Monday, March 12, 2018

জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সন্ধানে

জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সন্ধানে
আলী ফোরকান
 উন্নয়নের স্বার্থে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালাম। গত সোমবার ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আগে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে প্রাধান্য দেয়া হতো, আর আজ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী প্রাধান্য পাচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য আগে লÿ্য নির্ধারণ করতে হবে। এ ÿেত্রে প্রধান লÿ্য হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন। শিÿা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ÿেত্রে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতাই হবে ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও উন্নয়নের চালিকা শক্তি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বিশ্বায়নের এই যুগের প্রেÿাপটে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল বলেছিলেন, ঞযব নধঃঃষব ড়ভ ঃযব ভঁঃঁৎব রিষষ নব নধঃঃষব ভড়ৎ ঃধষবহঃং. বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনের জন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে নিজেদের প্রয়োজনেই। বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। বিশ্বায়নের কিছু কুফল থাকলেও এর সুফলও রয়েছে, যদি সুফলের দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া বা¯Íবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে এর সুবাদে গোটা বিশ্ব এক পরিবারে পরিণত হতে পারে। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং জ্ঞানেরও বিনিময় হবে। ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অবদানের সুফল পাবে সবাই। চেষ্টা না থাকলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার সমূহ সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো যাবে না। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রæত অপসারণ করা তাই অপরিহার্য। অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এদেশে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার অন্যতম হলো সরকারি নীতি এবং শিÿাঙ্গনে উপযুক্ত পরিবেশের অভাব। উন্নত দেশে গবেষণার ÿেত্রে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। আমাদের দেশে এই খাতে বরাদ্দ খুবই কম। এ ছাড়া উদ্ভাবক এবং উদ্ভাবনকেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয় না। জ্ঞান-বিজ্ঞান লালনে আমাদের উদাসীনতা আছে। জ্ঞান বিকশিত করার ÿেত্র শিÿাঙ্গন। শিÿাঙ্গনকে বলা হয়, ‘সেন্টার ফর এক্সেলেন্স’। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো দেশের উচ্চ শিÿাঙ্গনগুলোতে নৈরাজ্য বিরাজমান থাকায় সেখানে শিÿার পরিবেশ নেই। শিÿার্থীরা জ্ঞান অšে¦ষণে ব্রত হওয়ার পরিবর্তে ভিন্নতর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্র¯Í হচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, জ্ঞান ও প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বই আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি বা দেশের পরিচয়ের মাপকাঠি। দÿতাগুণে ভারতীয়রা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান করে নিতে সÿম হচ্ছে। এই সুবাদে সংস্থাগুলোর নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তেও তারা প্রভাব বি¯Íার করছে। যা তাদের দেশের স্বার্থকে সংরÿিত করছে। দÿ জনশক্তি রাষ্ট্রের সম্পদ। পশ্চিমা দেশগুলোতে জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকায় সেসব দেশে কর্মÿম লোকের অভাব দেখা দিয়েছে। শূন্যতা পূরণের জন্য ওই দেশগুলোকে বিভিন্ন দেশ থেকে দÿ লোক নিতে হচ্ছে, এতেও চাহিদা পূরণ না হওয়ায় অবসরপ্রাপ্তদের বিভিন্ন পদে পুন:নিয়োগ দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। এক তথ্যে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০ লাখ লোকের প্রয়োজন হবে। ২০৬০ সালের মধ্যে প্রয়োজন হবে ৪ কোটি ৬০ লাখ লোক। আমাদের মতো জনাধিক্যের দেশের জন্য এটা একটা সুখবর। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সÿম হলে জনসংখ্যার একটা উলেøখযোগ্য অংশের কর্মসংস্থান হবে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। এতে একদিকে মোটা অংকের রেমিট্যান্স যেমন আসবে, অন্যদিকে উন্নত দেশে কাজে লব্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ গঠনেও অবদান রাখতে সÿম হবে অনেকেই। প্রতিবেশি দেশ ভারত এই সুযোগ ইতিমধ্যেই কাজে লাগাতে সÿম হয়েছে। বিশ্বায়নের সুফল পেতে হলে উন্নত প্রযুক্তি শেয়ার করতে হবে অবশ্যই। বর্তমানে জ্ঞান আহরণের অপরিমেয় সুযোগ বিদ্যমান। তথ্য প্রযুক্তির অসাধারণ উন্নতি এই সুযোগ হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির ÿেত্রে আমরা কিছুটা দÿতা ইতিমধ্যে অর্জন করলেও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার ÿেত্রে তা অপ্রতুল। জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ করতে হলে জ্ঞান অšে¦ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিÿার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আর তাহলেই কেবল জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। 

0 comments:

Post a Comment