বাংলাদেশ-ভারত বহুমাত্রিক সম্পর্কের চার দশক
আলী ফোরকান
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। এই বহুমাত্রিক সম্পর্কের সূচনা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যদয়ের ১০ দিন আগেই ভারত সরকার বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বিকৃতি প্রদান করে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিনকে লেখা এক পত্রে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের কথা ঘোষণা করেন। ইন্দিরা গান্ধী তার স্বীকৃতি পত্রে লিখেন:
উবধৎ চৎরসব গরহরংঃবৎ,
গু পড়ষষবধমঁবং রহ ঃযব এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ওহফরধ ধহফ ও বিৎব ফববঢ়ষু ঃড়ঁপযবফ নু ঃযব সবংংধমব যিরপয যরং ঊীপবষষবহপু ঃযব অপঃরহম চৎবংরফবহঃ ঝুবফ ঘধুৎঁষ ওংষধস ধহফ ুড়ঁ ংবহঃ ঃড় সব ড়হ উবপবসনবৎ ৪. ঙহ ওঃং ৎবপবরঢ়ঃ, এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ওহফরধ ড়হপব ধমধরহ পড়হংরফবৎবফ ুড়ঁৎ ৎবয়ঁবংঃ ঃড় ধপপড়ৎফ ৎবপড়মহরঃরড়হ ঃড় ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব'ং ৎবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ইধহমষধফবংয যিরপয ুড়ঁ ষবধফ রিঃয ংঁপয ফবফরপধঃরড়হ. ও ধস মষধফ ঃড় রহভড়ৎস ুড়ঁ ঃযধঃ রহ ঃযব ষরমযঃ ড়ভ ঃযব পরৎপঁসংঃধহপবং যিরপয ঢ়ৎবাধরষ ধঃ ঢ়ৎবংবহঃ, এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ওহফরধ যধাব ফবপরফবফ ঃড় মৎধহঃ ঃযব ৎবপড়মহরঃরড়হ. বাংলাদেশকে স্বিকৃতি দেয়ার ঘোষণা সম্বলিত এই ঐতিহাসিক পত্রটি ক‚টনৈতিক যোগাযোগের সূচনা হলেও ভারতের সঙ্গে আমাদের সংশিøষ্টতার বিষয়টি সর্বজন বিধিত। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে বাংলাদেশের মুক্তিপাগল জনতার পাশে দাঁড়ায় ভারতীয় মিত্র বাহিনী। এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় ভারত। পৃথিবীর দেশে দেশে ঘুরে বেড়িয়ে বাংলাদেশের পÿে বিশ্ব জনমত তৈরীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভ‚মিকা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি হিসাবে সর্বপ্রথম ভারত সফর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকি¯Íানের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফেরার পথে লন্ডন হয়ে দিলøী পৌঁছান তিনি। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পালাম বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানান। সে সময় বিমান বন্দরে সমবেত লাখো মানুষের সামাবেশে বক্তব্য রাখেন ভারত সফরকারি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্র প্রধান। একই বছর ফেব্রæয়ারীতে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পুনরায় ভারত সফরে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার পরের মাসেই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সফরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিসেস গান্ধী। ১৯৭৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভারত সফর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তারপর থেকে অল্প বি¯Íর সময়ের ব্যবধানে চলতে থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ চৌধুরী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মেয়াদকালীন বিভিন্ন সময়ে নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সফর করেন। পÿান্তরে ভারতের প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখর, প্রধানমন্ত্রী দেব গৌড়া, প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংসহ প্রমুখ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বাংলাদেশ সফর করেন।
এই সকল সফরকে সামনে রেখে অথবা প্রয়োজনের নিরীখে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাÿিক সম্পর্কের ÿেত্রে বিগত ৩৮ বছরে স্বাÿর হয় অসংখ্য চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল। এর মধ্যে উলেøখযোগ্য হচ্ছে ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঢাকা সফরকালে সম্পাদিত মৈত্রী, শান্তি ও সহযোগিতা সংক্রান্ত ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি, ১৯৭২ সালের ২৮ মার্চ সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি যা ১৯৮০, ১৯৯৮, ২০০৬ এবং সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রæয়ারী নতুন ধারা