প্রসঙ্গ ঃ ÿুদ্রঋণ মেলা
আলী ফোরকান
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চারদিনব্যাপী একটি ÿুদ্রঋণ মেলা শুরু হইয়াছে। মেলায় গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, উদ্দীপন, পদÿেপসহ বিভিন্ন এনজিও ১৩১টি স্টল খুলিয়াছে। ইহাতে ÿুদ্রঋণ গ্রহীতাদের তৈরী বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হইয়াছে। মেলা উদ্বোধন করিয়াছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ। তিনি বলিয়াছেন, ÿুদ্রঋণ নিয়া কেবল পণ্য উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয়। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতও করিতে হইবে। তিনি সরকার ও ÿুদ্রঋণ সংস্থাগুলিকে এ ব্যাপারে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণের আহŸান জানান। ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ আরো বলিয়াছেন, ÿুদ্রঋণ এখন সমগ্র অর্থনীতিতে ভ‚মিকা রাখার পর্যায়ে উপনীত হইয়াছে। ইহা এখন বিকাশের এমন পর্যায়ে রহিয়াছে যে, ইহাকে ÿুদ্র ও মাঝারি ঋণও বলা চলে।
এই দাবী অস্বীকার করার কোন সুযোগ নাই। এনজিওদের প্রদত্ত ঋণে বা¯Íবেই বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে নারীদের একটি জাগরণ শুরু হইয়াছে। অতীতে বাংলাদেশের নারীরা কর্মÿেত্রে নিষ্ক্রিয় ছিল তাহা নয়, তাহারা সংসারে প্রচুর কাজ করিত। তবে এই কাজের অর্থমূল্য ধরা হইত না এবং তাহাদের কাজ প্রকাশ্যে স্বীকারও করা হইত না। এনজিওরা নারীদের ঋণ প্রদান করিয়া তাহাদের পণ্য উৎপাদনে জড়িত করে। বিশেষ করিয়া এই পণ্য বাজারজাত করার পর তাহারা হাতে টাকা পায়। ফলে তাহারা যে দেশের অর্থনীতির মূলস্রোতে তাহাদের নিশ্চিত হয়। বলার অপেÿা রাখে না, তাই সকলে স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছে যে তাহারা জাতীয় অর্থনীতির অংশীদার। ইহাতে তাহাদের সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পাইয়াছে।
বলার অপেÿা রাখে না, পণ্য উৎপাদনই যথেষ্ট নয়। ইহার বাজারজাতকরণও প্রয়োজন। যে কোন উৎপাদিত পণ্যের ÿেত্রে ইহা প্রযোজ্য। ঘরে বা নিজেদের ব্যবহারের জন্য লোকেরা পণ্য উৎপাদন করে না, তাহা নয়, তবে তাহার পরিমাণ খুবই অল্প। কিন্তু যাহারা ঋণ নিয়া পণ্য উৎপাদন করে তাহারা এ কাজটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতেই করে। তাহাদের কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা। মুনাফার কথা চিন্তা করিয়া দেশের নারীরা কর্মযজ্ঞে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছে এবং তাহারা লাভবানও হইতেছে। বাংলাদেশের নারীদের এই কর্মকাণ্ড এখন ব্যাপক সন্দেহ নাই। তবে এই কর্মকাণ্ড সফল হইতে হইলে তাহাদের উৎপাদিত পণ্য বেশী মুনাফা লাভের প্রয়োজনে বিদেশে বিক্রয় করিতে হইবে। দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, আমাদের নারীদের উৎপাদিত পণ্যের বিদেশে রপ্তানি এখনো কম। আর সে কারণে তাহাদের লাভও কম। তাহাদের পণ্য উৎপাদন সাফল্যমণ্ডিত করিতে হইলে সরকার ও এনজিওসহ বেসরকারী রপ্তানিকারকদের আগাইয়া আসিতে হইবে।
ইহা কাহারো অজানা নয় যে, যাহারা পণ্য উৎপাদন করে, বেশীর ভাগ ÿেত্রে তাহারা রপ্তানিকারক নয়। রপ্তানিকারকেরা মধ্যবর্তী ব্যবসায়ী। তাহারা উৎপাদকদের নিকট হইতে পণ্য সংগ্রহ করিয়া বিদেশে রপ্তানি করে। যাহারা এনজিওদের নিকট হইতে ঋণ নিয়া রপ্তানি যোগ্য পণ্য উৎপাদন করে তাহাদের পণ্য অনেক মধ্যবর্তী ব্যবসায়ী সংস্থা বিদেশে রপ্তানি করিতেছে। বস্তুত সে কারণে দেশের উৎপাদক নারীরা উৎসাহিত হইয়া পুরা দমে কাজ করিয়া যাইতেছে।
পণ্য বাজারজাত করার, বিশেষ করিয়া রপ্তানি করার কাজটি নারী কর্মীদের দ্বারা সম্ভব নয় বিধায় এ কাজটির দায়িত্ব অন্যদের গ্রহণ করিতে হইবে। এনজিওদের পÿে এ কাজটি করা সহজ। এÿেত্রে সরকার অবশ্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা প্রদান করিতে পারে। সকল দেশে তাহাই করা হয়। পণ্য রপ্তানি করা হয়। পণ্য রপ্তানির ÿেত্রে যাহা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ তাহা হইতেছে পণ্যের মান ও ডিজাইন। অন্যটি হইতেছে প্রযুক্তির ব্যবহার। ডিজাইনে বৈচিত্র্য না থাকিলে এবং তাহার মান উন্নত না হইলে বিদেশে ইহার কদর হইবে না। যে সম¯Í এনজিও ইহাদের অর্থ যোগান দেয় তাহাদের এই বিষয়টি সম্যকভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। মনে রাখা প্রয়োজন, অনেক পণ্য রহিয়াছে যে পণ্য বাংলাদেশ যেমন উৎপাদন করে ঠিক তেমনি উৎপাদন করে বহির্বিশ্বের অনেক দেশ। শেষোক্ত দেশের পণ্য উন্নত বলিয়া আমাদের ধনীরা তাহা ক্রয় করিয়া ঘরে ব্যবহার করে। সে জন্য এনজিওদের কয়েকটি সংস্থা তৈরী করা উচিত যেখান হইতে আমাদের উৎসাহিত নারীরা বৈচিত্র্যপূর্ণ উন্নত ডিজাইন পাইবে। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সাহায্য। তাহা হইলে পণ্যের মান উন্নত হইবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও নাগালের মধ্যে থাকিবে। ÿুদ্রঋণ মেলার উদ্দেশ্য এদেশে তৈরী শিল্প পণ্য ও তাহাদের উদ্যোগ দেশী বিদেশী সকলের সম্মুখে তুলিয়া ধরা। আসলে মেলার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত উন্নতমানের পণ্য মেলায় প্রদর্শন করা
0 comments:
Post a Comment