Friday, April 20, 2018

স্মরণ:কামিনী রায়

স্মরণ:কামিনী রায়
আলী ফোরকান
জন্ম: ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর 
মৃত্যু: ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর 
১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কামিনী রায়। তিনি ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। তিনি একসময় ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’ ছদ্মনামে লিখতেন। পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে চণ্ডীচরণ ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা লাভ করেন। পরের বছর তার স্ত্রী-কন্যাও কলকাতায় তার কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের বিশিষ্ট নেতা। তার ভগিনী যামিনী সেন লেডি ডাক্তার হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছিলেন। কামিনী রায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী, ভাবুক ও কল্পনাপ্রবণ। কন্যা কামিনী রায়ের প্রাথমিক শিক্ষার ভার চণ্ডীচরণ সেন নিজে গ্রহণ করেন। বারো বছর বয়সে কামিনী রায়কে তিনি স্কুলে ভর্তি করে বোর্ডিংয়ে প্রেরণ করেন। কামিনী রায় কলকাতার বেথুন ফিমেল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, বেথুন কলেজ থেকে এফএ এবং সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। একই বছর তিনি বেথুনে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে অধ্যাপক হন। ১৮৯৪ সালে স্ট্যাটিউটরি সিভিলিয়ান কেদারনাথ রায়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন। যে যুগে মেয়েদের শিক্ষাও বিরল ঘটনা ছিল, সেই সময়ে কামিনী রায় নারীবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তার অনেক প্রবন্ধেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর, বিশেষত নারীকল্যাণমূলক কাজেও আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নারীশ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য, বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন। তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো: নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ), মাল্য ও নির্মাল্য, অশোকসঙ্গীত (সনেট), অম্বা (নাটক), বালিকা শিক্ষার আদর্শ, ঠাকুরমার চিঠি, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে (সনেট)। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মহাশ্বেতা ও পুণ্ডরীক তার দুটি প্রসিদ্ধ দীর্ঘ কবিতা। কামিনী রায় সবসময় অন্য সাহিত্যিকদের উৎসাহ দিতেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বরিশাল সফরের সময় কবি সুফিয়া কামালকে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে বলেন।
১৯০৯ সালে কামিনী রায়ের স্বামীবিয়োগ ঘটে। স্বামীর এ অকাল মৃত্যু তার ব্যক্তি জীবনের মতো সাহিত্যিক জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তবে তার কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব সর্বাধিক। তিনি যেহেতু সংস্কৃতে পণ্ডিত ছিলেন, সেহেতু সংস্কৃত সাহিত্যের বিষয় অবলম্বনে রচিত তার কবিতাগুলো অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট মানের। তার কবিতায় জীবনের সাধারণ ঘটনাবলি হৃদয়ের সুকুমার অনুভূতির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। 

0 comments:

Post a Comment