হরিণ নিধন বন্ধ করা প্রয়োজন
ড.ফোরকান আলী
বছরজুড়ে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে যে হরিণ নিধন হয় সে নিধনযজ্ঞের সিংহভাগই ঘটে রাস মেলার পূণ্য স্নানের সময়। রাস মেলার সময় সুন্দরবনে যে সহস্রাধিক হরিণ নিধন হয় তার মধ্যে অনেকগুলো গর্ভবতী থাকে বলে একধিক সূত্রে জানা গেছে। বন বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশ ও দায়িত্বহীনতার সুযোগে হরিণ নিধনযজ্ঞসহ সুন্দরবন উজাড়ের সকল অপকর্ম নির্বিঘেœ চালানো হচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে চারদিন ব্যাপী এ মেলা সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোর কোলে অনুষ্ঠিত হয়। চোরা শিকারীরা মেলার সময়কে হরিণ নিধনের মোম সুযোগ হিসেবে বেছে নেয়। নির্ভরযোগ্য ও প্রত্যদর্শীর সূত্র মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও হরিণ নিধন উৎসবে মেতে ওঠার জন্যে অÍতঃ ৫০টি গ্র“প সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাস মেলা শুরু হবার ১০/১২ দিন আগেই তারামেলা ও আশপাশের বন এলাকায় গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। ১০/১২টি করে ট্রলার থাকে প্রতিগ্র“পে। প্রতি ট্রলারে ১৫ থেকে ২০জন শিকারী থাকে। তারা হরিণ ধরার ফাঁদ পাতার জন্যে প্লাষ্টিকের কর্ড এবং প্রয়োজনীয় দা, কুড়াল, ছুরি এবং গাছ কাটার করাত সাথে নিয়ে যায়।
অথচ এক সময়ে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের গহীন বনাঞ্চলে নির্বিঘেœ বিচরন করতো মায়াবি মায়া হরিণ। সুন্দবনের অপর সৌন্দর্যের প্রধানতম আকর্ষণই ছিল চিত্রা হরিণ। কিন্তু এখন আর সেই আগের পরিবেশ নেই। সময় বদলানোর সঙ্গে দিনবদলের পালা বদলের মতো উজাড় হচ্ছে সুন্দবনের গাছগাছালি। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে মায়া হরিণের জীবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একশ্রেণীর মানুষরূপী হায়েনাদের শিকার মানসিকতা। হরিণের মাংস, চামড়া এবং শিং বিক্রি করে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। এ ব্যাপারে তারা কখনো বাধার সম্মুখনি হয় না। জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলোতে হরিণের মাংস ব্যবাসয়ীরা শিকারীদের অগ্রিম দাদন দিয়া থাকে। সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে এবং পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতীরা রেঞ্জের বিশেষ কযেকটি স্থানে শিকারীরা চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে হরিণ শিকার করেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় চোরা শিকারীরা ফাঁদ পেতে, খাদ্যের সাথে বিষাক্ত দ্রব্য খাওয়ায়ে এবং গুলি করে হরিণ শিকার করে। চোরাশিকারীরা হরিণ শিকার করার পর ঘটনাস্থলে জবাই করে চামড়া ছিলে লোকালয়ে মাংশ নিয়ে আসে। অবস্থা ভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এমনকি কোন কোন সময় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করে থাকে। মাংস বিক্রির েেত্র গোপনীয়তা লা করা হয়। অপরিচিতদের কাছে মাংস বিক্রি করা হয় না। তাদের পছন্দের লোকদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়ে থাকে। হরিণের প্রতিটি চামড়া ৩হাজার টাকা থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখ যায়। হরিণের শিং বিক্রি হয় আকার ভেদে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, চোরা শিকারীদের সপ্তাহে কমপে ৭/৮ টি করে