Monday, March 12, 2018

উচ্চ শিÿাঙ্গন কতোটা উচ্চতর শিÿায় ব্য¯Í?

উচ্চ শিÿাঙ্গন কতোটা উচ্চতর শিÿায় ব্য¯Í?
আলী ফোরকান
পত্র-পত্রিকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সেই সব সংবাদ যদি হতো উচ্চতর কোনো গবেষণার সফলতা নিয়ে, কিংবা কোনো কৃতী ছাত্র/ছাত্রী অথবা কোনো স্বনামধন্য শিÿকের কৃতিত্বকে নিয়ে, তাহলে দেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যেতো, অথবা দেশের উচ্চ শিÿা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে বলে ধরে নেয়া যেতো। উন্নত দুনিয়ায় কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ পত্র-পত্রিকায় তেমন ধরনের সুসংবাদ নিয়েই হাজির হয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্য¯Í আছে লেখাপড়া ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণা নিয়ে। সুতরাং মিডিয়ায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ লেখাপড়া, গবেষণা, আবিষ্কার বা অর্জনকেন্দ্রিকই হবেÐএটিই স্বাভাবিক। সমস্যার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ হওয়া অনেকটাই তাদের জন্যে ব্যতিক্রম। তেমন সংবাদও পত্রপত্রিকায় মাঝেমাধ্যে ছাপা হয়ে থাকে। বাজেট সমস্যা, আবাসন সমস্যা, শিÿক সমস্যা, শিÿা গবেষণা নিম্নমুখী হওয়ারও সমস্যা নিয়ে মাঝেমধ্যে সংবাদ হয়ে থাকে। এ হচ্ছে উন্নত দুনিয়ার চিত্র। 

আমাদের এখানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে সব সংবাদ পত্র-পত্রিকায় বেশ গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয় সেগুলো তো আমাদের অতিপরিচিত এবং অতি জানা কথা। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, হল দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, সংঘর্ষের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের ৫/৬ ঘন্টার মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার নির্দেশ, কখনো কখনো ছাত্র হত্যার ঘটনা ঘটে, লাঠি, অস্ত্র, রড, হকিস্টিক নিয়ে একগ্রæপ অন্যগ্রæপকে নিমর্মভাবে পেটাচ্ছে, বীর বাহাদুরের মতো চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইত্যাদি নানা অবিশ্বাস্য ঘটনার খবর পত্র-পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার দৃশ্য ধারণ করে দেখানোও হচ্ছে। এসব দৃশ্য বা ঘটনা কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটতে পারে তা বহু আগে ভাবা যায়নি, কল্পনা করাও যায়নি। কিন্তু এখন বা¯Íবে এগুলো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা, ব্যাপকভাবে হচ্ছে, ঘটছে। আরো অনেক কিছুই হয়তো ঘটছে, পত্র-পত্রিকায় সব ঘটনার কথা ছাপা হচ্ছে না নানা সীমাবদ্ধতার কারণেই। তবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা-উত্তর কাল থেকে স্ব¯িÍতে নেই, বরং দিন দিন নতুন নতুন সমস্যায় এগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে, সরকার, জনগণ, অভিভাবকসহ সকলের জন্যেই বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠছে। বলা চলে প্রায় সবক’টি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ পাহাড়া বসানো একটি বাধ্যতামূলক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচাইতে ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র পুলিশি পাহাড়া নিশ্চিত করতে হচ্ছে সর্বাগ্রে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা সকলেরই জানা, কলেজগুলোও কমবেশি অশান্ত থাকে। নানা ধরনের অনাকাঙিÿত ঘটনা সেগুলো থেকে শোনা যায়। এসব ঘটনা কী প্রমাণ করে তা তো সকলেরই জানা কথা। কথা হচ্ছে আমরা এভাবে দেশের উচ্চতর শিÿাঙ্গন নিয়ে কতোদূর অগ্রসর হতে পারবো, কতোদিন চলতে পারবোÐসেটিও ম¯Í বড়ো প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। 
