সমস্যার দোলাচলে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত
আলী ফোরকান
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৭ কিলোমিটার। তবে সাড়ে ৬ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত রয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে দÿিণ তালপট্টি গ্রাম বাংলাদেশের- বিষয়টিও অমীমাংসিত। ভারত দÿিণ তালপট্টিকে নিউম্যুর বা পূর্বাশা নামে অভিহিত করে তাদের বলে দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে ভারত ইতোমধ্যে জাতিসংঘে অভিযোগও করেছে। দুই দেশের এই সীমান্ত এলাকায় নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা নিরসনে প্রতিবছর উভয় দেশের বিডিআর-বিএসএফ পর্যায়ে যৌথ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের পÿ থেকে বিএসএফের গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া চোরাচালান রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ ইত্যাদির ব্যাপারে বাংলাদেশের পÿ থেকে দাবি জানানো হয়। কিন্তু দুই দেশের এই সীমান্তে প্রায়ই সীমান্ত রÿী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যাগুলোও স্থান পাবে বলে সুধীমহল মনে করছে।
বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সীমান্তে গত ৫ বছরে ভারতের বিএসএফের(বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) গুলিতে প্রায় সাড়ে ৩শ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। সীমান্ত সংশিøষ্ট জেলাগুলোর মধ্যে সাতÿীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রা²ণবাড়িয়া, কুমিলøা ও খাগড়াছড়ি সীমান্ত এলাকায় সবেচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বিডিআরের আহবানে প্রায় কয়েক হাজারবার ফ্ল্যাগ মিটিং(পতাকা বৈঠক) অনুষ্ঠিত হয়। সাময়িক ঘটনার সূত্রপাত হলে তা নিরসনে ফ্ল্যাগ মিটিং পর্যন্ত সীমিত থাকে। ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে বিডিআরের পÿ থেকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু বিএসএফের পÿ থেকে শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই শেষ। পরবর্তীতে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সীমান্ত সমস্যাগুলোর মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ একটি অন্যতম সমস্যা। ভারত এ পর্যন্ত ২ হাজার ২শ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। ১৯৭৪ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংশিøষ্ট মুজিব-ইন্দিরা গান্ধী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের সীমান্ত থেকে ১শ৫০ গজের ভিতরে কোন প্রতিরÿামূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। এ চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১শ’৫০ গজ দূরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে। সীমান্তের অনেক এলাকায় বিএসএফ ১শ’৫০ গজের ভিতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রচেষ্টা চালালে বিডিআরের পÿ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হচ্ছে। বিডিআরের আপত্তির মুখে বিএসএফ ঐসব স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বন্ধ রেখেছে। ভারতের অপদখলে ঐসব এলাকার সীমানা চিহ্নিত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এই সীমান্ত এলাকার দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
ছিটমহল সমস্যা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রকট রয়েছে।
দুই দেশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৫১ টি ছিটমহল ভারতে এবং ভারতের ১১১ টি ছিটমহল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে। এই ছিটমহল ছাড়াও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ৩ হাজার ৫০৬ একর জমি ভারতের অপদখলে রয়েছে। দুই দেশের এই ছিটমহলের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের যেসব ছিটমহল রয়েছে ঐসব ছিটমহলবাসীরা সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছে।
বাংলাদেশের ছিটমহলবাসীরা অনেকটা অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করে আসছেন। এরা বাংলাদেশের কোন সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে না। এমনকি তাদের ভোটাধিকারও নেই। এ ÿেত্রে শুধু লালমনিরহাটের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল ৩ বিঘা করিডরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সাতÿীরা, নীলফামারী, জামালপুর, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ইত্যাদি এলাকায় যেসব ছিটমহল রয়েছে ঐসব এলাকার ছিটমহলবাসীর সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারে।
এসব ব্যাপারে বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের পর বিডিআর তার সীমান্ত এলাকায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে আলোচনায় দুই দেশের সীমান্ত সংশিøষ্ট সমস্যার ব্যাপারে আলোচনায় একটা সমাধান আসতে পারে। সীমান্ত সংশিøষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে বাংলাদেশের সীমান্তে বসবাসকারী জনগণই উপকৃত হবেন।
0 comments:
Post a Comment