Saturday, April 21, 2018

স্মরণ: আবু জাফর শামসুদ্দীন

স্মরণ: আবু জাফর শামসুদ্দীন
আলী ফোরকান
জন্ম: ১৯১১ সালের ১২ মার্চ 
মৃত্যু: ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট  
আবু জাফর শামসুদ্দীন ১৯১১ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল লেখক। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। উপন্যাস, ছোট গল্প ও মননশীল প্রবন্ধ লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। তার রচিত পদ্মা মেঘনা যমুনা বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য গ্রন্থ। তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, মারাঠি, জাপানি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। আবু জাফর শামসুদ্দীন গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ আক্কাছ আলী ভুঁইয়া ছিলেন মওলানা কেরামত আলী জৌনপুরীর শিষ্য ও স্থানীয় প্রতিনিধি। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের প্রভাত পণ্ডিতের পাঠশালায়। ১৯২৪ সালে স্থানীয় একডালা মাদরাসা থেকে জুনিয়র মাদরাসা পরীক্ষায় ও ১৯২৯ সালে ঢাকা সরকারি মাদরাসা থেকে হাই মাদরাসা পরীক্ষায় পাস করেন। কিছুদিন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সাংবাদিকতায় যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরুতে আবু জাফর শামসুদ্দীন দৈনিক সুলতানের সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৩১ সালে তিনি সরকারের সেচ বিভাগে যোগ দেন। ১৯৪২ সালে সেচ বিভাগের কাজ পরিত্যাগ করে কটকে নির্মাণাধীন বিমানঘাঁটি তদারকি অফিসের হেড ক্লাক পদে যোগ দেন। কয়েক মাস পর তিনি দৈনিক আজাদে যোগ দেন। ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসার পর তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫০ সালে আজাদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হলে তিনি প্রকাশনা ব্যবসা সংস্থা কিতাবিস্তান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০-৫১ সালে তিনি সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কাগমারীর সাংস্কৃতিক সম্মেলনের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এ দলের সঙ্গে জড়িত হন এবং কিছুদিন ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমির অনুবাদ বিভাগের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদকীয় বিভাগে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালে দৈনিক সংবাদে যোগ দেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- পরিত্যক্ত স্বামী, মুক্তি, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, প্রপঞ্চ, দেয়াল ইত্যাদি। কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য একুশে পদক পান। ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


0 comments:

Post a Comment