Monday, March 12, 2018

দেশে ৫ কোটি বয়স্ক লোক নিরÿর

দেশে ৫ কোটি বয়স্ক লোক নিরÿর
আলী ফোরকান
দেশে ৫ কোটি বয়স্ক লোক নিরÿর থাকলেও সরকারের কোন বয়স্ক সাÿরতা কার্যক্রম নেই। উপানুষ্ঠানিক শিÿার আওতায় যে প্রকল্প রয়েছে তা সাÿরদের জন্য, নিরÿরদের জন্য নয়। অথচ সরকার ২০১৭ সালের মধ্যে সবাইকে নিরÿরতামুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। বয়স্কদের সাÿর না করে সরকারের এ ঘোষণা কতটা বা¯Íবায়ন সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশিøষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন। দেশে পনের বয়সোর্ধ্ব প্রায় ১০ কোটি লোক রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে পনের বয়সোর্ধ্ব লোকের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ সাÿর। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ মহিলা। 
তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫ কোটি লোক নিরÿর। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ১৫ বয়সোর্ধ্ব নিরÿর লোকের মধ্যে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ গ্রামে এবং ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ শহরে বাস করে। আবার নিরÿর এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭২ শতাংশ খুবই গরিব, ২৪ শতাংশ বিত্তশালী। 
সংশিøষ্টরা বলছেন, বয়স্ক নিরÿর লোক সমাজের জন্য অভিশাপ। তারা সমাজের উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। এছাড়া নিরÿর লোক তার সন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠায়, লেখাপড়ার গুরুত্ব বোঝে না। তারা সমাজ সচেতন নয়। সমাজের জন্য বোঝা। তাই বয়স্ক নিরÿর লোককে শিÿিত করে তোলা জরুরি। ইউনেস্কো প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, আজকের বিশ্বে বেঁচে থাকতে হলে পড়তে ও লিখতে জানতে হবে। যা মৃত্যু হার হ্রাস, সুস্বাস্থ্য অর্জন এবং কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করে। এরপরও সাÿরতা একটি অবহেলিত কার্যক্রম হয়ে রয়েছে।
দীর্ঘ ১০ বছরে বাংলাদেশ সরকারের এমন কোন কার্যক্রম নেই যার মাধ্যমে বয়স্ক সাÿরতার ÿেত্রে উলেøখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে। স্বল্প সংখ্যক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সীমিত পরিসরে বয়স্ক শিÿা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী দাতা দেশগুলোও বাংলাদেশের বয়স্ক শিÿা কার্যক্রমে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সুযোগ পেলে কেউ কেউ বয়স্ক সাÿরতাকে শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিÿার প্রতিপÿ হিসাবে দাঁড় করাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এডুকেশন ফর অল গেøাবাল মনিটরিং রিপোর্টে উলেøখ করা হয়, তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে ৭৭ কোটি বয়স্ক ব্যক্তি নিরÿর। এদের দুই-তৃতীয়াংশ মহিলা। রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বে মোট বয়স্ক নিরÿর লোকের শতকরা ৮০ ভাগ বাস করে ২০টি দেশে এবং এর অর্ধেকই বাস করে বাংলাদেশ, চীন ও ভারতে। যদিও আলজেরিয়া , চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, তুরস্কে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা কমেছে। তবুও অন্যান্য দেশে এই সংখ্যার কোন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৪ এবং ২০০০ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে বয়স্ক সাÿরতার হার ৭৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ শতাংশ হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় সব অঞ্চলেই বৃদ্ধি উলেøখযোগ্য ছিল যা ৬৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছে। তবে সাব-সাহারান আফ্রিকা, দÿিণ ও পশ্চিম এশিয়া, আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ক্যারিবিয়ানে আঞ্চলিক বয়স্ক সাÿরতার হার উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় হারের চেয়ে কম ছিল।
১৯৮০ সালে বয়স্ক সাÿরতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীÿার্থীদের দিয়ে নিরÿরতা দূরীকরণের উদ্যোগ নেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের এ কাজে সম্পৃক্ত করেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪০ লাখ লোক সাÿর হয়েছে এমন দাবি করলেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে খুব কম লোকই সাÿরতা লাভ করেছে। ১৯৮৭ সালে গঠিত গণশিÿা কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯০ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় বয়স্ক শিÿাক্রম শুরু হয়। দুই দফায় নাম পরিবর্তন শেষে এটি হয় উপানুষ্ঠানিক শিÿা অধিদপ্তরে। এরপর থেকে শুরু হয় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি। যত সংখ্যক সাÿর হয়েছে তার চাইতে ১০/২০ গুণ বাড়িয়ে তথ্য তৈরি করা হয়। এটি পরিণত হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে। পরে উপানুষ্ঠানিক শিÿা অধিদপ্তর সার্বিক আন্দোলন বা টিএলএম নামে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলায় জেলায় নিরÿরতা দূরীকরণের কর্মসূচি হাতে নেয়। বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত টিএলএম শেষে শতকরা ৮০ থেকে ১০০ ভাগ সাÿর হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হলেও বা¯Íবের সঙ্গে এই তথ্যের কোন মিল নেই।
উপানুষ্ঠানিক শিÿা ও সাÿরতা বিশেষজ্ঞ আ ন স হাবীবুর রহমান বলেন, দেশে বড় একটি অংশ নিরÿর থাকলেও সরকারের কোন কার্যক্রম না থাকা ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। বয়স্ক লোককে সাÿর না করে দেশকে নিরÿরমুক্ত করার কোন পরিকল্পনা বা¯Íবায়ন সম্ভব হবে না।
ঢাকা আহসানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম বলেন, দেশে পাঁচ কোটি লোক নিরÿর রয়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যে দেশকে নিরÿরতামুক্ত করতে হলে এখনই সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের এক একটি বিভাগকে টার্গেট করে এ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

0 comments:

Post a Comment