পাঠ্যবই সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে
আলী ফোরকান
বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৬টি জেলায় মাধ্যমিক ¯Íরের পাঠ্য বইয়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এক মাস আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিÿা কার্যক্রম শুরু হলেও ৬৪টি বইয়ের মধ্যে মাত্র ১৪টি বই বাজারে ছাড়তে পেরেছে কর্তৃপÿ। অর্থাৎ প্রতি শ্রেণীর বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বই ছাড়া আর কোনো বই এখনো আসেনি। বর্তমানে দ্বিগুণ দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না শিÿা বোর্ড প্রণীত এসব বই। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আর এই কয়েকদিনের মধ্যে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে বই সংকট ৯৬ সালের পরিস্থিতিকেও হার মানাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ঐ সময় মাত্র ২৪ টাকার নবম শ্রেণীর বীজগণিত বই বিক্রি হয়েছিল ১১০ টাকায়। আর গতকাল বৃহস্পতিবার নবম শ্রেণীর ৪৬ টাকা মূল্যের ইংরেজি বই ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
আন্দরকিলøা বইয়ের মার্কেটে বই কিনতে আসা আবু তাহের ভুঁইয়া নামে এক সরকারি চাকরিজীবী আÿেপ করে ইত্তেফাককে বলেন, বইয়ের গায়ে যে দাম লেখা আছে তার থেকে বেশি টাকা দিতে চাই, কিন্তু সেই অনুযায়ী বই পাচ্ছি না। বোর্ডের হোয়াইট প্রিন্টের বইয়ের বদলে এখন নিউজ প্রিন্টের নকল বই কিনছি। তাও আবার বেশি দাম দিয়ে। এদিকে শিÿা বোর্ডের প্রকাশিত বই সংকটের সুযোগ নিয়ে বাজারে এসেছে বিপুল পরিমাণের নিম্নমানের নকল বই। কিন্তু নকল বই হলেও এর দামও রাখা হচ্ছে আসল বইয়ের তুলনায় অনেক বেশি। আর এসব বইয়ের ছাপার মান এত খারাপ এবং অস্পষ্ট যে, কোমলমতি শিশুদের পড়ায় সমস্যার সৃষ্টি হবে। এছাড়া বিক্রির আগেই খুলে যাচ্ছে বইয়ের বাঁধাই।
বাংলাদেশ পু¯Íক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাবের আহমদ ইত্তেফাককে বলেন,সারাদেশে পাঠ্য বইয়ের প্রকাশনা ও সরবরাহ ঢাকার কয়েকটি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। সরকার এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাবে। আমরা এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে চাহিদার ৫০ শতাংশ বইও সরবরাহ পাইনি।
সমিতির কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও ফেনী জেলায় যষ্ঠ শ্রেণীতে ২ লাখ, সপ্তম শ্রেণীতে ১ লাখ ৫০ হাজার, অষ্টম শ্রেণীতে ১ লাখ ২০ হাজার ও নবম শ্রেণীতে প্রায় ১ লাখ সেট বইয়ের চাহিদা রয়েছে। জানুয়ারির প্রথম দিকে শিÿা কার্যক্রম শুরু হলেই শহরের শিÿার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করে। আর জানুয়ারির শেষ দিক থেকে ফেব্রæয়ারির প্রথম সপ্তাহে বই কেনে গ্রাম অঞ্চলের লাইব্রেরিগুলো।
জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এবার চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি বই বাজারে আসনি। যে তিন ধরনের বই এসেছে সেগুলো প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় বইয়ের বাজার আন্দরকিলøা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতারা দোকানের পর দোকান ঘুরেও কাঙিÿত বই পাচ্ছে না। কোনো কোনো দোকানে বই পাওয়া গেলেও দাম শুনে তাদের চমকে উঠতে হয়েছে। আর এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ঝগড়া স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জমজম প্রকাশনীর ম্যানেজার জানান, অষ্টম শ্রেণীর প্রতিটি গণিত বই মূল দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশি দামে ঢাকা থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এর সাথে অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পর বইয়ের দাম ১৫ টাকা বেড়ে যায়। কিন্তু ক্রেতারা এটা বুঝতে চায় না। গোলাম মো¯Íফা নামে এক বই ব্যবসায়ী বলেন, “বাড়তি দামে বই এনে ঝগড়া করার চেয়ে না আনাই ভালো। তাই আমি কোনো বই আনিনি।” ছাত্র শিÿক লাইব্রেরির মালিক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আমরা বই পাচ্ছি না। এই সংকটের কারণে প্রতিদিনই বইয়ের দাম ১ থেকে ২ টাকা করে বাড়ছে।
0 comments:
Post a Comment