Sunday, March 11, 2018

প্রসঙ্গ: পাঠ্যবই সংকট

প্রসঙ্গ: পাঠ্যবই সংকট
আলী ফোরকান
বাজারে মাধ্যমিক ¯Íরের বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠ্যবই সংকট দেখা দিয়েছে। আর এ সংকট মোকাবিলায় ১৪টি বই পুনঃমুদ্রণ করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কম সংখ্যক বই বাজারে আসায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশিøষ্টরা। অবশ্য কেউ কেউ বলছেন, এখন বইয়ের সংকট থাকার কথা নয়। চাহিদার তুলনায় কম বই ছাপা হলে এর প্রভাব আরো ৬-৭ দিন পর দেখা দিত। অধিক মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বই মজুদ করে এ কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। 
জাতীয় শিÿাক্রম ও পাঠ্যপু¯Íক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মছির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, সিন্ডিকেট করে বই মজুদ করে রাখা হয়েছে। এ কারণে বইয়ের সংকট দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, এবার ষষ্ঠ শ্রেণীর আবশ্যিক বইগুলো ৯ লাখ, সপ্তম শ্রেণীর বই ৭ লাখ ও অষ্টম শ্রেণীর বই ৬ লাখ করে ছাপা হয়েছে-যা শিÿার্থীদের সংখ্যা বিবেচনা করেই ছাপা হয়েছে।
এদিকে মাধ্যমিক ¯Íরে বইয়ের সংকট ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪টি বই পুনঃমুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিটি বই ৫ লাখ করে প্রাথমিকভাবে ৭০ লাখ বই মুদ্রণ করা হবে। বাজারে চাহিদা থাকলে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। 
গত ৬ জানুয়ারি থেকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, অংক এবং নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা গদ্য, বাংলা কবিতা, ইংরেজি, মাধ্যমিক বীজগণিত ও মাধ্যমিক জ্যামিতিসহ ১৪টি বই বাজারজাত শুরু হলেও নিকটস্থ লাইব্রেরীতে গিয়ে শিÿার্থীরা চাহিদা অনুযায়ী বই পায়নি। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পুনঃমুদ্রণ করা এ ১৪টি বই বাজারজাত করা হবে। ফলে দ্বিতীয় ধাপের ৩৮টি এবং তৃতীয় ধাপের ২৪টি বই নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। 
১৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর সামাজিক বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, হিন্দু ধর্ম শিÿা, বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা দ্রæত পঠন, ইংরেজি গ্রামার এ্যান্ড কম্পোজিশন, ইংরেজি র‌্যাপিড রিডার, শারীরিক শিÿা, চারু ও কারু কলা এবং নবম ও দশম শ্রেণীর অর্থনীতি, পৌরনীতি, ব্যবসায় পরিচিতি, ইসলাম শিÿা, সামাজিক বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, উচ্চতর বীজগণিত, উচ্চতর জ্যামিতি, গার্হস্থ্য অর্থনীতিসহ ৩৮টি বই এবং ২৬ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর কৃষি শিÿা, ইসলাম শিÿা, বাংলা রচনা ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, কৃষি শিÿা, ব্যবসায় উদ্যোগ, বাণিজ্যিক ভূগোল, বাংলা, ব্যাকরণ, বাংলা সহপাঠ, বাংলা রচনা, হিসাব বিজ্ঞান, মাধ্যমিক ভূগোলসহ ২৪টি বই বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত ছিল। কমপÿে আরো দেড় সপ্তাহ পরে ৩৮টি বই এবং ফ্রেরুয়ারি মাসে ২৪টি বই বাজারে আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। যদিও এনসিটিবির পÿ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের বই বাজারজাত করা হবে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ৬-৭ দিন পর।
এদিকে মাধ্যমিক ¯Íরের পাঠ্যবই সংকট নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। শিÿামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বিকালে বাংলাবাজার পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বাংলাবাজারের খুচরা বই বিক্রেতাদের সাথে কথা বলেন। বই বিক্রেতারা শিÿামন্ত্রীর কাছে বই সংকটের কথা জানান। শিÿামন্ত্রী গতকাল হাসান বুক ডিপো, পপুলার বুক স্টল, ওয়াইড বুক ডিপোতে গিয়ে বিক্রীত বইয়ের ক্যাশমেমো দেখতে চাইলে সংশিøষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাশমেমো দেখাতে পারেনি। শিÿামন্ত্রী বলেন, যারা বই গুদামজাত করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বই সংকট মোকাবিলায় সরকার সবধরনের পদÿেপ নেবে বলে তিনি জানান।
একশ্রেণীর মুদ্রাকর সিন্ডিকেট বই গুদামজাত করে এ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ১৭ শতাংশ কমিশন দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বইয়ের গায়ে লেখা মূল্যেই খুচরা বিক্রেতাদের বই কিনতে হচ্ছে। এর ফলে খুচরা বিক্রেতারা শিÿার্থীদের কাছে বেশি মূল্যে বই বিক্রি করছেন। এছাড়া খুচরা বিক্রেতারা চাহিদার ২৫ শতাংশও বই পাচ্ছে না । মফস্বল শহর থেকে বই বিক্রেতারা এসে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারাও চাহিদা অনুযায়ী বই পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন খুচরা বই বিক্রেতা জানান, যারা বই ছেপেছে তাদের প্রকাশিত গাইড বই কিনলে তাদের কিছুটা ছাড় দেয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকাশক জানান, ২৯১ টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হলেও হাতে-গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। তৈরি করা হয়েছে সিন্ডিকেট। অধিক মুনাফা লাভের আশায় এ সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। ঢাকাসহ যশোর, খুলনা, বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় গুদামজাত করে রাখা হয়েছে এসব বই। তিনি জানান, এবার ৭০ কোটি টাকার বইয়ের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানই ৩৩ কোটি টাকার বই ছাপার টেন্ডার পেয়েছে। সরকারকে এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তীÿ¦ নজর রাখা উচিত। 

0 comments:

Post a Comment