পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।                           
†jLK : M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
          36 MMb evey †ivo,Lyjbv-9100
‡gvevBj:01711579267
                                                                                                                                                   fourkanali@yahoo.com


0 comments:

Post a Comment