পাঠ্যবই সংকট ঃ দুর্নীতিচক্রের মূলোৎপাটিত হওয়া দরকার
আলী ফোরকান
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় ¯Íরেই পাঠ্যবইয়ের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করিয়াছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এই সংকট দ্রæত নিরসনের তাগিদ দিয়াছেন। শিÿামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ স্বয়ং বাংলাবাজারে গিয়ে বইয়ের সংকট পরিস্থিতি কিছুটা পর্যবেÿণ করিয়াছেন। উলেøখ করা দরকার এই সংকট দীর্ঘদিনের। সারা বৎসর বোর্ড কর্তৃপÿ কিংবা ছাপার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেস মালিক এবং প্রকাশকের সাড়া-শব্দ থাকে না, সংকট নিরসনে ব্যবস্থা হইল কিনা তাহার উদ্যোগ-আয়োজনের কথা শোনা যায় না। শুধু যখন পাঠ্যবই শিÿার্থীদের মধ্যে বিতরণের কথা, তখনই জানা যায় যথাসময় বই ছাপা ও বিতরণের কোন ব্যবস্থাই হইতে পারে নাই। প্রতি বৎসর এইরকমটা হয়। বুঝিতে কষ্ট হয় না ইহা বোর্ড কর্তৃপÿ, ছাপাখানার মালিক এবং প্রকাশকদের সমবায়ে গঠিত একটি ‘ত্রিপÿীয়’ দুর্নীতি চক্রেরই কারসাজি। বৎসরের পর বৎসর পার হয়, এই দুর্নীতিচক্র উচ্ছেদের কোন উদ্যোগই চোখে পড়ে না। আমাদের দেশে নানা কারণে স্কুল-কলেজের শিÿা কার্যক্রম বিঘিœত হয়। রাজনৈতিক কারণে হরতাল-অবরোধ ছাড়াও প্রতিটি শিÿা প্রতিষ্ঠানে কোন না কোন দ্ব›দ্ব-সংঘাত লাগিয়াই আছে। ইহা শিÿার সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করিতেছে। ইহাছাড়া হিসাব করিয়া দেখিলে বৎসরে বিভিন্ন ছুটির কারণে দুই হইতে আড়াই মাস শিÿা প্রতিষ্ঠান এমনিতেই বন্ধ থাকে। ফলে যথাসময়ে সিলেবাস সমাপ্ত করা কঠিন হইয়া পড়ে। ইহার পরও যদি নূতন পাঠ্যবই পাইতে কয়েক মাস চলিয়া যায়, তাহা হইলে শিÿার্থীরা পড়াশুনা করিবে কখন? শিÿকগণইবা কয়দিন ক্লাস না নিয়া বসিয়া থাকিবেন? বলা নিষ্প্রয়োজন যথাসময়ে শিÿার্থীদের কাছে পাঠ্যবই না পৌঁছিবার কারণে অপূরণীয় ÿতি সাধিত হইতেছে। গত বৎসর সাধারণ নির্বাচনের কারণে বিভিন্ন স্কুলের বার্ষিক পরীÿা অনেক আগেই অনুষ্ঠিত হয়। যে কারণে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরিয়া বেশিরভাগ শিÿার্থীর লেখাপড়ার সঙ্গে কোন সংশ্রব নাই। এখন নূতন বৎসরে তাহারা যখন নূতন উদ্যমে লেখাপড়া চালাইয়া যাওয়ার ব্যাপারে উদগ্রীব তখন হাতে নূতন পাঠ্যবই না পাওয়ার দরুন তাহাদের কোমল মনে দুঃখ ও হতাশা সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। চলতি শিÿাবর্ষে মাধ্যমিক ¯Íরের বই তিনধাপে বাজারে ছাড়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ৬ জানুয়ারি ১৪টি, ১৫ জানুয়ারি ৩৭টি এবং ২৬ জানুয়ারি অবশিষ্ট ২২টি বই বাজারে আসার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু যে সংকট দেখা দিয়াছে, তাহাতে সর্বশেষ ধাপের বইগুলি পাইতে ফেব্রæয়ারি মাস পর্যন্ত অপেÿা করিতে হইবে। শিÿার্থীদের জীবন হইতে যাহারা এক/দুই মাস কাড়িয়া নিতে চায় তাহারা আর যাহাই হউক শিÿা এবং দেশপ্রেমের ধার ধারে না। একশ্রেণীর অসাধু প্রকাশক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে সৃষ্ট এই ভোগান্তি ও ÿতি কিছুতেই মানিয়া নেওয়া যায় না। আবার লÿ্যযোগ্য, বইয়ের সংকট যখন চলিতেছে তখন অসাধু প্রকাশকদের ছত্রচ্ছায়ায় বাঁধাই শ্রমিকরা ধর্মঘটে নামিয়াছেন। তাহাদের আসল উদ্দেশ্য মজুরি বৃদ্ধি না সংশিøষ্ট প্রকাশকদের বিলম্বে বই প্রকাশে সহযোগিতা করা তাহা বুঝা খুব যে কঠিন তাহা নয়। বলার অপেÿা রাখে না, যে দালাল চক্র চাল-ডালের ন্যায় বই সরবরাহ ও বিতরণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করিতেছে তাহাদের অবশ্যই শায়ে¯Íা করিতে হইবে। ইত্তেফাকের খবরে বলা হইয়াছে যে, ঢাকাসহ যশোর, খুলনা ও বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় বই গুদামজাত করিয়া রাখা হইয়াছে। খুচরা বিক্রেতারা চাহিদার ২৫ শতাংশ বইও পাইতেছেন না। মফস্বল হইতে আগত বই বিক্রেতারাও হন্যে হইয়া ধরনা দিতেছেন। যদিও বলা হইতেছে মোট ২৯১টি প্রতিষ্ঠানকে মাধ্যমিকের ৭৬টি বই ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু প্রকৃতপÿে হাতে-গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই ইহার নিয়ন্ত্রণ করিতেছে। এমনকি এবার ৭০ কোটি টাকার বইয়ের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানই ৩৩ কোটি টাকার বই ছাপার টেন্ডার পাইয়াছে; ইহা দিনকে রাত করার ন্যায় কিভাবে সম্ভব হইল তাহা আমাদের বোধগম্য হইতেছে না। অধিকসংখ্যক মানসম্পন্ন প্রকাশনা সংস্থার উপর বই ছাপানোর গুরুভার উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত সিন্ডিকেশনের সমস্যা থাকিয়াই যাইবে। যাহারা অধিক মুনাফা লাভের আশায় সামর্থ্যরে তুলনায় বেশি কাজ নিয়াছে তাহাদের ব্যাপারে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকিতে হইবে।
0 comments:
Post a Comment