কাজী মোতাহার হোসেনের শিÿা ও কর্মজীবন
আলী ফোরকান
জন্ম ঃ শিÿাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক মোতাহার হোসেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীউপজেলার ল²ীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশ উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
শিÿা জীবন ঃ কাজী মোতাহার হোসেন কুষ্টিয়া হাই স্কুল থেকে ১৯১৫ সালে ডিস্টিংশনসহ প্রথম বিভাগে এনট্রান্স এবং রাজশাহী থেকে ১৯১৭ সালে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯১৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বি এ এবং একই শাস্ত্রে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ইন্ডিয়ান ষ্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৩৮ সালে পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত এ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ‘পরীÿা প্রকল্প’ শীর্ষক জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে পরিসংখ্যান শাস্ত্রে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। কাজী মোতাহার হোসেনের ‘পরীÿণ প্রকল্প’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ পরিসংখ্যান গবেষণায় এক নতুন পদ্ধতির প্রর্বতন করে, যা ‘হোসেন শৃঙ্খল নিয়ম’নামে পরিচিত।
কর্মজীবন ঃ ছাত্রাবস্থায় ১৯২১ সালে মোতাহার হোসেন নব প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ডেমোনেস্ট্রেটর হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯১২৩ সালে তিনি এই বিভাগের সহকারী প্রভাষকের পদ লাভ করেন। তিনি এই নতুন বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৫৪ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। তিনি বিজ্ঞান অনুষদের ডীন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক মোতার হোসেন ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করলেও ১৯৬৪ সালে পরিসংখ্যান বিভাগের ‘সুপারনিউমেরারি প্রফেসর’ হিসেবে বিভাগের সঙ্গে তাঁর কর্মকান্ড অব্যাহত রাখেন। ১৯৬৪ সালে পরিসংখ্যান গবেষণা প্রশিÿণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলে অধ্যাপক মোতাহার হোসেনের প্রথম পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬৯ সাল পযর্ন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক হোসেন ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটাস প্রফেসর’ পদে নিযুক্তি লাভ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালে ড.হোসেন ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন। অধ্যাপক হোসেন শিÿা ও গবেষণার ÿেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকি¯Íান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব ভ‚ষিত হন। কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজন প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও পত্রিকাটি অল্পকালব্যাপী প্রকাশিত হয়েছে, তথাপি এটি মুসলিম সমাজে মুক্ত চিন্তার প্রসার ঘটাতে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেছিল। কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন। তিনি বাংলা বানান ও লিপি সংস্কার কমিটিরও অন্যতম সদস্য ছিলেন। শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে তিনি ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পু¯Íক রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্য অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরুস্কার ’ লাভ করেন। বিজ্ঞান ও কলাশাস্ত্রে কাজী মোতাহর হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিলয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.এসসি ডিগ্রি প্রদান করে। কাজী মোতাহার হোসেন একজন খ্যাতিমান দাবাড়ু এবং দাবা সংগঠকও ছিলেন। তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরন করেন।
0 comments:
Post a Comment