Sunday, March 4, 2018

একশ ৫০ পেরনো স্কুল

একশ ৫০ পেরনো স্কুল
আলী ফোরকান 
রোদে ক্লান্ত পথিক যেমন খুজে ফেরে বৃÿের ছাঁয়াতল তেমনি বিদ্যার্জনের জন্য বিদ্যার্থী খোঁজে বিদ্যার্জনের স্থান। আর বিদ্যার্জনের প্রথম স্থানই হচ্ছে স্কুল। স্মৃতি রোমন্থন করতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে স্কুল জীবনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। যেখানে বিদ্যার্থীদের নানা স্মৃতির বীজ বোনা স্কুল জীবনে, সে স্কুল যত পুরনোই হোক না কেন জীবন থেকে তা কখনোই মুছে যায় না। তাই দেড়’শ বছরের পুরনো কিছু স্কুলের নানা রকম পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে ।
মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ঃ এটি বৃহত্তর যশোর জেলার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যানিকেতন এবং বর্তমান মাগুরা জেলার সবচেয়ে পুরানো শিÿা প্রতিষ্ঠান। ঊনবিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে মাগুরা শহরের দুই মাইল পশ্চিমে শিবরামপুর গ্রামে স্থানীয় শিÿানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় মাইনর স্কুল হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৫৪ সালকেই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৮৬০ সালে বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যায়ল কর্তৃক উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। ১৮৭৬ সালে আকস্মিক বিদ্যালয়টি পুড়ে যায়। এই সময় বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিÿক যোগেন্দ্রনাথ সিনহার অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং তদানীন্তন মহকুমা প্রশাসক কালীপ্রসন্ন সিংহ’র পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থানুক‚ল্যে একটি পাকা ইমারতে বিদ্যালয় ভবনটি স্থানান্তরিত হয় যেখানে আজ মহিলা কলেজের মূল ভবন অবস্থিত। বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালের ১ আগষ্ট বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়। এই সময়ের মধ্যে বিদ্যালটি যেমন একাধিকবার তার স্থান পরিবর্তন করেছে তেমনি সাথে সাথে তার নামও কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমে শিবরামপুর মাইনর স্কুল হতে মাগুরা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়, এরপর ১৯৬০-এর দশকে নামকরণ হয় মাগুরা মডেল হাইস্কুল এবং সর্বশেষ ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টির নামকরণ হয় মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের বহু কৃতী ছাত্র দেশে-বিদেশে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রায় ১৩ একর জমির উপর অবস্থিত। বিদ্যালটিতে বৃহৎ ‘এল’ আকৃতির দ্বিতল ভবনসহ প্রধান শিÿকের বাসভবন রয়েছে। মোট শ্রেণিকÿ রয়েছে ১৬, অফিস কÿ ৩, গবেষণাগার ২, লাইব্রেরি ১, মসজিদ ১, খেলার মাঠ ১, পুকুর ১টি। 
যশোর জিলা স্কুল ঃ এটি বৃহত্তম যশোর জেলার প্রাচীনতম স্কুল। প্রতিষ্ঠিত হয় ৩ ফেব্রæয়ারি ১৮৩৮ সালে। ১৮৭৩ সালে এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ যশোর জিলা স্কুল’। সরকারি নির্দেশে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় স্কুল গড়ে ওঠে। ১৮৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বার্ষিক তিনশ টাকার অনুদানসহ নলদী পরগনার জমিদারপতœী রানী কাত্যায়নী এবং বাবু রামরতন, নীলকমল পাল চৌধুরি, রাজা বরদাকান্ত রায়, দ্বারকানাথ ঠাকুর, কুঞ্জলাল ঠাকুর, মৌলভী আবদুলøাহ, জনাব মোহাম্মদ করিম, প্রাণনাথ চৌধুরী শুকদাস রায়, রাধামোহন ঘোষচৌধুরী, কালীকান্ত পোদ্দার প্রমুখের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তায় এই স্কুল গড়ে ওঠে। রানী ক্যাতায়নীর কাচারি বাড়িতে ১৩২ জন ছাত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের কাজ সর্বপ্রথম শুরু হয়। তখনও পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি ও ভবন কোনটাই ছিল না। পরবর্তীকালে খড়কি-যশোর মৌজায় স্কুলের জন্য ৭.