অধিকারহারা মানুষের জাগরণ
আলী ফোরকান
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লÿ্যমাত্রা অর্জনের প্রথম দশক বাংলাদেশে বেশ আলোচিত। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে ইতিমধ্যে এ লÿ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। দেশে দেশে ভিন্নতা থাকলেও, বিভিন্ন ধরনের সরকার ব্যবস্থা থাকলেও জাতিসংঘ একটি নির্দিষ্ট লÿ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যেখানে কতগুলো বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংÿেপে যেগুলো এমডিজি ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ বলে পরিচিত। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। জাতিসংঘ ১০ বছর আগে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এমডিজি অর্জনে লÿ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ইতিমধ্যে ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, হাতে আর ৫টি বছর। সে কারণে খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে লÿ্যমাত্রা অর্জনের কতটুকু আশা পূরণ করা গেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সামরিক শ্সান, স্বৈরাচার, অবৈধ ÿমতা দখল ইত্যাদি সংঘাতের হাত থেকে নিজেকে রÿা করবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনী এবং সপ্তম সংশোধনী বাতিলের মধ্য দিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে ÿমতা দখলের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে নির্বাচন এবং তার ভিত্তিতে সরকার পরিবর্তন করবার পদ্ধতি কিছুটা হলেও নিশ্চিত হয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণতন্ত্র, প্রশাসন, সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা, একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাহাত্তরের যে সংবিধান রচিত হয়েছে তার ভিত্তিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং জনগণই মূল ÿমতার উৎস এবং রাষ্ট্রের শক্তি এই বিষয়টি বা¯Íবায়ন করা।
এই লÿ্যকে সামনে নিয়ে আমরা যদি জাতিসংঘের সদস্য হিসাবে ঘোষিত এই সহস্রাব্দ উন্নয়নের লÿ্যমাত্র অর্জনের বিষয়গুলো বিবেচনা করি তাহলে এমডিজি-১ যা ÿুধা ও চরম দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়ে কথা বলছে। সেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত করতে পারি এবং বিবেচনায় আনা দরকার। এমডিজি-৩ নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ÿমতায়ন, এমডিজি-২ সার্বজনীন প্রাথমিক শিÿা, এমডিজি- ৪, ৫ এবং ৬ শিশু মৃত্যু হ্রাস, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং এইচ আইভি (এইডস)সহ অন্যান্য প্রতিরোধ চ্যালেঞ্জ, এমডিজি- ৭ এবং ৮ এ টেকসই পরিবেশের নিশ্চয়তা এবং উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ের আলোকে যদি আজকের বাংলাদেশ দেখি সবকিছু নয় সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে:
ÿুধা ও চরম দারিদ্র্য বিমোচন যার মূলে দুটো বিষয় একটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং অন্যটি কর্মসংস্থান। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের হিসাবে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে বেকারত্বের হার বেড়েছে মোট জনসংখ্যার ১৩.৪ শতাংশ। ১৯৯০ সালের তুলনায় সাড়ে দশ শতাংশ বেশি। হিসাবে দেখা যায় ১৫-২৫ বছর বয়সী বেকার জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ৩৭ লাখের কাছাকাছি, যার বেশি নারী।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এখনও গ্রামে ৮০ শতাংশ লোকের বাস। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন কৃষি উৎপাদনকে। একটি সমন্বিত কৃষি সংস্কার কর্মসূচি পারে বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়নের পথে সকল বাধা অপসারণ করতে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজন বাংলাদেশের সকল কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার। আর তার জন্য সার, বীজ, ডিজেল, পানি, বিদ্যুৎ, কীটনাশক পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আজ কৃষক ও কৃষি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু এই কৃষকের মধ্যেও রয়েছে প্রান্তিক-কৃষক, ÿেতমজুর বা কৃষিশ্রমিক; চরম দরিদ্রতায় যাদের জীবন-যাপন। সুতরাং এই দারিদ্র্য দূরীকরণে আমাদেরকে অবশ্যই নজর দিতে হবে এই ÿেতমজুর বা কৃষিশ্রমিক বিষয়ে। এখানেও নারীর প্রাধান্য দেখা যায়। এক কথায় বলা যায় দারিদ্র্য এবং নারী একই জালে জড়িয়ে আছে। ফলে এই দরিদ্রের জাল ছিন্ন করে এদের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারার মধ্যেই দারিদ্র্য বিমোচনের অনেকগুলো বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে। আর