হরিণ শিকার করে। শিকারীরা এলাকার বাইরে বিক্রি করার জন্য হরিণ শিকার করে। কিন্তু অনেক সময় বাইরে নিয়ে যেতে না পারায় এলাকায় জবাই করে মাংস বিক্রি করার সময় ধরা পড়ে। বেশিরভাগ েেত্র দেখা গেছে, বিক্রির খবর বন বিভাগের কাছে অনেক দেরিতে পৌঁছায়। ফলে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২/১ কেজি মাংস ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারে না। যদিও ২/১ জন শিকারী ধরা পড়ে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তারা আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বাহির হয়ে আসে।
হরিণের মধ্যে চিত্রা প্রজাতির হরিণ দেখতে খুবই সুন্দর। এদের সারা শরীরে উজ্জ্বল লালচে-বাদামি রংয়ের উপর সাদা কালো গোলাকার দাগ আছে। পুরুষ চিত্রার এক জোড়া শাখা-প্রশাখাযুক্ত শিং থাকে। ঐ শিং দোলায়ে মোহনীয় ভঙ্গিমায় পুরো শরীর নাচিয়ে দুমকি তালে হাঁটে। বাহারি ঢংয়ে চারিদিকে ছুটাছুটি করে অদ্ভুত সুন্দর এই নিরীহ প্রাণী। এরা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। খুব দ্রুত গতিতে দৌড়াতে পারে। হরিণ দুই হতে তিন বছরে বয়সপ্রাপ্ত হয়। প্িরত ছয় মাসে এক হতে তিনটি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে। সর্বোচ্চ বাঁচে প্রায় ১৬ বছর। খাদ্য হিসাবে গাছ-গাছালির কচি পাতা চিত্রা হরিণের পছন্দের শীর্ষে। এছা ছাড়াও বিভিন্ন ফলমূল, গমের ভূষি, তিলের খৈল, শাক-সবজি এবং সবুজ ঘাস খায়। অতিরিক্ত লবন ও নানা অব্যবস্থায় সুন্দরবনের ঘাস কমিয়ে গেছে। ফলে হরিণের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। এখন মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি হরিণ আছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বাংলাদেশে চিত্রা হরিণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ পাওয়া যায়। সাম্বার হরিণ ও মায়া হরিণ এর অন্যতম। তবে এদের সংখ্যা একোবরেই কম। হিমালয়ের আলপাইন এলাকায় মাস্ক হরিণ (কস্তুী মৃগ) দেখা যায়। এদের পুরুষ হরিণ মৃগ নাভীর জন্য বিখ্যাত। প্রকৃতিতে হরিণের প্রধান শত্র“ হিংস্র বাঘ, প্রিগতির চিত্রা বাঘ। দেখতে পেলে আর রা নাই। টার্গেট করে বাঘ হন্যে হয়ে ছুটে। আর হরিণও কম যায় না। নিমিষেই প্রাণ বাঁচাতে প্রাণপণে দৌড়ায়। ঐ সময়ে হরিণ এক পলকে মাইলের পর মাইল পার হয়ো যায়। সব চাইতে অবাক করা কাণ্ড হল নিশ্চিত মৃত্যুর ঐ কঠিন সময়েও হরিণ দলবদ্ধ হয়ে থাকে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে সকলে মিলে।এর মাঝ হতেই বাঘ কিংবা অন্য কোন হিংস্র প্রাণীর খাদ্য হয়ে বিদায় নেয় স্বগোত্রের কেহ। স্বজন হারানোর ব্যথায় ঐ সময়ে অন্যরা বিষন্ন হয়ে পড়লেও আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধন আইনের ধারায় যে শাস্থি বা জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে, পাচারকারীরা এর প্রতি তোয়াক্কা না করে হরিণ শিকার অব্যাহত রেখেছে। বন্যপ্রাণী রার্থে বন্যপ্রাণী হত্যা আইন সংশোধনের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মাঠ পর্যায় হতে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে সভা সেমিনার করে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করেছে বলে সংস্থাগুলো সূত্রে জানা গেছে। সরকার সুন্দরবন তথা সারাদেশে হরিণ নিধন বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: গবেষক ও সাবেক অধ্য
৩৬ গগন বাবু রোড়,খুলনা-৯১০০
মোবাইল: ০১৭১১৫৭৯২৬৭
