Monday, March 12, 2018

ÿুদ্রঋণে দারিদ্র্য বিমোচন

ÿুদ্রঋণে দারিদ্র্য বিমোচন
আলী ফোরকান
ÿুদ্রঋণের জন্মভ‚মিতেই ÿুদ্রঋণের চূড়ান্ত সামর্থ্য লইয়া দেখা দিয়াছে নানা বিতর্ক। ÿুদ্রঋণ দ্বারা প্রকৃতপÿে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব কিনা তাহা লইয়া সবচাইতে এই বৎসর গবেষণা হইয়াছে বেশি। বইমেলার শেষদিনে ইউপিএল কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের ÿুদ্রঋণের আর্থ-সামাজিক ও ঋণগ্র¯Íতা সংক্রান্ত প্রভাব’ শীর্ষক একটি সম্পাদনাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা দাবি করেন যে, ÿুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। বরং ইহার প্রভাবে মানুষ আরো দরিদ্রতর হইয়া উঠে।
তাহাদের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হওয়া কঠিন। তাহাদের বক্তব্য অনুযায়ী ÿুদ্রঋণ গ্রহীতাদের আয়-উপার্জন একেবারেই বাড়ে নাই, এমনটিও ঠিক নয়। তবে ইহা সত্য যে, কেবল ÿুদ্রঋণই দারিদ্র্য বিমোচন করিতে পারে না। নানা কারণেই দেশে দারিদ্র্যের হার এখনো বেশি। ইহার জন্য দায়ী অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, মাথাপিছু সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ, সম্পদের অসম বন্টন ও ব্যবহার, অশিÿা, রুগ্ন স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রভৃতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাক্কলন অনুযায়ী গ্রামাঞ্চলে ইহা ৪৭.১%। তাহার মধ্যে চরম দরিদ্র ২৪.৬%। অপরদিকে শহরাঞ্চলে ইহা যথাক্রমে ৪৯.৭% ও ২৭.৩%। পরিসংখ্যানের হিসাব বাদ দিলেও বা¯Íবে দেখা যায় দারিদ্র্যের নানা রকম ফের। জীবন ধারণার ব্যয় নির্বাহ ও খাদ্য প্রাপ্তির নিরীÿায় আজকাল তাহাদেরকে কেহ কেহ চার শ্রেণীতে ভাগ করেন। যথা চরম দরিদ্র (ভেরি হাই), অতি দরিদ্র (হাই), মাঝারি শ্রেণী (মডারেট) ও কম দরিদ্র (লো)। শুধু চরম দারিদ্র্যপীড়িত লোকের সংখ্যাই প্রায় ২ কোটি। ইহাছাড়া চলনে-বলনে নিজেকে দরিদ্র বলিয়া প্রকাশ করিতে চাহেন না, এমন লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নহে। সেইÿেত্রে গত ৩০ বৎসর ÿুদ্রঋণ কী ভ‚মিকা পালন করিল তাহা লইয়া প্রশ্ন দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। অন্যদিকে কেহ কেহ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন মিলাইয়া দেখেন। কিন্তু প্রবৃদ্ধি বাড়িলেও দারিদ্র্য নিষ্পেষিত লোকের সংখ্যা হ্রাস না পাইতেও পারে। প্রকৃতপÿে বাংলাদেশের প্রেÿিতে তাহাই হইয়াছে। একদিকে সর্বÿেত্রে ÿুদ্রঋণের সফলতা আসে নাই। যে চরম দরিদ্র, প্রাথমিক পর্যায়ে তাহার প্রয়োজন আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। ভ‚মি, শিÿা, চিকিৎসা ও প্রশিÿণ প্রভৃতি হইতে পারে তাহার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইহার পর তাহাকে ÿুদ্রঋণ প্রদান করিলে সে তাহার মেধা ও পরিশ্রম দিয়া দারিদ্র্যকে জয় করিতে পারে। আমরা বলি না যে, ÿুদ্রঋণ ইতিবাচক নয়। ইহা তখনই আশীর্বাদ হইবে যখন সুদের হার হইবে সহনশীল। ইহাছাড়া সামাজিক, মানবীয় ও সাংস্কৃতিক দিকগুলি ঋণ কর্মসূচীতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লÿ্য বা এমজিডিতে বলা হইয়াছে যে, আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ কমাইয়া আনিতে হইবে। এইজন্য ত্রিবার্ষিক আবর্তক পরিকল্পনা (২০০৫-২০০৭) প্রণীত হইয়াছে দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র বা পিআরএসপি’র আওতায়। তাহা কতখানি সফল হইয়াছে, এই ২০০৭ সালে পদার্পণ করিয়া তাহা আমাদের বিচার-বিশেøষণ করা দরকার। পিকেএসএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফসহ নানা জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার সংস্থা আমাদের দেশের দারিদ্র্য নিরসনের জন্য দিনরাত প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাইয়া আসিতেছে। তবু দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যাইতেছে না।
বস্তুতঃ নিজের দারিদ্র্য অপর কেহ আসিয়া মোচন করিতে পারে না। দারিদ্র্য শৃংখল হইতে মুক্ত হইবার জন্য অনবরত চেষ্টা চালাইয়া যাইতে হয়। কথায় বলে, আলøাহ তাহাদেরকে সাহায্য করেন, যাহারা নিজেদেরকে সাহায্য করে (অষষধয ঐবষঢ়ং যিড় যবষঢ় ঃযবসংবষাবং)।

অন্য কথায়, মানুষ নিজ চেষ্টা ব্যতীত কিছুই করিতে পারে না। ÿুদ্রঋণ হইতে পারে একটি সহায়। তবে ÿুদ্রঋণ ব্যবস্থাপনাকে যেমন ত্রæটিমুক্ত করিতে হইবে, তেমনি উন্নয়নের জন্য মানুষের মধ্যে জাগাইয়া তুলিতে হইবে কর্মস্পৃহা ও উদ্দীপনা। মানুষের অদম্য মনোবল, উদ্যম ও একনিষ্ঠ পরিশ্রম ব্যতীত দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। সত্যি কথা বলিতে কি, বিদেশী সাহায্য আমাদের দারিদ্র্য বিমোচনের সহায়ক নয়। তাহাদের ঋণ নিয়া স্বাধীনভাবে বিনিয়োগ না করিতে পারা আরো বিপজ্জনক। ইহাছাড়া আমাদের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যায়-অবিচার এবং সমান সুযোগ ও অধিকার লাভের অভাবও দারিদ্র্যের প্রতিবন্ধক।

অন্য কথায় শুধু ÿুদ্রঋণের উপরই দারিদ্র্য নিরসনের ভার ছাড়িয়া দেওয়া যায় না। ইহার জন্য মানুষের মধ্যকার অমিত সম্ভাবনা ও শক্তিকে জাগ্রত করা প্রয়োজন। প্রয়োজন ÿুদ্রঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিশেষ নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা। এইজন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বা এমআরও সম্প্রতি সনদ গ্রহণে যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করিয়াছে তাহাকে আমরা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসাবেই বিবেচনা করি।

0 comments:

Post a Comment