কীভাবে এলো মা দিবস
আলী ফোরকান
মা হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় সবচেয়ে আপন। সেই মাকে ভালোবেসে মানুষ স্মরণ করে একটি বিশেষ দিনকে। এ বছর সেই দিনটি হলো ১১মে। তবে ২০০৭ সালে দিনটি ছিল মে মাসের ১৩ তারিখে, আবার ২০০৯ সালের মা দিবস হবে মে মাসের ১০ তারিখে। ভিন্ন ভিন্ন তারিখে মা দিবস পালন করার কারণ হচ্ছে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের রোববার দিনটিকে মা দিবস ধরা হয়।
বিশ্বের প্রায় সব দেশে এবং সব জাতির মায়ের প্রতি আলাদা শ্রদ্ধা আছে। এ কারণে প্রাচীন গ্রীসের লোকেরা মা দিবসটি দেবী মা রিয়ার বা সিবিলির নামে উৎসর্গ করেছিল। তারা দিনটি পালন করত মার্চের ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে। রোমানরা ম্যাট্রনিলা নামের দিনটি ছুটির দিন হিসেবে পালন করত। তারা এই দিনটি পালন করত তাদের দেবী মা জুনোর নামে। মে মাসে মা দিবসের এই দিনটি আসার একটি ভিন্ন ইতিহাস আছে। সেটি হলো এ রকমÐআমেরিকায় ১৮৭০ সালে একবার গৃহযুদ্ধ লেগেছিল। সে সময় জুলিয়া ওয়ার্ড হোয়ে নামের এক মহিলা যুদ্ধে আহতদের সেবা করার কাজে নেমে পড়েছিলেন। তিনি শান্তির জন্য মায়েদের আহবান করে, মায়েদের জড়ো করতে থাকেন। এর জন্য তিনি বেছে নেন মাদার সানডে নামের বিশেষ দিনকে। তার এই চেষ্টা ততটা সফল হয়নি। এর আগে বৃটেনে ও আয়ারল্যান্ডের লোকেরা মাদার সানডে পালন করত। প্রথম মে মাসে মা দিবস পালন করে আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনায়, এরপর থেকে তা সারা আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১২ সাল থেকে আমেরিকার অনেক অঙ্গরাজ্যে মা দিবস সরকারিভাবে পালন করা শুরু করা হয়। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উইড্রো উইলসন রাষ্ট্রীয়ভাবে মা দিবস পালন করার ঘোষণা দেন। আমেরিকার বাইরে আরো অনেক দেশ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মা দিবস পালন করে। নরওয়ে ফেব্রæয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের রোববার মা দিবস পালন করে। ইজরায়েল পালন করে জানুয়ারী মাসের ৩০ তারিখ অথবা মার্চের ১ তারিখ। তবে মার্চের আট তারিখে বিশ্বের অনেক দেশ একসাথে মা দিবস পালন করে। উলেøখ্য যে, সেইদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আর আরব দেশগুলো ২১ মার্চ মা দিবস পালন করে। বর্তমানে মা দিবসে সারা পৃথিবীর মানুষ মাকে স্মরণ করে। তবে যারা মাকে ভালোবাসে তারা বছরের প্রতিদিনই মাকে মনে রাখে।
0 comments:
Post a Comment