ড.ফোরকান আলী
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে দিনকে দিন জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। যা মনুষ্য সভ্যতার জন্য মারাত্মক তিকর দিক। কেননা, মানুষের জীবন-ধারণের জন্য চাই সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ। আর পরিবেশকে সর্বতোভাবে রা করে জীববৈচিত্র্য। যার মধ্যে রয়েছে গাছপালা, পশুপাখি, জীবজন্তু, পোকা-মাকড়Ñএক কথায় সৃষ্টির যাবতীয় কিছু। এর নির্দিষ্ট পরিমাণ উপস্থিতি পরিবেশ বান্ধব। অন্যথায় নিদারুন সংকট। এমনকি জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত। তাই আজকাল বিশেষ করে সংরণবাদী বা জীববিজ্ঞানীরা পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে বড়ই চিন্তিত। কারণ নানা কারণে পৃথিবী থেকে প্রাণিকুলের একটি বিরাট অংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। আরো একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রীতিমতো হুমকির মুখে। মানুষের সচেতনতার অভাবে হয়তো অচিরেই তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। একদল গবেষক সম্প্রতি এ সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের ২৫ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে।দশকব্যাপী ব্যাপক গবেষণা শেষে দ্য রেডলিস্ট অব থ্রেটেন্ড স্পেসিজ নামক একটি সংরণবাদী সংস্থা সায়েন্স জার্নালে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে- আবাসন সংকটের ফলে ২৫ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্বিতীয় কারণÑ শিকারীদের লোলুপদৃষ্টি, খাদ্যাভাব এবং চিকিৎসার ওষুধ স্বল্পতায়, ত্রেবিশেষে চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকা। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে চলতি বছর রেডলিস্ট ৫৪৮৭টি স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর পর্যবেণ করে। এর মধ্যে ১১৪১ প্রাণী ঝুঁকিতে। তবে আশার বাণীও শুনিয়েছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, আফ্রিকা অঞ্চলে হাতি বিলুপ্তির ধারা অনেকাংশে কমেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে – সংরণ কর্মসূচির কঠোরভাবে পালন ও শিকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আফ্রিকার দণি ও পূর্বাঞ্চলে হাতি সংরণে আশাব্যঞ্জক সাফল্য এসেছে। তবে গবেষকরা এশীয় অঞ্চলের স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্তির ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, দণি ও দণি-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জীবনমানের অবনতি হয়েছে। আর একই কারণে ঐ অঞ্চলে স্তন্যপায়ী বিলুপ্তির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষকদের মতে, এশীয় অঞ্চলে স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকি ৪০ ভাগ। ইন্টারন্যাশনাল কনজারভেশন অব ন্যাচার-এর (আইইউসিএন) ডিরেক্টর জেনারেল জুলিয়া মাটন বলেন, আমাদের নিজেদের কার্য-কারণেই হাজার হাজার প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত এ ধারা প্রতিহত করা। আমাদের সকলের উচিত অন্তত এটা নিশ্চিত করা যে, যেন ব্যক্তিগত কারণে কোন প্রাণী হুমকির মুখে না পড়ে।
আইইউসিএন-এর স্টোসিজ প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর জ্যাঁ ব্রিস্টোফি বলেন, বিশ্বে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট চলছে। তবে এজন্য প্রাণী বিলুপ্তি ঘটবে এমনটি মেনে নেয়া যায় না। কারণ অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে পরিবেশগত সংকটের তুলনা চলে না। কারণ অর্থনৈতিক সংকটে অল্পসংখ্যক মানুষ তিগ্রস্থ হয়ে থাকে। অথচ বর্তমান বিশ্বের সর্বত্রই দেখা দিয়েছে পরিবেশগত সংকটের। এতে তিগ্রস্থ হচ্ছে গোটা বিশ্ববাসী। বিশেষ করে স্থলভাগে বসবাসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে। যা কোন হিসেবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই সবার উচিত এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া। তা না হলে অচিরেই মনুষ্য জাতিকে এক অপ্রত্যাশিত পরিণতির শিকার হতে হবে।সূত্র: বিবিসি ওয়েবসাইট
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment