Thursday, March 1, 2018

ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশ

ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশ
আলী ফোরকান
বিশ্বের জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়তে। গত শতাব্দীতে বিশ্বে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাইয়াছে দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই শতাব্দীতে তাহা আরো ১ দশমিক ৮ হইতে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাইতে পারে। কিন্তু দশমিক ৫ হইতে ২ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাইলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাইবে ১০ হইতে ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। ইহার ফলে বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হইবে। উদ্বাস্তু হইবে প্রায় দুই কোটি লোক। সুন্দরবন বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পতিত হইবে। বন্যপশু ও বিভিন্ন পশু ও উদ্ভিদ প্রজাতির বিনাশ ঘটিবে। অর্থনৈতিক ÿয়ÿতি হইবে ব্যাপক, কর্মসংস্থানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হইবে। গত রবিবার বিশ্বের জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেলের দ্বিতীয় ওয়ার্কিং গ্রæপের প্রধান বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. খলিকুজ্জামান আহমদ উপরোক্ত তথ্য দিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, এরূপ ঘটনা ঘটার আগে ঘটনার সঙ্গে খাপ খাওয়াইয়া নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে হইবে। দেশের বেশ কিছু লোক বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়া গবেষণা করিতেছেন অনেকদিন যাবৎ। তাহারা বিশ্বের অন্যান্য পরিবেশবিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখিয়া চলিয়াছেন এবং বাংলাদেশের পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য যেমন অন্যদের প্রদান করিয়া থাকেন, ঠিক তেমনি বিশ্বের অন্যদের প্রদত্ত তথ্য তাহারা গ্রহণও করেন। বস্তুত তাহার ফলে বিশ্বের পরিবেশগত সকল তথ্য আমরা পাই। তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পাইলে বাংলাদেশে গম উৎপাদন প্রায় বন্ধ হইয়া যাইবে। আলু উৎপাদনে ধস নামিবে। জীব বৈচিত্র্যে মারাত্মক ÿতি হইবে। বলা বাহুল্য, এরকমটি যে ঘটিবেই তাহা নিশ্চিত করিয়া বলা হয় নাই। তবে এরকম ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে। বাংলাদেশের এই পরিবেশবিদেরা তাই দেশের লোকদের আগাম সতর্ক করিয়া দিয়াছেন, যাহাতে ঐ সময় তাহারা পরিস্থিতির মোকাবিলা করিতে পারে। বাংলাদেশের পরিবেশবিদদের জলবায়ু সংক্রান্ত সতর্কিকরণ দেশের কতটা কাজে লাগিবে তাহা এখনই বলা সম্ভব নয়। কেননা দেশে এখনও অনেক সমস্যা রহিয়াছে যাহা পরিবেশ সংক্রান্ত। যেমন বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, গাছপালা কাটিয়া বন উজাড় করিয়া দেওয়া, পাহাড় কাটিয়া সমান করিয়া দেওয়া আর্সেনিক, পশু-পাখী ও মাছের বহু প্রজাতির বিলুপ্তি, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা, দÿিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা ইত্যাদি। ইহার ফলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে মানুষের জীবনধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আসিলেও তাহার প্রয়োজনীয়তা অনুভ‚ত হইয়াছে। এই নিরিখে বলা যায়, বাংলাদেশ এখন খুবই বিপদের মধ্যে রহিয়াছে। কারণ বিশ্বউষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তন ছাড়াই তাহাকে অনেক সমস্যা মোকাবিলা করিতে হইতেছে। এখন জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটিলে বাংলাদেশের মত একটি ÿুদ্র দেশ যাহার লোকসংখ্যা বড় দেশ অপেÿা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী, সেই দেশ কী করিবে? আমাদের মনে হয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদÿেপ গ্রহণ করিতে হইলে সরকারকে দেশে বিরাজমান প্রাকৃতিক সমস্যাগুলির সমাধান করিতে হইবে। উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা পরে আসিবে।  এখানে উলেøখ প্রয়োজন, বিশ্বউষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের মত ÿুদ্র উন্নয়নশীল দেশের ভ‚মিকা অতি সামান্য। মূল ভ‚মিকা শিল্পোন্নত দেশগুলির। তাহাদের কারখানা হইতে যে গ্যাস নির্গত হইয়াছে তাহাই বিশ্বউষ্ণায়নের জন্য দায়ী। তাহারা উষ্ণায়নের প্রতিকার চায় না তাহা নয়, তবে দ্রæততার সঙ্গে প্রতিকার চায় না। তাহারা চায় কাজটা ধীরে ধীরে হউক। কিন্তু বাংলাদেশের মত দেশগুলির প্রয়োজন দ্রæত উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে পদÿেপ নেওয়া। কেননা ইতিমধ্যে আবহাওয়ামন্ডলে যে পরিবর্তন ঘটিয়াছে তাহা মোকাবিলা করার শক্তি ও সামর্থ্য এই দেশগুলির নাই। জানা গিয়াছে, আগামী কয়েক বসরের মধ্যে উষ্ণতার কারণে হিমালয়ের বরফ গলা শুরু হইলে তাহাতে বাংলাদেশে যেমন বন্যা হইবে; ঠিক তেমনি হইবে খরা, যাহা নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য বাংলাদেশের থাকিবে না। এমত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মত দেশগুলির উচিত হইবে সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘের এতদসংক্রান্ত ফোরামে সমস্যাটি তুলিয়া ধরা এবং শিল্পোন্নত দেশগুলিকে দ্রæত পদÿেপ গ্রহণে বাধ্য করা। 

0 comments:

Post a Comment