Friday, April 20, 2018

স্মরণ:জীবনানন্দ দাশ

স্মরণ:জীবনানন্দ দাশ
আলী ফোরকান
জন্ম:১৮৯৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি 
মৃত্যু: ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪
বাংলা ভাষার অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে বাংলাভাষার ‘শুদ্ধতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন। যৌবনের প্রারম্ভেই জীবনানন্দ দাশের কবি প্রতিভা বিকশিত হতে শুরু করে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৫-এর জুনে মৃত্যুবরণ করলে জীবনানন্দ দাশ তার স্মরণে ‘দেশবন্ধুর প্রয়াণে’ নামক একটি কবিতা রচনা করেন, যা বঙ্গবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি পরবর্তীতে তার প্রথম কাব্য সংকলন ঝরা পালকে স্থান করে নেয়। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কল্লোল পত্রিকায় তার ‘নীলিমা’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে তরুণ কাব্যরসিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরে ধীরে কলকাতা, ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতে থাকে; যার মধ্যে ছিল সে সময়কার বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল, কালি ও কলম, প্রগতি প্রভৃতি। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক প্রকাশিত হয়। সে সময় থেকেই তিনি তার পারিবারিক উপাধি ‘দাশগুপ্তের’ বদলে কেবল ‘দাশ’ লিখতে শুরু করেন। শুরুতেই তিনি বুঝেছিলেন, সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। তাই ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধে জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি; কবি- কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভেতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার সারবত্তা রয়েছে এবং তাদের পশ্চাতে অনেক বিগত শতাব্দী ধরে ও তাদের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জগতের নব নব কাব্যবিকীরণ তাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু সবাইকে সাহায্য করতে পারে না; যাদের হৃদয়ে কল্পনা ও কল্পনার ভেতরে অভিজ্ঞতা ও চিন্তার সারবত্তা রয়েছে তারাই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়; নানা রকম চরাচরের সম্পর্কে এসে তারা কবিতা সৃষ্টি করার অবসর পায়।’
তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ধূসর পাণ্ডুলিপি, ঝরা পালক, সাতটি তারার তিমির, বনলতা সেন প্রভৃতি। ১৪ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন। ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। গুরুতর আহত জীবনানন্দ দাশকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। চিকিৎসক ও সেবিকাদের সব প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তার মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত হয় অজস্র গল্প ও উপন্যাস। এগুলোর প্রথম সংকলন জীবনানন্দ দাশের গল্প (১৯৭২, সম্পাদনা : সুকুমার ঘোষ ও সুবিনয় মুস্তাফী)। বেশ কিছুকাল পর প্রকাশিত হয় জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৮৯, সম্পাদনা : আবদুল মান্নান সৈয়দ)। জীবনানন্দ দাশের প্রকাশিত ১৪টি উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মাল্যবান, সুতীর্থ ইত্যাদি।

0 comments:

Post a Comment