এখন পত্র-পত্রিকায় বা মিডিয়ায় প্রায় প্রতিদিন ছাত্রলীগের দুই গ্রæপের মারামারির খবর প্রচারিত হচ্ছে। তাতে সরকার বেশ বিব্রতকর অবস্থায় আছে। বিরোধী দল, তাদের প্রচার মাধ্যমগুলো এক ধরনের আত্মতৃপ্তিতে আছে। প্রচার-প্রচারণায় বিষয়টিকে সরকারী দল এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগের সমস্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। এ মুহ‚র্তে সরকারে আওয়ামী লীগ আছে, ছাত্রলীগ নামক ছাত্র সংগঠনটি এখন বিশেষ সুবিধা নিচ্ছে, পাচ্ছে, সে কারণে অপকর্মগুলো ঘটছে সে নামেই। দুই বছর আগে পর্যন্ত যখন ৪ দলীয় জোট সরকার ÿমতায় ছিল তখন ছাত্র দল ও ছাত্র শিবির প্রায় একই ঘটনা ঘটাতো, কোনো কোনো ÿেত্রে আরো বেশিও ঘটাতো। এর আগে যখন আওয়ামী লীগ ÿমতায় ছিল তখন ছাত্রলীগ ঘটাতো বা এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর আগে ÿমতায় বিএনপি ছিল, তখন ছাত্র দল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তা হলে যে বিষয়টি বুঝতে হবে, স্বীকার করতে হবে তা হচ্ছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আমরা যে সব অনাকাঙিÿত ঘটনা ঘটতে দেখছি তা শুধু বর্তমান সরকার বা তাদের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের এককভাবে অপকর্ম নয়, অন্যরা সাধু পুরুষ সেজেছে তাও নয়। ভবিষ্যতে ÿমতায় পালাবদল ঘটলে একই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে তখনকার সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের ছাত্র-ছাত্রীরা জড়িত থাকবে নাÐ তা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বরং নিশ্চিত করেই যেন বলা যাচ্ছে যে, তখনকার সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ ধরনের কর্মকান্ডই করবে। তা হলে উপায় কী? কেউ বলছেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে, কেউ বলছেন ডাকসু, চাকসু, জাকসু ইত্যাদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করলেই এসব থাকবে না। যারা এ ধরনের প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন তাদের এভাবে সমাধান দেয়ার ভিত্তি কী আমি জানি না। তবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা না করা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা না করার ওপর বর্তমানে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যে ধরনের সাংঘর্ষিক, দখল, চাঁদাবাজিÐটেন্ডারবাজির ঘটনা ঘটছেÐসেগুলো ঘটবে নাÐবন্ধ হয়ে যাবে তা বোধ হয় বিশ্বাস করার বা¯Íব কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। সমস্যার উৎস ও বি¯Íারের মূলে আমাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ¯Íরের উচ্চ শিÿার দুর্বলতা ত্রæটি এবং সীমাবদ্ধতাই আমার কাছে সবচাইতে বেশি বিবেচিত হচ্ছে। 
আমাদের দেশে উচ্চ শিÿার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা গত কয়েক বছরে ব্যাপক হারে বেড়েছে। দেশে দুইশত কলেজকে অল্প কয়েক বছরে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু শিÿক, লাইব্রেরি, ল্যাব ইত্যাদির নিশ্চয়তা বেশির ভাগ কলেজেই নেই। উচ্চ শিÿার পঠনপাঠন, পরিধি, বি¯Íৃতি, গভীরতা ইত্যাদির কোনোটিই বিবেচিত হচ্ছে না। একইভাবে ৪/৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অল্প সময়ের মধ্যে ৩০/৩১টি পাবলিক, ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উলøম্ফন দেয়ার সঙ্গে উচ্চ শিÿার প্রস্তুতি, ধ্যান-ধারণা কতোটা নীতি-নির্ধারক মহলে ছিল বা আছে তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বস্তুত বাংলাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ শিÿার মাল-মশলা কতোটা রয়েছে তা নিয়ে আমার বি¯Íর অভিযোগ আছে। এখানে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রিগুলো যেভাবে সনদসর্বস্ব করা হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া করা, শিÿকদের পাঠদান, গবেষণা করা, ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে-কলমে শেখানো, লেখাপড়ায় ব্য¯Í রাখা ইত্যাদি বিষয়গুলো দিন দিন একেবারে গৌণ হয়ে গেছে। একজন ছাত্রকে দিনে যদি ২/১টি ক্লাসে হাজিরা দেয়ার জন্যে গেলেই চলে, তাকে যদি