বছরজুড়ে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে যে হরিণ নিধন হয় সে নিধনযজ্ঞের সিংহভাগই ঘটে রাস মেলার পূণ্য স্নানের সময়। রাস মেলার সময় সুন্দরবনে যে সহস্রাধিক হরিণ নিধন হয় তার মধ্যে অনেকগুলো গর্ভবতী থাকে বলে একধিক সূত্রে জানা গেছে। বন বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশ ও দায়িত্বহীনতার সুযোগে হরিণ নিধনযজ্ঞসহ সুন্দরবন উজাড়ের সকল অপকর্ম নির্বিঘেœ চালানো হচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে চারদিন ব্যাপী এ মেলা সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোর কোলে অনুষ্ঠিত হয়। চোরা শিকারীরা মেলার সময়কে হরিণ নিধনের মোম সুযোগ হিসেবে বেছে নেয়। নির্ভরযোগ্য ও প্রত্যদর্শীর সূত্র মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও হরিণ নিধন উৎসবে মেতে ওঠার জন্যে অÍতঃ ৫০টি গ্র“প সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাস মেলা শুরু হবার ১০/১২ দিন আগেই তারামেলা ও আশপাশের বন এলাকায় গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। ১০/১২টি করে ট্রলার থাকে প্রতিগ্র“পে। প্রতি ট্রলারে ১৫ থেকে ২০জন শিকারী থাকে। তারা হরিণ ধরার ফাঁদ পাতার জন্যে প্লাষ্টিকের কর্ড এবং প্রয়োজনীয় দা, কুড়াল, ছুরি এবং গাছ কাটার করাত সাথে নিয়ে যায়।
অথচ এক সময়ে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের গহীন বনাঞ্চলে নির্বিঘেœ বিচরন করতো মায়াবি মায়া হরিণ। সুন্দবনের অপর সৌন্দর্যের প্রধানতম আকর্ষণই ছিল চিত্রা হরিণ। কিন্তু এখন আর সেই আগের পরিবেশ নেই। সময় বদলানোর সঙ্গে দিনবদলের পালা বদলের মতো উজাড় হচ্ছে সুন্দবনের গাছগাছালি। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে মায়া হরিণের জীবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একশ্রেণীর মানুষরূপী হায়েনাদের শিকার মানসিকতা। হরিণের মাংস, চামড়া এবং শিং বিক্রি করে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। এ ব্যাপারে তারা কখনো বাধার সম্মুখনি হয় না। জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলোতে হরিণের মাংস ব্যবাসয়ীরা শিকারীদের অগ্রিম দাদন দিয়া থাকে। সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে এবং পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতীরা রেঞ্জের বিশেষ কযেকটি স্থানে শিকারীরা চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে হরিণ শিকার করেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় চোরা শিকারীরা ফাঁদ পেতে, খাদ্যের সাথে বিষাক্ত দ্রব্য খাওয়ায়ে এবং গুলি করে হরিণ শিকার করে। চোরাশিকারীরা হরিণ শিকার করার পর ঘটনাস্থলে জবাই করে চামড়া ছিলে লোকালয়ে মাংশ নিয়ে আসে। অবস্থা ভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এমনকি কোন কোন সময় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করে থাকে। মাংস বিক্রির েেত্র গোপনীয়তা লা করা হয়। অপরিচিতদের কাছে মাংস বিক্রি করা হয় না। তাদের পছন্দের লোকদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়ে থাকে। হরিণের প্রতিটি চামড়া ৩হাজার টাকা থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখ যায়। হরিণের শিং বিক্রি হয় আকার ভেদে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, চোরা শিকারীদের সপ্তাহে কমপে ৭/৮ টি করে হরিণ শিকার করে। শিকারীরা এলাকার বাইরে