৮০ একর জমি পাওয়া যায় এবং সেখানে ভবন নির্মিত হওয়ার পর স্কুলটি উঠে আসে। এই বিদ্যালয়ে ১৮৭৪ সালে ফারাসি ভাষা চালু করা হয়। ১৯৪৭ সালের পর চালু হয় উর্দু বিভাগ। অবাঙালিরা এই বিভাগে লেখাপড়া করত উর্দু ভাষার মাধ্যমে আর বাঙালিরা মাতৃভাষা বাংলার মাধ্যমে। ১৯৬৩ সালে পাকি¯Íান সরকার এই স্কুলকে পাইলট প্রজেক্টের আওতায় এনে এ উন্নয়ন ঘটায়। সে বছর মানবিক শাখার সঙ্গে বিজ্ঞান শাখাও চালু হয়। ১৯৬৫ সালে বাণিজ্য ও ১৯৭০ সালে চালু হয় শিল্পকলা বিভাগ। ১৯৭১ সালে এই স্কুলে প্রথমে বিহারিরা অবস্থান নেয়। এরপর রাজাকাররা স্কুলের অফিসটি ÿতিসাধন করে। ১৯৭৪ সালে দুর্বৃত্তরা স্কুলের অফিসে আগুন লাগিয়ে দিলে বহু মূল্যবান কাগজ ও আসবাবপত্র ÿতিগ্রস্থ হয়।এই স্কুলের প্রথম প্রধান শিÿক ছিলেন জে,স্মিথ। তিনি প্রথমবার ১৮৩৮ থেকে ১৮৪৮ ও পরবর্তীতে ১৮৫১ সাল পযর্ন্ত প্রধান শিÿকের দায়িত্ব পালন করেস। ভাষাবিদ ড.মুহাম্মদ শহীদুলøাহ, বিশিষ্ট কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ও কথাশিল্পী আনিস সিদ্দিকী এই স্কুলে শিÿকতা করেছেন। অধ্যাপক জিলøুর রহমান সিদ্দিকী, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামন, অধ্যাপক শমসের আলী, প্রমখ এই স্কুলের কৃতী ছাত্রদের অন্যতম।এই স্কুলে পড়ালেখা ছাড়াও অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে ম্যাগাজিন প্রকাশ ( জাগরণ ), কমনরুম, বিজ্ঞানাগার , লাইব্রেরী, শিল্পকলা বিভাগ, কৃষি বিভাগ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান চর্চা, বিএনসিসি কার্যক্রম, স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্ট, দরিদ্র তহবিল বিভাগ, বিভিন্ন খেলাধুলা ইত্যাদি। এ স্কুলের লাইব্রেরি বেশ পুরানো, গ্রন্থ সংখ্যা এখানে প্রায় ৫ হাজার। এখানে অনেক দুপ্রাপ্য গ্রন্থ আছে। এই লাইব্রেরির উলেøখযোগ্যসংখ্যক গ্রন্থ ব্রিটিশ যুগে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। পূর্বে প্রতিটি ক্লাসের জন্য আলাদা লাইব্রেরি ছিল। এছাড়াও একটি সাধারণ লাইব্রেরি ছিল। বর্তমানে প্রত্যেক শ্রেণীর আলাদা লাইব্রেরি নেই।
সেন্ট গ্রেগরি স্কুল ঃ ১৮৮২ সালে ফাদার গ্রেগরি ডি গ্রæটস নামীয় একজন বেলজিয়ান বেনেডিক্ট ধর্মযাজক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ইউরেশীয় শিÿার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রথম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁর দেশীয় ফ্লেমিশ ব্যতীত অন্যকোন ভাষা জানতেন না। এসব কারণে প্রথম দিকে স্কুলটির প্রতি খুব কম লোকেরই আগ্রহ জাগে। প্রতিষ্ঠার পর দুবার বন্ধ হয়ে গেলেও ১৮৮৯ সালে নতুন প্রধান শিÿক হলিক্রস ফাদার ফ্রান্সিস বোয়ার্স-এর অধীনে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের জন্য এটি নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে। স্কুল ভবটির নিচতলায় সেন্ট ফ্রান্সিস বালিকা বিদ্যালয় পুনঃস্থাপন করা হয়। এটি ১৮৯৬ সালে নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। ১৮৯৮ সালে ছয় জন বাঙালি ছাত্র এবং দুজন বাঙালি ছাত্রীসহ এর শিÿার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় এক’শ। ১৯২৩ সাল পর্যন্ত স্কুলটি ইউরোপীয় ধাঁচে শিÿা ও পরীÿা পদ্ধতি পরিচালনা করে। ১৯২৪ সালে স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর এটি বোর্ড-এর অধীনে পরীÿা পদ্ধতি পরিচালনার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হয়। ১৯৪৭ সালে পাকি¯Íান গঠিত হওয়ার পর, যে সকল শিÿার্থীর মাতৃভাষা বাংলা ছিল না তাদের সুযোগ দেয়ার জন্য স্কুলটিতে আবার ইংরেজি মাধ্যম চালু করতে হয়। স্কুলটি একবার ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলকে নিজ ভবনে জায়গা করে দেয়। নটর ডেম কলেজও এখানে প্রথম সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ হিসেবে আরম্ভ হয়েছিল। স্কুলটি ম্যাট্রিক পরীÿাসমূহে চমৎকার ফলাফল করার জন্য সুখ্যাতি অর্জন করে। খেলাধুলা, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং স্কাউট আন্দোলনে অংশগ্রহণে এই স্কুলের পুরানো শিÿার্থীরা গ্রেগরিয়ান হিসেবে গর্ব অনুভব করে। ১৯১২ সালে ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ১,৫৪০ জন ছাত্র এতে পড়াশুনা করছিল। সে বছরই এখানে ১১ জন মহিলাসহ ৪৩ জন শিÿক ছিলেন। স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্রতালিকায় বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে ড.অমর্ত্য সেন (নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ), তাজউদ্দিন আহমেদ ( বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ), ড.কামাল হোসেন ( বাংলাদেশের সাবেক আইন ও বিচারমন্ত্রী ) এবং ড. ওসমান ফারুক ( শিÿামন্ত্রী-২০০১ সাল ) প্রমুখ উলেøখযোগ্য।
রংপুর জিলা স্কুল ঃ বৃহত্তর রংপুরের প্রাচীনতম শিÿা প্রতিষ্ঠান। ১৮৩২ সালে রংপুর জমিদার স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। কতিপয় নেতৃস্থানীয় জমিদার পরিবার এবং রংপুরের জেলা কালেক্টর নাথিয়ার স্মিথ স্কুলটির প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। তৎকালীন বড় লাট উইলিয়ম নাথিয়ায় স্মিথ স্কুলটির প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। তৎকালীন বড় লাট উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক স্কুলটি উদ্ধোধন করেন। কুচবিহারের মহারাজা কর্তৃক দানকৃত একটি বড় দোতলা ভবনে স্কুলটি প্রতিষ্ঠত হয়। কুন্ডীর জমিদার রাজমোহন রায়চৌধুরি ( ১৭৮৭-১৮৪৭ ) ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সচিব এবং কৃষ্ণনাথ রায় ছিলেন প্রথম প্রধান শিÿক। ১৯৫৭ সালে সরকার কর্তৃক অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি অধিগৃহীত হয় এবং এটিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্য¯Í হয়। প্রতিটি জেলায় একটি করে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮৬২ সালে স্কুলটি সরকার কর্তৃক অধিগৃহীত হয় এবং নতুন নাম দেওয়া হয় রংপুর জিলা স্কুল। সে সময়য়ে স্কুলটি ২,৬১৬ টাকার বার্ষিক অনুদান পেত।১৮৭০-১৮৭৪ সময়কালে স্কুলের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য নতুণ জমি অধিগ্রহণ করা হয় এবং পুরাতন ভবনের স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে তহবিল সংগ্রহ করা হয়। ১৮৯৯ সাল মোট ছাত্রসংখ্যা ছিল ৩৬৭ জন। ১৮৭৪ সাল থেকে জেলার জমিদারগণ মেধাবী ছাত্রদের জন্য দয়াল সিংহ-এর নামানুসরে একটি রৌপ্য পদক এবং ৮ ও ১০ টাকা হারে মাসিক বৃত্তির প্রবর্তন করেন।১৯৯০ সাল থেকে স্কুলটির ক্লাস প্রাতঃকালীন এবং বৈকালীন দুটি শিফটই চালু করা হয়। বর্তমানে স্কুলটির বাংলার তৎকালীন বড় লাটের স্যার অ্যাশলি ইডেন কর্তৃক উদ্ধোধনকৃত একটি বড় প্রশাসনিক ভবনসহ ১৪ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে। স্কুলটিতে প্রায় দশহাজারের কাছাকাছি পু¯Íকসম্বলিত একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। 
পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ঃ ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্গাচরণ দত্ত পটিয়া থানার ভূর্ষি গ্রামে প্রথমে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। অল্পদিনের মধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। শিÿানুরাগী জমিদার মীর এহিয়ার আর্থিক সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মধ্য ইংরেজী বিদ্যালয়ে পরিণত হয় এবং দুর্গাচরণ দত্ত প্রধান শিÿক নিযুক্ত হন। ১৮৫৯ সালে বিদ্যালয়টি উচ্চ ইংরেজি স্কুলের পর্যায়ভুক্ত হয় এবং ১৮৬৭ সালে সর্বপ্রথম এই বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রাস পরীÿায় ছাত্ররা অংশ নেয়। উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর বিক্রমপুরের রকিসকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান শিÿক হয়ে আসেন। ১৯০৭ সাল থেকে ১৯৩৫ পর্যন্ত সূর্যকুমার ছিলেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিÿক। পটিয় স্কুলে তাঁর শিÿকতার সময়কে ‘সূর্য’ যুগ বলা হয়। এ যুগে বিদ্যালয়টির পঠনÐপাঠনের মান ব্যাপকভাবে উন্নত হয়। চট্টগ্রামের উনিশ ও বিশ শতকের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন । চট্টগ্রামে নারীশিÿার অগ্রদূত অন্নদাচরন খা¯Íগীর, সমাজ সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ যাত্রামোহন সেন এবং বাংলা সাহিত্যের পুথি বিশেষজ্ঞ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রমুখ এই বিদ্যালয়ে শিÿা লাভ করেন। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ছাত্রের সংখ্যাা প্রায় ১,২০০ এবং শিÿক সংখ্যা ৩২ জন। এই বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে কিছ গুরুত্বপূর্ন প্রাচীন বই ও পুতি রয়েছে। 
চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ঃ ১৮৩৬ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথমে চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট স্কুল নামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। চট্টগ্রামে এটাই প্রথম ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিল চকবাজার প্যারেড ময়দানের দÿিণে ও মাদ্রাসা পাহাড় ( বিদ্যালয়টি মহসিন কলেজ ) এর পূর্বদিকস্থ ইংরেজ আমলের প্রথমদিকে নির্মিত একটি পাকা দালানে। ১৮৬৯ সালে সেখানে সরকারি এফ,এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে বিদ্যায়টি মার্কট সাহেবের পাহাড়েদÿিণ প্রান্তে বর্তমান সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের দÿিণ পার্শ্বে একটি পাকা ভবনে স্থানান্তর করা হয়। ১৮৮৬ সালে বিদ্যায়টি আইস ফ্যাক্টরি রোডে বর্তমান স্থানে পুঃস্থাপন করা হয় এবং এর নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল রাখা হয়। এই বিদ্যালয়ের প্রথম অধ্যÿ ছিলেন মি.কুন্ডু। উনিশ শতকের জনপ্রিয় কবি নবীনচন্দ্র সেন এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিশ শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এন্ট্রাস স্কুল নামেই জনসাধারণের মধ্যে পরিচিত ছিল। চট্টগামে ইংরেজি শিÿা বি¯Íারের অন্যতম অগ্রদূত ডা. অন্নদাচণ খা¯Íগীর এ বিদ্যালয় থেকেই এন্ট্রাস পাস করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, লেখক হুমায়ূন আহমেদ এই বিদ্যালয়ের ছাত্র।  

0 comments:

Post a Comment