Sunday, March 11, 2018

বাংলাদেশে উচ্চশিÿার মান আমাদের করণীয়

বাংলাদেশে উচ্চশিÿার মান আমাদের করণীয়
আলী ফোরকান 
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে উচ্চশিÿার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নাই যে, স্বাধীনতার পর থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিÿার মানের ক্রমশ অবনতি হয়েছে। আমাদের দেশে উচ্চশিÿা লাভের প্রধান মাধ্যম হল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ মাধ্যমিক শিÿা শেষ করার পর সাধারণত একজন শিÿার্থী উচ্চশিÿার জন্য কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে ৪ বছরের অনার্স ও ১ বছরের মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ কলেজগুলোতে ৩ বছরের ডিগ্রী পাস কোর্স, ৪ বছরের অনার্স কোর্স এবং ১ বছরের মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮০০ কলেজে, ৩২টি সরকারি (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫৪ টি বেসরকারি (প্রাইভেট) বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিÿা প্রদান করা হচ্ছে। এই সকল উচ্চশিÿা প্রতিষ্ঠানে মূলত আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং গ্রাজুয়েট কোর্স পড়ানো হয়। তবে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রীও প্রদান করা হয়। আমাদের উচ্চশিÿার মান ও ভ‚মিকা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও প্রশ্ন মূলত এইসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ করেই আবতির্ত হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বে উচ্চশিÿার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিÿার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। উচ্চশিÿার প্রসারের সাথে সাথে জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্ঞানের জগতে বহু নতুন জ্ঞানের সংযোজন হয়েছে; সমৃদ্ধ হয়েছে বিশ্ব জ্ঞানভান্ডার। উন্নত দেশে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশে উচ্চশিÿার প্রসারের কারণে জ্ঞানের বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশেও এর ঢেউ লেগেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিÿার উৎকর্ষতা, উঁচু মান এবং অধুনা সৃষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না। এ যুগ বিশ্বায়নের যুগ। সমগ্র বিশ্বকে একটি বৃহৎ পলøীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অতএব, এ বৃহৎ পলøীর এক অঞ্চলের উন্নয়নের প্রভাব অন্য অঞ্চলে পড়তে বাধ্য। তাছাড়া জ্ঞানের জগতে কোন সীমারেখা নেই। জ্ঞান প্রবাহমান, এক থেকে বহুর মধ্যে সঞ্চারিত হয়, যদি না কেউ জ্ঞানবিমুখ হয়। আমাদের দেশে সীমিত আকারে উচ্চশিÿার প্রচলন বহুকাল আগেই শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতে ইংরেজী শিÿার প্রবর্তন হয়, তারপর থেকেই ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে পৃথিবীর এ অঞ্চলে উচ্চশিÿার প্রসার ঘটতে থাকে। তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি কলেজ ছিল, যেখানে উচ্চশিÿা প্রদান করা হতো। এই সীমিত সুযোগ গ্রহণ করেছিল এই অঞ্চলের এক উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণী। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালী মুসলমানেরা ছিল পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর। এর কারণ ছিল ঐতিহাসিকভাবে ইংরেজী শিÿার প্রতি তাদের অনীহা এবং উচ্চশিÿার অত্যন্ত সীমিত সুযোগ। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গভঙ্গের কারণে এ অঞ্চলের মুসলমানদেরও মধ্যে নতুন আশা-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে প্রভাবশালী হিন্দুদের বাধার মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। এতে এ অঞ্চলের মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে ÿোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা উপলব্ধি করেন যে, মুসলমানদের পশ্চাৎপদতার কারণ হল উচ্চশিÿার অভাব। তাই উচ্চশিÿার প্রসারকল্পে তারা ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেন। স্যার নওয়াব সলিমুলøাহ, নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, এ.কে. ফজলুল হক প্রমুখ নেতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। এই পটভ‚মিতে ১৯২১ সালে ঢাকা শহরের রমনার মনোরম পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় এবং সেই বছরের জুলাই মাস থেকে এর শিÿা কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে এ দেশের উচ্চশিÿার ÿেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। ১৯৭০ সাল নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠিত হয় একমাত্র কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় ইধহমষধফবংয টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঊহমরহববৎরহম ধহফ ঞবপযহড়ষড়মু (ইটঊঞ) এবং এই সময়ের মধ্যে প্রায় প্রতিটি জেলায় ১টি করে সরকারি কলেজ ও বেশ কিছু বেসরকারি কলেজও প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজগুলি ছিল মূলত ঢাকা, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। গত শতাব্দীর ‘৩০ থেকে ‘৬০-এর দশকের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক জ্ঞানী-গুণীর সমাগম ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় তার মানসম্মত শিÿার ও গবেষণাকর্মের জন্য সুখ্যাতি অর্জন করে। বহু গুণী শিÿক এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিÿা ও গবেষণা কর্মের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এইচ টার্নার, জিএইচ ল্যাঙ্গালী, হরিদাস ভট্টাচার্য, রমেশচন্দ মজুমদার প্রমুখ। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন প্রখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী সত্যেন্দ নাথ বোস। বোস আইনস্টাইন তত্তে¡র জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হন এবং এর সাথে ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম। এছাড়াও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন আরও অনেক কৃতী শিÿক। এদের মধ্যে ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুলøাহ, এস.