Friday, April 20, 2018

স্মরণ:রণেশ দাশগুপ্ত

স্মরণ:রণেশ দাশগুপ্ত
আলী ফোরকান
জন্ম :১৫ জানুয়ারি ১৯১২
মৃত্যু:১৯৯৭ সালের ৪ নভেম্বর 
রণেশ দাশগুপ্তের জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯১২। তিনি ছিলেন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক কর্মী। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। বাবা অপূর্বরতœ দাশগুপ্ত ছিলেন খ্যাতনামা খেলোয়াড়। কাকা নিবারণ দাশগুপ্ত ছিলেন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও পেশায় শিক্ষক। আরেক কাকা ছিলেন গান্ধীবাদী স্বদেশি। পারিবারিক পরিমণ্ডল এমন হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই রণেশ দাশগুপ্তের সঙ্গে দেশ, পরাধীনতা, ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতি ইত্যাদির ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তী জীবনে এই রাজনৈতিক সচেতনতাই তাকে চালনা করে। রণেশ দাশগুপ্ত ১৯২৯ সালের রাঁচির (বিহার) স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বাঁকুড়ার কলেজে ভর্তি হন। এ সময় অনুশীলন দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে ও তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বাঁকুড়া কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলে তিনি কলকাতায় এসে সিটি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু পুলিশের উৎপাতে লেখাপড়ায় বিঘœ হওয়ায় বরিশালে এসে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তি হন। থাকতেন মাতুল সত্যানন্দ দাশের বাড়িতে। সত্যানন্দ দাশ ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা। ১৯৩৪ সালে রণেশ দাশগুপ্তের বাবা চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গাউরদিয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে সবাই বসবাস করতে শুরু করেন, পরে ওই গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেলে সবাই ঢাকা শহরে চলে আসেন এবং সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে রণেশ দাশগুপ্তকে পড়ালেখা ছেড়ে সাংবাদিকতার চাকরি নিতে হয়।
বিখ্যাত পত্রিকা ‘সোনার বাংলা’য় সাংবাদিক জীবনের মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিক জীবন শুরু। তার লেখক জীবন শুরু হয় এ সময়। তিনি তরুণ সাহিত্যিক সোমেন চন্দ, অচ্যুত গোম্বামী, কবি কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত প্রমুখের বন্ধুত্ব লাভ করেন ও নানা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত হন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রাজনৈতিক কারণে তিনি বহুবার কারাবাস করেছেন। ১৯৫৫ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার চাকরি গ্রহণ করেন। তার সাহিত্যিক খ্যাতি ঘটে এ সময়েই, ‘উপন্যাসের শিল্পরূপ’ নামে একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ রচনার জন্য। ১৯৬৯ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ উদীচী গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর কলকাতায় একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে সেখানেই থেকে যেতে বাধ্য হন। তিনি কয়েকটি ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। ইংরেজি ও উর্দুভাষা উত্তমরূপে আয়ত্ত করেছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের অধিকাংশই মননশীল প্রবন্ধ ও অনুবাদের। তার প্রবন্ধের বইয়ের মধ্যে রয়েছে- উপন্যাসের শিল্পরূপ, শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে, লাতিন আমেরিকার মুক্তি সংগ্রাম, আলো দিয়ে আলো জ্বালা, আয়ত দৃষ্টিতে আয়ত রূপ ইত্যাদি। এছাড়া অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে- ফয়েজ আহমদ ফয়েজের কবিতা উল্লেখযোগ্য। তিনি জীবনানন্দ দাশের কাব্যসমগ্র সম্পাদনা করেছেন। ১৯৯৭ সালের ৪ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

0 comments:

Post a Comment