এ জন্য চাই কৃষিশ্রমিকদের সংজ্ঞায়িত করা, তাদের তালিকা তৈরি করা, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় কর্মসূচিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা। কয়েক বছর আগে আই এল ও’র এক জরিপে জানা গেছে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরÿার অভাবে এদেশে প্রায় ১১,০০০ ÿেতমজুর বা কৃষিশ্রমিক প্রতিবছর মৃত্যুর মুখে পতিত হয় (তার মধ্যে জানা যায়নি কতজন নারী বা কতজন পুরুষ, সে বিষয়টিও বিবেচনায় আনা জরুরি)। আমাদের কাছে বিষয়টি অবাক করা মনে হলেও সাধারণভাবে মনে হতে পারে গ্রামীণ মানুষের মৃত্যু হতেই পারে। গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের মৃত্যু কারণ সুনির্দিষ্ট করতে গেলে আমরা দেখি অসচেতনতা, অবহেলা এবং অজ্ঞতার কারণে এ কৃষিশ্রমিকেরা তাদের কর্মÿেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য সুরÿার অভাবে মৃত্যু বরণ করে। তাদের এই স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কৃষিশ্রমিককে সংজ্ঞায়িত করা।
এই কৃষিশ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তাদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা। যেহেতু কৃষিশ্রমিক শ্রম আইনে সংজ্ঞায়িত নয় সে কারণে তারা শ্রমিকের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ন্যূনতম ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতেই আজকে প্রয়োজন তাদের পÿে আইন তৈরি এবং আইনের বা¯Íবায়ন। ÿুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামের দিকে নজর দিয়ে এই বিশাল বেকার যুবক সেখানে অবস্থান করছে তাদের দÿ জনশক্তিতে পরিণত করা। একদিকে গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষিনির্ভর উন্নয়ন, শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। একই সাথে সারা বিশ্বে শ্রমবাজারে উপযুক্ত দÿ জনশক্তি প্রেরণ। বাংলাদেশের ছোট্ট ভ‚খণ্ডে উপচেপড়া জনসংখ্যা কিছু যদি আমরা দÿ জনশক্তি হিসাবে তৈরি করে বিদেশ পাঠাতে পারি সেটি দারিদ্র্য বিমোচনের একটি বড় উপায় হিসাবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক যেহেতু নারী সে হিসাবে এমডিজি-৩ নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় ও নারীর ÿমতায়নে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্ব¯Íরে নারী-পুরুষের সমঅধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যদিও সামাজিক অবস্থানে নারীরা এখনও দুর্বল। রাজনীতিতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীর অবস্থান সুদৃঢ় হলেও রাজনৈতিক ÿমতায়নসহ সকল ÿেত্রে নারী এখনও পিছিয়ে আছে। শিÿা, কর্মÿেত্র এবং স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব যথাযথ না হলে এই সমতা আনয়ন সম্ভব নয়।
এখনও প্রতিদিন খবরের কাগজে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্তবয়সে মাতৃত্ব, নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা প্রায়ই পত্রিকার পাতায় দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরেও থেকে যাচ্ছে অসংখ্য ঘটনা। সে কারণে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি যতÿণ পরিবর্তন না করা যাচ্ছে এমডিজি’র লÿ্যমাত্রা অর্জন করা খুবই দুরূহ কাজ। নারীর দিকে দৃষ্টি রেখে তার কর্মÿেত্র ও পরিবেশ সৃষ্টিতে যদি ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা না যায় বিভিন্ন কর্মসূচি বা নীতিমালা হয়তো করা যাবে বা¯Íবায়ন থাকবে সুদূরপরাহত। নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গ্রামাঞ্চলে কৃষি ও অকৃষি উভয়ÿেত্রে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, শহরে শিল্প-কলকারখানা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে তুলতে হবে। “একজন নারী একজন কর্মজীবী”- এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে অধিকার ও মর্যাদার বিষয়গুলোকে সুনিশ্চিত করতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সন্তান জš§দানের নিরাপদ ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ অন্যান্য সুবিধাদি পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পোশাকশিল্পে ইতিমধ্যে নারীরা কর্মÿমতায় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু তার কাজের তুলনায় ন্যূনতম মজুরি অনেক কম। মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুবিধাদি বৃদ্ধি এবং সকল ÿেত্রে তাদের সংঘবদ্ধ করার অধিকার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর উপরে সহিংসতা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাকে আইনী সহায়তা দেয়া, প্রশাসনের কার্যকর হ¯Íÿেপ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি উত্তরাধিকার আইনসহ বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক সকল আইন সংস্কার করে তাদের চলারপথে বাধাসমূহ দূর করবার উপর নির্ভর করছে এ লÿ্যমাত্রা অর্জনের সুনিশ্চিত ফলাফল।