নিয়মিত পড়াশোনা করতে না হয়, শিÿকদের মুখোমখি না হতে হয়, বছর শেষে যদি পরীÿায় বসলেই চলে, তাতে যদি তার দ্বিতীয় শ্রেণীতে অনার্স বা মাস্টার্স পাস নিশ্চিত হয়ে যায়, মৌলিক কোনো বইয়ের নাম না জেনেও যদি সে উচ্চতর ডিগ্রি হাতে পায়, পুরাতন কিছু ফটোকপি করা নোট মুখ¯Í করে যদি অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি পাওয়া যায়, তা হলে সেই ছাত্র কেন নিয়মিত লেখাপড়া করবে, কেন সে নিয়মিত ক্লাস করবে। যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে শিÿক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে যদি মেধা, গবেষণা ও যোগ্যতার মোটেও প্রয়োজন পড়ে না, দলীয় আনুগত্য, সুবিধাবাদী ও অন্যান্য অবাঞ্ছিত প্রবণতার অধিকারী হয়ে যদি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে দাবড়িয়ে চালানো যায় তা হলে সে দেশে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাঁড়াবে কীভাবে? ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমাদের দেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তথা উচ্চতর শিÿা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে, ছাত্র শিÿকও সংখ্যাগতভাবে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু এগুলোতে যে কোর্স কারিকুলাম দেওয়া হচ্ছে তা পরিমাণ এবং গুণগত মানে মোটেও যথার্থ বা যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া ও গবেষণার কোনো বাধ্যবাধকতাতে থাকতে হয় না। বিশেষত কলেজ পর্যায়ে উচ্চতর শিÿার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি না করে যেভাবে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স খোলা হচ্ছে তাতে উচ্চতর শিÿার ধারণাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে, সেখানে না আছে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে পরিচিত শিÿক, না আছে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ লেখাপড়া থেকে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের লেখাপড়ায় নতুনত্ব, আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য আছে কিনা তা খুব একটা বোধগম্য বা দৃশ্যমান হয় না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্যাম্পাসের চাকচিক্য, খানিকটা বড়োত্ব, দু’চারজন নামীগুণী শিÿকের সাÿাৎ পাওয়া ছাড়া মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে বলে ভাবা যায় না, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে না আছে শিÿাঙ্গন, না আছে চত্বর, না আছে কোর্স, না আছে সে ধরনের তাগিদ। ছাত্র অর্থ দিচ্ছে, সেমিস্টার অতিক্রম করছে, ডিগ্রি সে পেয়ে যাচ্ছে। ব্যাস! বস্তুত দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীকেই উচ্চতর কোনো, অতিরিক্ত কোনো লেখাপড়ার বাধ্যবাধকতাতে থাকতে হয় না, তেমন কোনো নিয়মনীতি, শৃঙ্খলার অ¯িÍত্ব দেখি না। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা দুরুদুরু বÿে একদিন যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভর্তি শেষে প্রবেশ করে, অজানা ভীতি নিয়ে জড়োসড়োভাবে আসে, ক’দিন যেতে না যেতেই সে দেখে এখানে ফেলে আসা তার স্কুলের চেয়েও তাকে প্রতিদিন কম লেখাপড়া করতে হচ্ছে, তাকে শাসন করছে না কেউ, বাধ্যবাধকতার কথা কেউ বলছে না, বরং এখানে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো যায়, এখানে হোস্টেলে বয়-বেয়ারাদের চড়-থাপ্পর দিলে কিছু হয় না, সবাই বরং ভয়ে সালাম ঠুঁকে, মঞ্চে উঠে গলা ছাড়িয়ে বক্তৃতার নামে গালমন্দ করতে পারলে, হুঙ্কার ছুঁড়তে পারলে সবাই নেতা বলে সম্বোধন করে, একদিন সত্যিসত্যিই প্রশাসন, রাজনৈতিক দল তাকে ছাত্রনেতা বলেই একটু বেশি আদর যতœ করে। যে ছাত্রের রাতদিন ক্লাস, লাইব্রেরি, গবেষণা, ল্যাবসহ পড়াশোনার নানা ব্য¯Íতায় থাকার কথা ছিল সেই ছাত্রই যখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লেখাপড়ার মধ্যে ফানুসের ওজনও খুঁজে