নূতন শিÿাবর্ষে শিÿার্থীদের হাতে নূতন বই প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন
আলী ফোরকান
নূতন বৎসরে নূতন বই হাতে পাওয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ¯Íরের শিÿার্থীদের জন্য মহা আনন্দের বিষয়। এই মধুর অভিজ্ঞতা কাহারও অজানা থাকার কথা নয়। দুঃখের বিষয়, পরিসংখ্যান ঘাটিয়া দেখা যায়, গত কয়েক বৎসর ধরিয়া প্রাইমারি ও হাইস্কুলের শিÿার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় পাঠ্যপু¯Íক পৌঁছানোর নামে চলিয়া আসিতেছে লুকোচুরি খেলা। এবারও তাহার ব্যত্যয় লÿ্য করা যাইতেছে না। বিনামূল্যে প্রাথমিক ও এবতেদায়ির পাঠ্যবই আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ কর্মসূচি শুরু হইয়াছে ১ জানুয়ারি ২০০৯ হইতে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থান হইতে এ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাইতেছে। নীলফামারিতে প্রায় ৩৪ লÿ টাকা মূল্যের ৭৩ হাজার ৬৭৬টি নূতন বই বিক্রি ও পাচার করিয়া সেখানকার জেলা প্রাথমিক শিÿা অফিসের সহকারী মনিটরিং অফিসার এখন লাপাত্তা। অন্যদিকে গত ৬ জানুয়ারি হইতে মাধ্যমিক ¯Íরের প্রথম ধাপের ১৪টি বই বাজারে আসার কথা ছিল। কিন্তু এনসিটিবির কথার সহিত বা¯Íবের কোন মিল নাই। সময়মত বই কিনিতে না পাইয়া অভিভাবকগণের হতাশা ও দুশ্চিন্তা বাড়িতেছে আর শিÿার্থীদেরও ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গিয়া যাইতেছে।
গত শিÿাবর্ষে ২, ১৪ এবং ১৭ জানুয়ারি এই তিন ধাপে মাধ্যমিক ¯Íরের বই বাজারে ছাড়া হইয়াছিল। চলতি বর্ষে ৬ জানুয়ারি ১৪টি, ১৫ জানুয়ারি ৩৭টি এবং ২৬ জানুয়ারি অবশিষ্ট ২২টি বই বাজারে আসার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। প্রথম ধাপের বইগুলি হইল।।ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং নবম ও দশম শ্রেণীর বাংলা গদ্য, বাংলা কবিতা, ইংরেজি, মাধ্যমিক বীজগণিত ও মাধ্যমিক জ্যামিতিসহ অতি জরুরি ১৪টি বই। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বাংলাবাজার ও নীলÿেত মার্কেট তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিয়াও উপরোক্ত বইগুলি পাওয়া যায় নাই। বলা হইতেছে, আগামী সপ্তাহের শেষদিকে এসব বই বাজারে পাওয়া যাইতে পারে। ইহাতে সিডিউল জটের আশংকা দেখা দিয়াছে। কোন কারণে অভিভাবক ও শিÿার্থীদের বিড়ম্বনা বাড় ক তাহা কাহারও কাম্য হইতে পারে না।
প্রতি বৎসর প্রাইমারি স্কুলের বই বিতরণকে কেন্দ্র করিয়া নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রকৃতপÿে প্রাথমিক স্কুলের তুলনায় কিণ্ডারগার্টেনের সংখ্যা কোন অংশে কম নহে। কিন্তু এদিকে কর্তৃপÿের কোন নজর নাই বলিলেই চলে। সাধারণত কিণ্ডার গার্টেনগুলিতে বিনামূল্যে প্রাথমিক বই সরবরাহ করা হয় না। ফলে প্রতি বৎসরই একটি দুর্বৃত্ত চক্র বিনামূল্যের প্রাথমিক বই কিণ্ডারগার্টেনগুলিতে পাচার এবং উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য সুযোগের অপেÿায় থাকে। এই কাজে জড়িত থাকে প্রাথমিক শিÿা অফিসের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের লাইব্রেরি মালিক এবং কিণ্ডারগার্টেন কর্তৃপÿ। পর্যাপ্ত বই ছাপার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এই সমস্যা সহজেই সুরাহা হইবে না। এদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৭৬টি বই ছাপানোর জন্য ২৯১টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু যে পরিমাণ বই ছাপা হইতেছে তাহা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ফলে নূতন বই বাজারে আসামাত্র নূতন করিয়া যে সংকট সৃষ্টি হইবে তাহা বলাই বাহুল্য।
বাজারে নূতন বর্ষের নূতন বই বিলম্বে আসার কারণ সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী নানা বক্তব্য পাওয়া যাইতেছে। প্রকাশকগণ বলিতেছেন, এনসিটিবি হইতে সঠিক সময়ে কাগজ ও বইয়ের পজেটিভ বা ট্রেসিং না পাওয়া এবং গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া প্রেসগুলির ব্য¯Íতা থাকার কারণে তাহাদের পÿে নির্ধারিত সময়ে বই দেওয়া সম্ভব হইতেছে না। আবার অনেকে নূতন সরকার ÿমতায় আসার পর বই নিয়া সরকারবিরোধী মতাদর্শের কোন মহল ‘স্যাবোটাজ’ করিতেছে বলিয়া অভিযোগ তুলিতেছেন। কোন্টি সত্য তাহা নিশ্চিত করিয়া বলা কঠিন। তবে বিলম্ব যে কারণেই হউক, বিষয়টি সরকারকে গভীরভাবে ভাবিয়া দেখিতে হইবে এবং কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যথাসময়ে বই তুলিয়া দেওয়ার জন্য ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। আমরা মনে করি, প্রতিটি শিÿাবর্ষের জন্য এ ধরনের প্র¯Íুতি কার্যক্রম অনেক আগে হইতেই শুরু করা উচিত। জানুয়ারি ১ তারিখ হইতেই প্রাইমারি ও মাধ্যমিক ¯Íরের বই বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। সুষ্ঠুভাবে বই বিতরণ ও বইপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পড়াশোনার পরিবেশ ও মান উন্নয়নেও সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
0 comments:
Post a Comment