বিক্রি করার জন্য হরিণ শিকার করে। কিন্তু অনেক সময় বাইরে নিয়ে যেতে না পারায় এলাকায় জবাই করে মাংস বিক্রি করার সময় ধরা পড়ে। বেশিরভাগ েেত্র দেখা গেছে, বিক্রির খবর বন বিভাগের কাছে অনেক দেরিতে পৌঁছায়। ফলে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২/১ কেজি মাংস ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারে না। যদিও ২/১ জন শিকারী ধরা পড়ে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তারা আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বাহির হয়ে আসে।
হরিণের মধ্যে চিত্রা প্রজাতির হরিণ দেখতে খুবই সুন্দর। এদের সারা শরীরে উজ্জ্বল লালচে-বাদামি রংয়ের উপর সাদা কালো গোলাকার দাগ আছে। পুরুষ চিত্রার এক জোড়া শাখা-প্রশাখাযুক্ত শিং থাকে। ঐ শিং দোলায়ে মোহনীয় ভঙ্গিমায় পুরো শরীর নাচিয়ে দুমকি তালে হাঁটে। বাহারি ঢংয়ে চারিদিকে ছুটাছুটি করে অদ্ভুত সুন্দর এই নিরীহ প্রাণী। এরা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। খুব দ্রুত গতিতে দৌড়াতে পারে। হরিণ দুই হতে তিন বছরে বয়সপ্রাপ্ত হয়। প্িরত ছয় মাসে এক হতে তিনটি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে। সর্বোচ্চ বাঁচে প্রায় ১৬ বছর। খাদ্য হিসাবে গাছ-গাছালির কচি পাতা চিত্রা হরিণের পছন্দের শীর্ষে। এছা ছাড়াও বিভিন্ন ফলমূল, গমের ভূষি, তিলের খৈল, শাক-সবজি এবং সবুজ ঘাস খায়। অতিরিক্ত লবন ও নানা অব্যবস্থায় সুন্দরবনের ঘাস কমিয়ে গেছে। ফলে হরিণের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। এখন মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি হরিণ আছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বাংলাদেশে চিত্রা হরিণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ পাওয়া যায়। সাম্বার হরিণ ও মায়া হরিণ এর অন্যতম। তবে এদের সংখ্যা একোবরেই কম। হিমালয়ের আলপাইন এলাকায় মাস্ক হরিণ (কস্তুী মৃগ) দেখা যায়। এদের পুরুষ হরিণ মৃগ নাভীর জন্য বিখ্যাত। প্রকৃতিতে হরিণের প্রধান শত্র“ হিংস্র বাঘ, প্রিগতির চিত্রা বাঘ। দেখতে পেলে আর রা নাই। টার্গেট করে বাঘ হন্যে হয়ে ছুটে। আর হরিণও কম যায় না। নিমিষেই প্রাণ বাঁচাতে প্রাণপণে দৌড়ায়। ঐ সময়ে হরিণ এক পলকে মাইলের পর মাইল পার হয়ো যায়। সব চাইতে অবাক করা কাণ্ড হল নিশ্চিত মৃত্যুর ঐ কঠিন সময়েও হরিণ দলবদ্ধ হয়ে থাকে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে সকলে মিলে।এর মাঝ হতেই বাঘ কিংবা অন্য কোন হিংস্র প্রাণীর খাদ্য হয়ে বিদায় নেয় স্বগোত্রের কেহ। স্বজন হারানোর ব্যথায় ঐ সময়ে অন্যরা বিষন্ন হয়ে পড়লেও আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধন আইনের ধারায় যে শাস্থি বা জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে, পাচারকারীরা এর প্রতি তোয়াক্কা না করে হরিণ শিকার অব্যাহত রেখেছে। বন্যপ্রাণী রার্থে বন্যপ্রাণী হত্যা আইন সংশোধনের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মাঠ পর্যায় হতে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে সভা সেমিনার করে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করেছে বলে সংস্থাগুলো সূত্রে জানা গেছে। সরকার সুন্দরবন তথা সারাদেশে হরিণ নিধন বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: গবেষক ও সাবেক অধ্য
৩৬ গগন বাবু রোড়,খুলনা-৯১০০
মোবাইল: ০১৭১১৫৭৯২৬৭
0 comments:
Post a Comment