ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধ হোক
আলী ফোরকান
আবু বকরকে তার বাবা-মা পাঠিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ফারুকের বাবা-মা ফারুককে পাঠিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, একইভাবে মহিউদ্দিন ও হারুনকে তাদের বাবা-মায়েরা পাঠিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু বাবা-মায়ের আদরের ছেলেটি আর ভালো রেজাল্ট করে ফিরে যেতে পারেনি, ফিরেছে লাশ হয়ে। প্রশ্ন জাগে, তাহলে কোন্ সাহস নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ছুটে আসবে বা তাদের বাবা-মায়েরা ছেড়ে দেবেন এইসব নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাসে? এই ব্যাপারটা যেমনভাবে প্রযোজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসের ÿেত্রে তেমনিভাবে প্রযোজ্য বিভিন্ন সরকারি কলেজের ÿেত্রেও।এ বছরের শুরু থেকে এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুনের শিকার হয়েছে ৪টি ছাত্র, আহত হয়েছে শতাধিক। কোনোটি হয়েছে ছাত্ররাজনীতির হিংসাত্মক দ্ব›েদ্বর কারণে, কোনোটি হয়েছে একই দলের দু-গ্রæপের কোন্দলের মুখে পড়ে। দু’ধরনের ছাত্রই হত্যার শিকার।। এক দলীয় অন্যটি নিরপেÿ। কিন্তু প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সংশিøষ্ট সবাইকে মনে রাখতে হবে।। এই ছাত্ররা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি। তাহলে কেনইবা ছাত্ররাজনীতির কোন্দলে পড়ে বা দ্ব›েদ্বর মুখে পড়ে ছাত্রদের প্রাণ হারাতে হবে? কিন্তু যে ছাত্ররাজনীতির একটি ইতিবাচক প্রভাব বা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে সেই ছাত্ররাজনীতির ওপর জনসাধারণের নেতিবাচক প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক। ইতিহাস সাÿী।। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসে একটি দেশের ভবিষ্যতের সমাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির যোগ্য নেতৃত্ব। তবে যা হবে না কোনো লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি, হতে হবে সুষ্ঠুধারার রাজনীতি।এভাবে আর কত আবু বকরের লাশ দেখলে, কত ফারুকের লাশ ম্যানহোলে ঢুকিয়ে রাখলে, কত মহিউদ্দিনের লাশ ষোলশহর রেলস্টেশনে পড়ে থাকলে কিংবা আর কত হারুনের পড়ে থাকা লাশের রক্ত মাটি চুষে নিলে আমার সোনার বাংলার রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে শিÿাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চেতনা আসবে? কেনইবা ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীর গায়ের এক ফোঁটা রক্ত ঝরবে? কোন্ যুক্তিতে নির্দলীয় ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কে ভুগবে? আমরা কি পারি না, শিÿাপ্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চায় একজন আদর্শবান এবং সুনাগরিক হয়ে আগামীদিনের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করতে? সবকিছুই সম্ভব হয়ে উঠবে তখনই যখন প্রশাসন তার দায়িত্বটুকু পালন করবে যথাযথভাবে, ছাত্ররা নিজেদের অবস্থান থেকে সচেতন হতে শিখবে এবং লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি বাদ দিয়ে বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করবে। পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং একে অপরের প্রতি হতে হবে শ্রদ্ধাশীল। শিÿার সোনালি ফসল আগামীদিনের রাষ্ট্রে তুলে নিতে হলে ব্যবস্থা নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। নয়তো পোকায় খাওয়া শিÿার ফসল আগামীদিনের রাষ্ট্রের ÿতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং রাষ্ট্রের অবস্থা হতে থাকবে আরো শোচনীয়।
0 comments:
Post a Comment