কৃষ্ণা, জ্ঞানচন্দ বোস, মোকাররম হোসেন খন্দকার, কাজী মোতাহার হোসেন, আহমদ হাসান দানী প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু পিএইচডি ও ডিএসসি ডিগ্রী সম্পন্ন করা হয় এ সময়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনেক জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। বলা বাহুল্য, এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য শিÿা প্রতিষ্ঠানের শিÿার মাধ্যম ছিল ইংরেজি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের গ্রন্থাগারগুলো ছিল ইংরেজি বইতে সমৃদ্ধ। জ্ঞানচর্চার এক উন্নত পরিবেশ বিরাজ করছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে। সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিÿার মানের সাথে পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করা যেত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমানের শিÿার প্রভাব প্রতিফলিত হয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব পর্যন্ত এদেশের শিÿার মান ছিল সন্তোষজনক। কিন্ত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিÿার এই মান আমরা ধরে রাখতে পারিনি; পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অন্যান্য শিÿা প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর ইংরেজিসহ বাংলা ভাষাকেও উচ্চশিÿার মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এ কথা সত্য যে, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় উচ্চশিÿা প্রদান করা ছিল তখনকার সময়ের দাবি। তাই এ ধরনের জাতীয় সিদ্ধান্ত তখন গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর একটি নেতিবাচক প্রভাবও জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের ÿেত্রে লÿ্য করা গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে শিÿার মান ক্রমশ অবনতিশীল হয়। নানা কারণে গত ৩০/৪০ বছর যাবৎ এদেশের সব উচ্চশিÿা প্রতিষ্ঠানে শিÿার মান নি¤œমুখী। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সকল ¯Íরে শিÿার মানের অবনতি হয়েছে যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই উচ্চশিÿার ¯Íরেও। বর্তমান শিÿা ব্যবস্থায় শিÿার সকল ¯Íর একই সূত্রে গাঁথা। একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ‘৬০-এর দশক পর্যন্ত আমরা এদেশে উচ্চশিÿার যে মান অর্জন করেছিলাম, স্বাধীনতা উত্তরকালে সে মানের শিÿা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছি। ইংরেজি ভাষা শিÿার অবহেলার কারণে এই সময়ে আমরা আমাদের উচ্চশিÿার ÿেত্রে নিদারুণ নি¤œমান ডেকে এনেছি।  প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিÿার মানের অবনতির ফলে উচ্চশিÿার ¯Íরে প্রবেশ করেছে অপেÿাকৃত নি¤œমানের শিÿার্থীরা। শিÿার্থীদের ইংরেজি শিÿার জ্ঞানের অভাব শিÿার মানকে নি¤œমুখী করেছে। স্বাধীনতার পর যে সকল শিÿার্থী উচ্চশিÿার প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এসেছে তাদের ইংরেজি ভাষায় জ্ঞান খুব কম। কিন্তু উচ্চশিÿার প্রায় সকল গ্রন্থ ( পাঠ্য ও সহযোগী বই), জার্নাল, দলিল-দ¯Íাবেজ ইংরেজিতে লেখা। অথচ শিÿার্থীরা (ছাত্র-ছাত্রীরা) ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের অভাবে এই সকল বই পড়ে আত্মস্থ করতে পারে না। জ্ঞান আহরণ প্রক্রিয়ায় এইভাবে বাধা পড়ে। এর ফলে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান সঞ্চারণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এই বাধা অতিক্রম করা যেত যদি বাংলা ভাষায় প্রচুর সংখ্যক পাঠ্য ও সহায়ক গ্রন্থ রচিত হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এ কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছি। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় উচ্চশিÿার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ গ্রন্থ আমরা বাংলায় রচনা করতে পারিনি এবং বাংলা ভাষায় অনুবাদও করতে পারিনি। ফলে জ্ঞান আদান-প্রদানের যথেষ্ট সুযোগ আজও সৃষ্টি হয়নি। এছাড়াও শিÿাঙ্গনে সন্ত্রাস, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক আধিপত্য বি¯Íারের দ্ব›দ্ব উচ্চশিÿা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিÿা কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিÿাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্ত্রাস, হরতাল ও ধর্মঘটের কারণে নির্ধারিত ছুটির চেয়ে অনির্ধারিত ছুটি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে নিদারুণ সেশনজটের। অবশ্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আপাতত এ সমস্যা থেকে মুক্ত। উচ্চশিÿার ÿেত্রে নি¤œমানের শিÿক নিয়োগ সৃষ্টি করেছে নতুন সঙ্কট। তাছাড়া উচ্চশিÿার অপরিকল্পিত প্রসারও সৃষ্টি করেছে নতুন সমস্যার। নব্বই এর দশক থেকে উচ্চশিÿার প্রসারকল্পে দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক কারিগরি ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এর নিশ্চয়ই একটি ইতিবাচক দিক আছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটানোর জন্য কারিগরি, কৃষি এবং মেডিকেল শিÿার প্রসার অতীব জরুরি। কিন্তু কৃষি ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিÿার মান নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। উন্নতমানের কারিগর ও কৃষিবিদ তৈরি করতে হলে যে উন্নতমানের গবেষণাগার; উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও কলা-কৌশল দরকার তা বলাই বাহুল্য। একদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একজন কৃতী শিÿক ও গবেষক আমাকে বলেছিলেন যে, সে বিভাগের ল্যাবরেটরী কমপÿে পঞ্চাশ বছরের পুরানো (ড়ঁঃফধঃবফ)। তাই যদি অবস্থা হয়, তাহলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়-সে কারিগরি কিংবা কৃষি কিংবা সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যাই হোক না কেন- তাদের ল্যাবরেটরীর কি হাল হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। উপযুক্ত ও মানসম্মত প্রশিÿক এবং প্রশিÿণের কোন বিকল্প নাই। 

0 comments:

Post a Comment