সংযুক্তির মাধ্যমে পূনঃস্বাÿর হয়, ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নয়াদিলøী সফরকালে সম্পাদিত অনির্দিষ্টকাল মেয়াদী ভ‚মি সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তি, ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর সম্পাদিত অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রটোকল যা ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ নবায়ন করা হয়, ১৯৭২ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্বাÿরিত অনির্দিষ্টকাল মেয়াদী সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি, উপমহাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল নয়াদিলøীতে স্বাÿরিত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকি¯Íানের মধ্যকার ত্রিপÿীয় চুক্তি, ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি ঋণ সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত প্রটোকল, ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকায় স্বাÿরিত প্রাপ্যতা অনুসারে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন সংক্রান্ত চুক্তি, ১৯৭৮ সালের ৪ মে ঢাকায় স্বাÿরিত দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ সংক্রান্ত চুক্তি, ৭ অক্টোবর ১৯৮২ সালে সম্পাদিত অনির্দিষ্টকাল মেয়াদী যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন গঠন সংক্রান্ত চুক্তি, ১৯৯১ সালের ২৭ আগস্ট সম্পাদিত দ্বৈত কর পরিহার ও মুদ্রা পাচার রোধ সংক্রান্ত অনির্দিষ্টকাল মেয়াদী চুক্তি, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিলøীতে স্বাÿরিত ৩০ বছর মেয়াদী ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তি, ১৯৯৯ সালের ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যকার স্বাÿরিত মটরযান যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তি এবং একই তারিখে সম্পাদিত দুই বছর অন্তর নবায়নযোগ্য ঢাকা কলকাতা যাত্রীবাহী বাস পরিচালনা সংক্রান্ত প্রটোকল, ২০০০ সালের ৪ জুলাই সম্পাদিত ২ বছর মেয়াদী বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যকার রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি, ২০০১ সালের ১০ জুলাই সম্পাদিত ঢাকা-আগরতলা যাত্রীবাহী বাস পরিচালনা সংক্রান্ত প্রটোকল, ২০০৬ সালের ২১ মার্চ স্বাÿরিত অবৈধ মাদকদ্রব্য পরিবহন প্রতিরোধ সংক্রান্ত অনির্দিষ্টকাল মেয়াদে দ্বিপÿীয় চুক্তি, বাংলাদেশের বিএসটিআই এবং ভারতের ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্স মধ্যে ২০০৭ সালের ৬ জুন স্বাÿরিত সমঝোতা স্মারক, ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারী সম্পাদিত বেসামরিক বিমান পরিবহন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রæয়ারি ১০ বছর মেয়াদী বিনিয়োগের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি।
এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপÿীয় চুক্তি এবং সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক দুই দেশের সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা সত্তে¡ও প্রায়শই অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতার দেয়াল বাধাগ্র¯Í করে প্রতিবেশি সুলভ সুসম্পর্ককে। এর দায়ও অবশ্য দ্বিপÿীয়। বা¯Íবতা হচ্ছে অনেক মিলের মধ্যেও অনেক অমিল। উভয় পÿের চাওয়া পাওয়া মধ্যে রয়েছে ফারাক। এখনও নিষ্পত্তির তালিকা থেকে বাধ যায়নি ৫৪ টি অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, ৫১ টি ছিটমহল, ট্রানজিট ইস্যু, সীমান্ত বিরোধ কিংবা পাহাড়সম বাণিজ্য ব্যবধান। আগামী ১০ জানুয়ারী অনুষ্ঠেয় সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম ভারত সফরকে কেন্দ্র করে আবারও চাওয়া পাওয়ার হিসাব কষতে বসেছে উভয় দেশের জনগণ। এই সফরে নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি আর পূর্ব নির্ধারিত ৪ টি চুক্তি স্বাÿরের বাইরেও দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার আলেচনায় বেশ কিছু উলেøখযোগ্য অর্জন অপেÿা করছে বলে উভয় দেশের ক‚টনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে। দেয়া নেয়ার সফল যবনিকা দেখার আশায় দিন গুণছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারত।
0 comments:
Post a Comment