পায় না, দরকার হয় না, সে তো তখন অন্য কিছু করে সময় অতিবাহিত করবেই। তার জীবনের ৪/৫ বছর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাতে হলে কিছু একটা তো করতে হবেই। কেউ আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছে, কেউ রাজনীতির নামে হল দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মিছিল-মিটিং, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কিছু করে সময় কাটাবেই। সময় মতো ডিগ্রি অর্জনে এর ফলে কারো কোনো সমস্যা হয় বলে আমার জানা নেই। এখন আপনারাই বলুন, এই শিÿাকে আমরা কতোটা উচ্চতর শিÿা বলবো, আর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কতোটা উচ্চতর শিÿাঙ্গন বলবো? উন্নত দুনিয়ার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একজন শিÿার্থী লেখাপড়া ও গবেষণার বাইরে এক মুহ‚র্তও সময় যেখানে পায় না, সেখানে দলীয় রাজনীতির নামে সময় দেয়া তার কোথায়, আড্ডা দেয়ার সুযোগ তার কোথায়। একইভাবে শিÿকদেরও। ক্লাস, গবেষণা, মানোন্নয়নসহ নানা একাডেমিক কর্মকান্ডে একজন শিÿক হয়ে ওঠেন নামী-দামী শিÿক, গবেষক ও বিজ্ঞানীতে। ছাত্র-ছাত্রীরাও ৪/৫ বছরের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিÿাজীবনের শেষে হয়ে ওঠেন বিশেষজ্ঞরূপে, যাদের গন্তব্য হয়ে ওঠে সংশিøষ্ট প্রতিষ্ঠানে। এর জন্য একজন শিÿার্থীকে উচ্চতর শিÿার ব্যাপক কারিকুলাম সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতেই হয় এর কোনো অন্যথা হয় না। আইন ও নিয়মকানুন সকলের জন্যেই সমান। বিভাগ, হোস্টেল, লাইব্রেরি, ল্যাব কোথাও অনুপস্থিত থেকে, নিয়ম ভঙ্গ করে, বাধ্যবাধকতাকে এড়িয়ে গিয়ে কেউ ডিগ্রি অর্জনের কথা ভাবতেই পারে না। এ কারণেই একজন ছাত্র-ছাত্রীর উচ্চতর শিÿাঙ্গনের জীবন প্রতিনিয়ত জ্ঞানের সঙ্গে লড়াই নিজের পশ্চাৎপদতাকে পরিত্যাগ করে উচ্চতর বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার লড়াইয়ে নিয়োজিত থাকে। সেই জায়গায় জ্ঞানার্জনের বাইরের বিষয়গুলো খুবই গৌণ হয়ে বিরাজ করে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে, তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল, হল দখল, টেন্ডারবাজি, মারামারি ও লাঠালাঠি করতে কেউ কখনো দেখে না। অথচ ওরা সকলেই জানে, ১৮ বছর হওয়া যে কোনো নাগরিকের রাজনৈতিক দল করা, ভোট দেয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো তার অধিকারের বিষয়। কিন্তু এ বিষয়গুলো শিÿাঙ্গনে অর্জনের বিষয় নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনের বিষয় যখন নির্বাচন আসে তখন যথানিয়মে সে প্রয়োগ করতে পারবেই। কিন্তু তাই বলে শিÿাঙ্গনকে অপরিহার্যভাবে রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, ছাত্র সংসদ ইত্যাদিতে মুখরিত করে রাখতে হবে, ব্য¯Í রাখতে হবে এমন ভাবনাই অবান্তর, অবা¯Íবোচিত। আমরা এখনো শিÿাঙ্গন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের মধ্যে পার্থক্যই করতে পারছি না। সেভাবে এগুলোর চর্চা, পরিচর্যা করতে দিচ্ছি না। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রধানত উচ্চতর লেখাপড়া ও গবেষণায় নিয়োজিত থাকার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে হয়, তবেই তা হবে উচ্চতর শিÿাঙ্গন। উচ্চতর শিÿাঙ্গন ছাত্র সংঘর্ষ, হানাহানি, মারামারি ও টেন্ডারবাজির অবকাশ থাকার কথা নয়। তা হলে গলদ একটাই, তা হচ্ছে দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নামে উচ্চ শিÿাঙ্গন করা হয়েছে, আসলে এগুলোরা চরিত্রে যথার্থ উচ্চতর শিÿাঙ্গনে পরিণত করতে হবে তবেই কলঙ্ক ঘুচবে, বিব্রতর অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে, হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বাংলাদেশের জন্যে যথার্থ মানব সম্পদে পরিণত হয়ে উঠবে, এমন কি রাজনীতিতেও সৎ, মেধাবী, দÿ ও যোগ্য নেতারূপে আবির্ভুত হতে পারবে। এর কোনো বিকল্প কিছু আছে বলে মনে করি না। 

0 comments:

Post a Comment