নারীর এই বৈষম্য দূর করতে শিÿা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে এমডিজি-২ সার্বজনীন ও প্রাথমিক শিÿা অর্জন আজকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে চরম দরিদ্র আদিবাসী, চর এলাকাসহ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিÿার সুযোগ সৃষ্টি করা এ লÿ্যমাত্রা অর্জনের প্রাথমিক শর্ত। “শিÿা সুযোগ নয় অধিকার”- শিÿাকে সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাথমিক শিÿাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিÿাকে শিশুর জন্য আনন্দদায়ক করে গড়ে তোলাই হবে মূল লÿ্য। সেখানে কন্যাশিশুর সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করতে হবে। শিÿা ÿেত্রে নারী-পুরুষের এই বৈষম্য যদি না কমানো যায় নারী-পুরুষের সমতা আনয়ন কখনও সম্ভব নয়।
এ লেখা লিখতেই খবরের পাতায় বাংলাদেশের জাতিসংঘ পদক প্রাপ্তির ঘোষণা শুনতে পেলাম। শিশু মৃত্যুর হার ৫০ ভাগ কমিয়ে আনার ÿেত্রে স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনা এ পদক পেলেন। পদক গ্রহণের পর এক সংÿিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, এ পুরস্কার আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। কারণ সা¤প্রতিক বিশ্বমন্দা, বিশ্ব ঊষ্ণতা ও জলবায়ু, পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সত্তে¡ও ২০১৫ সাল নাগাদ এমডিজি লÿ্য অর্জন প্রচেষ্টায় আমরা কোন ছাড় দেইনি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় নোবেল বিজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমি বরাবরই হƒদয়ের গভীর থেকে শিশুদের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করি। রবি ঠাকুর বলেছিলেন, যতবার একটি শিশু জš§ নেয়, ততবার নতুন করে আমার ভেতর এ বিশ্বাস জšে§ ঈশ্বর মানুষকে ছেড়ে যাননি।”
এই শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ÿেত্রে কারা গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন দেশবাসী আজ জানতে চায়। সরকারি এবং বেসরকারি কোন্ উদ্যোগগুলো এই কৃতিত্বের অংশীদার ? তাদের এই সফলতা অন্যদের ÿেত্রেও অনুকরণীয় হতে পারে। এ সকল সাফল্যের গল্প আমাদের তুলে আনতে হবে পত্র-পত্রিকায়। যে মানুষগুলো নীরবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে বিভিন্ন সংগঠনের পতাকাতলে এবং রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে তাদের সফলতার স্বাÿর ও কৃতিত্ব আজ চিহ্নিত করা জরুরি। কাজের স্বীকৃতি হিসাবে তাদের পুরস্কৃত করা ভবিষ্যৎ কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার একটি পথ হতে পারে।
শিশু মৃত্যু আলাদাভাবে দেখা যায় না। এর সাথে জড়িয়ে আছে নারীর স্বাস্থ্য, নারীর মাতৃমৃত্যু, নারীর মাতৃত্বকালীন অবস্থা। একজন নারীর মা হবার সিদ্ধান্ত তার। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবার সঙ্গে সঙ্গে একজন নারী মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সুস্থ শিশু জš§ দিতে পারে একজন মা। সে কারণে সার্বিক বিবেচনায় নারীর স্বাস্থ্য এবং নারী ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীর এই সÿমতার ভাগীদার পুরুষও। নারী-পুরুষের সমতার কাজটি সে কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি এমডিজি লÿ্যপূরণে প্রয়োজন সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা ÿুধা-দারিদ্র্যের মধ্যে দিনযাপন করছেন, সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে সেই অধিকার হারা মানুষ , যতÿণ না তারা তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে, দারিদ্র্য দূরীকরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন না হবে ততÿণ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং কার্যকর করার বিষয়গুলো ৫০ ভাগই অব্যবহƒত থাকবে। অধিকার হারা ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জেগে ওঠার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লÿ্যরে চাবিকাঠি। যে মানুষ নিজেকে দরিদ্র মনে করবে না, মানব মর্যাদা এবং প্রতিক‚ল অবস্থাকে মোকাবেলা করবার স্ÿমতা জাগিয়ে তুলতে পারবে নিজের মধ্যে। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ÿমতায়নের মাধ্যমে যারা বৈষম্যের জাল ছিন্ন করবে। কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের অংশীদার হবে। চিন্তা, চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে । প্রয়োজন এক বিশাল জাগরণের। অধিকারহারা মানুষই হবে এ জাগরণের মূলধারা।
0 comments:
Post a Comment