দণি পশ্চিমাঞ্চল থেকে নানা প্রজাতির পাখি বিলীন হচ্ছে
ড.ফোরকান আলী
প্রতিকূল পরিবেশ, আবাসস্থল সঙ্কুচিত ও অবাধ শিকারের ফলে দেশের দণি-পশ্চিমা-ঞ্চলের জেলাগুলো থেকে অনেক প্রজাতির পাখি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নিকট অতীতেও ভোরে ঘুঘুর মিষ্টি ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো। ঘুঘুর অনেক প্রজাতির মধ্যে অন্যতম হড়িয়াল। হড়িয়াল দেখতে ছিল ভারী সুন্দর। হড়িয়ালের মাংস সুস্বাদু ছিল বলে শিকারীদের প্রধান টার্গেটে পড়ে এই প্রজাতির ঘুঘু। অতি শিকারের ফলে এখন আর নজরে পড়ে না হড়িয়াল। অন্য প্রজাতির ঘুঘুগুলোও বিলীনের পথে। একইভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বক। ঝাঁক বেঁধে বকের আকাশে উড়ার অপূর্ব দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। ফাঁদ পেতে ও এয়ারগান দিয়ে বক শিকার চলে। ফলে বকের সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। বিল-বাঁওড়ের ধারে কিংবা পুকুর পাড়ে আগের দিনে মাছরাঙা পাখির মাছ ধরার আকর্ষণীয় দৃশ্য নজরে পড়তো। শিকারের পর গাছের ডালে বসে মাছরাঙা শিকার করা মাছ খেত। এখন মাছ রাঙার সংখ্যাও একেবারে নগণ্য হয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পানকৌড়ি নাম অনেক গল্প-গানে আছে। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ শিকার কারে খেত পানকৌড়ি। শিকারীদের হাত থেকে এরও রা হচ্ছে না। এ প্রজাতির পাখিও নিঃশেষ হতে চলেছে। বাবুই পাখি বাংলা সাহিত্যে অনেক গল্প-কবিতায় স্থান পেয়েছে। উঁচু তাল বা নারিকেল গাছে বাবুই পাখি বাসা বুনতো। তাদের শৈল্পিক বাসা মানুষের নজর কাড়তো। এই ছোট্ট আকারের পাখিগুলোও দিনে দিনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। শিকারীরা জাল পেতে বাবুই ধরে উদরপূর্তি করতো। আর এ কারণে বাবুই হারিয়ে যেতে বসেছে। আবহমান বাংলায় কোকিলের কুহুতান বসন্তের আগমন বার্তা বয়ে আনে। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই কুহুতান এখন আর শোনা যায় না। শকুনকে বলা হতো প্রকৃতির সুইপার। শকুনের প্রধান খাদ্য ছিল গ্রামের ভাগাড়ে ফেলে দেয়া মৃত গরু-মহিশসহ বিভিন্ন পশু। সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন মৃত প্রাণী ভাগাড়ে রাখা হয় না। মাটি চাপা দেয়া হয়। খাবারের অভাবে এ অঞ্চলের শকুন হারিয়ে গেছে। একইভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সাহেব বুলবুলি, টিয়ে, শালিক, ময়না, কাটঠুকরা, চিল, ঝুটকুলি প্রভৃতি পাখির প্রজাতি। শিকার ছাড়াও বন-জঙ্গল কমে আসায় পাখির আবাসস্থল সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। খাবারের অভাবও আছে। পাখির প্রধান খাবার ছিল বনের ফলমূল। এখন তা নেই বললেই চলে। কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে প্রাণী বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। দেশীয় পাখি ছাড়াও প্রতি শীত মওসুমে ভিন দেশ থেকে অতিথি পাখির আগমন ঘটতো এ অঞ্চলে। বিশেষ করে আমন ও বোরো মওসুমে মাঠে মাঠে অতিথি পাখির আগমন ঘটতো ঝাঁকে ঝাঁকে। পাঁচ-ছয় মাস নিরাপদ আশ্রয়ে কাটানোর পর তারা ফিরে যেতো স্বদেশে। দেশের হাওর-বাঁওড়গুলোও ছিল এসব অতিথি পাখির অস্থায়ী আবাসস্থল। কিন্তু জলাশয় কমে যাওয়া ও শিকারীদের অত্যাচারে অতিথি পাখির আগমনও বহুলাংশে কমে গেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে যে কোন পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইন থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগ নেই বললেই চলে। এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনদেরও শিকারীদের কাছ থেকে পাখি কিনে মাংস খেতে দেয়া যায়।আসুন আমরা পাখিদের সংরণে সক্রিয় হই।
