শিÿা হোক আনন্দময়
আলী ফোরকান
‘সুবিধা বঞ্চিত সাড়ে ৭ লাখ শিশুর জন্য স্কুলসহ ৭৩টি শিশুকল্যাণ ট্রাস্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।’ কথাটি শুনতে যতটা ভালো লাগছে ততটা ভালো লাগবে না বা¯Íবায়ন পর্যন্ত গেলে। কেননা, এই সিদ্ধান্ত যাদের মাধ্যমে বা¯Íবায়ন করবে সরকার তারা কতটা ভাল তার উপরই নির্ভর করবে এর বা¯Íবায়ন। তারা যদি পিঁপড়ের গুড় খাওয়ার মত করে খেয়ে ফেলে তাহলে ‘আনন্দ স্কুল’Ðএর আনন্দ তো পুরোটাই ভে¯েÍ যাবে। আমরা একটু পেছনে ফিরে গেলে দেখবো ১৯৮৬, ৮৭, ৮৮, ৮৯ এবং ৯০ পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ‘পথকলি’ পরিকল্পনাও বা¯Íবায়ন হয়নি এই চাটুকার পিঁপড়েদের জন্য। সে সময় এরশাদ সরকার বিভিন্নভাবে সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদেরকে ‘পথকলি’ আখ্যা দিয়ে পড়ার ব্যবস্থা, থাকার ব্যবস্থা, খাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইলেও ‘চাটুয়া বাহিনী’ সেই চেষ্টার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনাটিকেই খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। যাকে বলে শুরুর আগেই শেষ। এÿেত্রে বর্তমান সরকার যদি তী² দৃষ্টি দিয়ে খেয়াল রেখে এগিয়ে যেতে পারে তবে হয়তো হবে ‘আনন্দ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বা¯Íবায়ন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত এই শিশু-কিশোরদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা বলে ইতিমধ্যে সংশিøষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্নরকম অনুদানের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কথিত শিশু যুব সাংস্কৃতিক জোট, বরিশাল শিশু-কিশোর ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু নামকায়া¯েÍর সংগঠন। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আগের দু’টি প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় মেয়াদে দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়নে ‘টেকসই’ পরিকল্পনার আলোকে সংশোধিত প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা। ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আনন্দ স্কুলে মোট চার লাখ ৯১ হাজার ৪১৬ জন শিÿার্থী সমৃক্ত হয়। যার মধ্যে ২০০৯ শিÿাবর্ষে মাত্র ১১ শতাংশ শিÿার্থী প্রাথমিক শিÿা সমাপন করেছে। প্রকল্প ব্যয়ের তুলনায় প্রাপ্তি যথাযথ নয়।
প্রকল্প বা¯Íবায়নের জন্য যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয় তাদের দায়িত্বে অবহেলা আর দুর্নীতির কারণে এত সুন্দর একটি উদ্যোগ পরিণত হয় ‘পন্ডশ্রমে’। চেষ্টা করে দাতা সংস্থাগুলো কিন্তু ভে¯েÍ দেয় আমাদের দেশিয় আমলা, এনজিও এবং সংগঠকরা। মাঠ পর্যায়ের ঝামেলাগুলো। উৎরে যাওয়া সম্ভব হলে আনন্দ স্কুল প্রকৃত অর্থে আনন্দিত হয়ে উঠবে। রাজধানী ঢাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরের সংখ্যা ৫ লÿ। এই ৫ লÿ শিশু-কিশোরদের আÿরিক জ্ঞান, খাবার চাহিদা আর বাসস্থান সমস্যার সমাধানের জন্য আনন্দ স্কুল যথেষ্ট ভ‚মিকা রাখার সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ। ‘কিন্তু’। এই কিন্তুটাই হলো সম্ভাবনার অন্তরালের সমস্যা। সম্ভাবনার উদার আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখির মত করে ‘আনন্দ স্কুলকে’ আনন্দের প্রতিকরূপে দেখতে হলে শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. শিরিনকে আরো দৃঢ় হতে হবে। তিনি একটু কঠোর হলেই ‘আনন্দ স্কুল’ প্রকল্প বা¯Íবায়ন সহজ হবে, সহজ হবে সুবিধাবঞ্চিতদের পড়ালেখার রা¯Íা। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ‘পথকলি’ নাইবা হলো পথফুল তো হতে পারে আনন্দ স্কুল-এর মাধ্যমে। একটি দেশের মূল হাতিয়ার তার শিশু-কিশোর-যুব সমাজ। তারা আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদেরকে অÿর জ্ঞান, সামাজিক, সুন্দর করে গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রথমত পরিবারের; পরিবার ব্যর্থ হলে সমাজের, সমাজ ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের। অর্থাৎ রাষ্ট্রের চালিকা শক্তির নেপথ্য কারিগরদের। এই অর্থে এখন আমাদের ৭ লাখ সুবিধাবঞ্চিতই শুধু নয় সারাদেশে প্রায় ৭০ লাখ ৬০ হাজার শিশু-কিশোর আছে, যারা সুবিধাবঞ্চিত। এরা কেউ স্কুলে যেতে পারছে না, কেউ পরিবারের বোঝা বইতে গিয়ে কাজ করছে, আবার কেউ আর্থিক টানাপোড়েনের সূত্র ধরে বিভিন্ন ছোটখাটো অন্যায় করে কিশোর অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে। সবার জন্য ‘আনন্দ স্কুল’ চালু হোক। চালু হোক আগামীর উন্নয়নের জন্য। ‘আমাদের বর্তমান প্রজন্ম আগামীর নেতৃত্ব দিবে।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উক্তি যদি সত্যি করতে হয় তাহলে ‘আনন্দ স্কুল’ সঠিকভাবে বা¯Íবায়ন করতে হবে। কোনরকম ছল চাতুরির বা ফাঁকিবাজী নয়; সঠিকভাবে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ‘ আনন্দ স্কুল’-এর এবারের উদ্যোগ বা¯Íবায়ন হলে আমাদের সুবিধাবঞ্চিত ৭০ লাখ না হোক ৭ লাখ শিশু-কিশোর দেখবে আলোর মুখ। আলোকিত হবে জ্ঞানের আলোয়। ছড়াকার আহমেদ কায়সারের মতো বলতে হয় ‘ফুল গুলো পথে পথে’ আর পড়ে থাকবে না। উঠে আসবে বা¯Íবতার সিঁড়িতে। ‘সারাদিনের ক্লান্ত দেহ/ চোখের কোণে ঘুম/ কুপি বাতির আলো মুখে/ দেয় এঁকে দেয় চুম/ রাত্রি যখন নিরব নিঝুম/ স্বপ্ন দ্যাখে আখি/ জীবন চলার পথের রেখা/ আরো অনেক বাকি এই আখিদের জন্য আনন্দ স্কুল যেন হয় আনন্দের ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ।
0 comments:
Post a Comment