ড.ফোরকান আলী
প্রতিকূল পরিবেশ, আবাসস্থল সঙ্কুচিত ও অবাধ শিকারের ফলে দেশের দণি-পশ্চিমা-ঞ্চলের জেলাগুলো থেকে অনেক প্রজাতির পাখি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নিকট অতীতেও ভোরে ঘুঘুর মিষ্টি ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো। ঘুঘুর অনেক প্রজাতির মধ্যে অন্যতম হড়িয়াল। হড়িয়াল দেখতে ছিল ভারী সুন্দর। হড়িয়ালের মাংস সুস্বাদু ছিল বলে শিকারীদের প্রধান টার্গেটে পড়ে এই প্রজাতির ঘুঘু। অতি শিকারের ফলে এখন আর নজরে পড়ে না হড়িয়াল। অন্য প্রজাতির ঘুঘুগুলোও বিলীনের পথে। একইভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বক। ঝাঁক বেঁধে বকের আকাশে উড়ার অপূর্ব দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। ফাঁদ পেতে ও এয়ারগান দিয়ে বক শিকার চলে। ফলে বকের সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। বিল-বাঁওড়ের ধারে কিংবা পুকুর পাড়ে আগের দিনে মাছরাঙা পাখির মাছ ধরার আকর্ষণীয় দৃশ্য নজরে পড়তো। শিকারের পর গাছের ডালে বসে মাছরাঙা শিকার করা মাছ খেত। এখন মাছ রাঙার সংখ্যাও একেবারে নগণ্য হয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পানকৌড়ি নাম অনেক গল্প-গানে আছে। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ শিকার কারে খেত পানকৌড়ি। শিকারীদের হাত থেকে এরও রা হচ্ছে না। এ প্রজাতির পাখিও নিঃশেষ হতে চলেছে। বাবুই পাখি বাংলা সাহিত্যে অনেক গল্প-কবিতায় স্থান পেয়েছে। উঁচু তাল বা নারিকেল গাছে বাবুই পাখি বাসা বুনতো। তাদের শৈল্পিক বাসা মানুষের নজর কাড়তো। এই ছোট্ট আকারের পাখিগুলোও দিনে দিনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। শিকারীরা জাল পেতে বাবুই ধরে উদরপূর্তি করতো। আর এ কারণে বাবুই হারিয়ে যেতে বসেছে। আবহমান বাংলায় কোকিলের কুহুতান বসন্তের আগমন বার্তা বয়ে আনে। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই কুহুতান এখন আর শোনা যায় না। শকুনকে বলা হতো প্রকৃতির সুইপার। শকুনের প্রধান খাদ্য ছিল গ্রামের ভাগাড়ে ফেলে দেয়া মৃত গরু-মহিশসহ বিভিন্ন পশু। সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন মৃত প্রাণী ভাগাড়ে রাখা হয় না। মাটি চাপা দেয়া হয়। খাবারের অভাবে এ অঞ্চলের শকুন হারিয়ে গেছে। একইভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সাহেব বুলবুলি, টিয়ে, শালিক, ময়না, কাটঠুকরা, চিল, ঝুটকুলি প্রভৃতি পাখির প্রজাতি। শিকার ছাড়াও বন-জঙ্গল কমে আসায় পাখির আবাসস্থল সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। খাবারের অভাবও আছে। পাখির প্রধান খাবার ছিল বনের ফলমূল। এখন তা নেই বললেই চলে। কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে প্রাণী বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। দেশীয় পাখি ছাড়াও প্রতি শীত মওসুমে ভিন দেশ থেকে অতিথি পাখির আগমন ঘটতো এ অঞ্চলে। বিশেষ করে আমন ও বোরো মওসুমে মাঠে মাঠে অতিথি পাখির আগমন ঘটতো ঝাঁকে ঝাঁকে। পাঁচ-ছয় মাস নিরাপদ আশ্রয়ে কাটানোর পর তারা ফিরে যেতো স্বদেশে। দেশের হাওর-বাঁওড়গুলোও ছিল এসব অতিথি পাখির অস্থায়ী আবাসস্থল। কিন্তু জলাশয় কমে যাওয়া ও শিকারীদের অত্যাচারে অতিথি পাখির আগমনও বহুলাংশে কমে গেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে যে কোন পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইন থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগ নেই বললেই চলে। এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনদেরও শিকারীদের কাছ থেকে পাখি কিনে মাংস খেতে দেয়া যায়।আসুন আমরা পাখিদের সংরণে সক্রিয় হই।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment