Sunday, March 4, 2018

প্রকৃতি : গ্রাম বাংলায় ঋতু বদলায়

প্রকৃতি : গ্রাম বাংলায় ঋতু বদলায়
আলী ফোরকান
এক ঋতু ক্রমশ অ¯Í যায়, আরেক ঋতু ক্রমশ তার রূপ বিছায়। এভাবে এক ঋতুর শেষে আরেক ঋতু যখন আসে তখন আমাদের মনেও যেন এক ভাবের কুলে আরেক ভাব জাগে। কিন্তু শহরে বসে কী আর এখন এমন ভাব আসে? আর ঋতু বদল কী দেখা মেলে? খোদ রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় নগরীতে গ্রীষ্ম অর্থাৎ গরমকাল, বর্ষাকাল আর কয়েকদিনের জন্য শীত উঁকি দেয়। ঢাকায় যারা থাকেন তারা শীত পান মাত্র ১০ কি ১৫ দিনের জন্য। পৌষ-মাঘ নিয়ে শীতকাল, পুরো শীত পেতে হলে গ্রামে গিয়েই পাওয়া সম্ভব।
আসলে ঋতু বদল আর সেই সংগে মানুষের মনের ভাব বদল জীবনের নানা ÿেত্রে ফুটে ওঠে। কিন্তু নগরীতে বসে তা দেখা সম্ভব নয়, যারা গ্রাম বাংলায় বসবাস করেন তারা যদি একটু প্রকৃতি প্রেমিক হন তাহলে তারাই ঋতু বদল দেখতে পান। একে একে দেখতে পান ঋতুর সাজ-সজ্জা, খাওয়া দাওয়ার বদল, উৎসব আনন্দ; মেলা পার্বন। আর এ সব কিছুই প্রভাবিত হয় ঋতু বদলের কারণেই। 
প্রতিটি ঋতু গ্রাম বাংলায় আবহাওয়া, ফসলের ÿেত, নদীর ধান, খালের পাড় এর সর্বত্র যেনো জীবন্ত রূপকথা হয়ে জেগে ওঠে। ঋতুর পর ঋতু দেখে মনে নানা রঙের দোল খেলে। এদিকে সারা পৃথিবীর আবহাওয়ায় ঋতু চারটি। কিন্তু আমাদের বাংলায় ঋতু ছয়টি। যা কিনা গ্রাম বাংলায় দেখা মেলে। এই ছয় ঋতু রূপসী বাংলার প্রকৃতি ও জীবনে এনে দেয় গতিময় এক ছন্দ। গ্রাম বাংলায় একটি বছর একটানা বসবাস করা সম্ভব হলেই মনে হবেÑএ যে আমার সোনার বাংলা, এ যে রূপসী বাংলা, শস্য শ্যামলা, সুজলা সুফলা। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত-এমন ছয় ঋতুর দেশ আর কোথাও কী মেলে! এক ঋতু যায়, আসে অন্য ঋতু। এ রদবদল যেন রূপসী বাংলার প্রকৃতি জুড়ে নতুন পসরা সাজিয়ে প্রকৃতি উপহার দেয় কত না রঙ বেরঙের রূপ। গ্রাম বাংলায় এখনও গ্রীষ্মকাল তার দুরন্ত ও রুদ্র রূপ নিয়ে হাজির হয়। সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে যায় বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যে। কালবৈশাখী ছুটে এসে সব কিছু তছনছ করে দেয়। প্রচণ্ড রোদের দাবদাহে সবাই অতিষ্ঠ হন। আষাঢ় আসতেই শুরু হয় আকাশে মেঘের ¯Í‚প। নামে বর্ষা। চলে শ্রাবণ পর্যন্ত। নদী-নালা, খাল-বিল ভরে যায় জলে। বনে বনে কদম ফোটে। শরৎ আসে ভাদ্রে। তখন কাশবন নব সাজে সেজে ওঠে। শিউলি, কামিনী ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা হয় গ্রাম বাংলা আর ছোট ছোট শহর এলাকা। শুধু কী তাই, না তখন বাংলার প্রকৃতি প্রাঙ্গণে মুখরিত হয় দুর্গাপূজার উৎসবে। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। হেমন্তে প্রকৃতির নিজস্ব রূপ রয়েছে। এ সময় সোনার ধানে ভরে যায় বাড়ির উঠোন। সন্ধ্যা হতেই কুয়াশা নেমে আসে প্রকৃতিতে। নবান্ন উৎসবে মুখরিত হয় গ্রাম বাংলা।  শীত থাকে পৌষ ও মাঘ দুই মাস জুড়ে। গ্রাম বাংলার মানুষই তা অনুভব করে। নগরী বাদে সর্বত্রই যেনো ভোরের ঘন কুয়াশা ও শিশিরের আ¯Íরণে শীতের প্রকৃতিতে রিক্ত হয়ে ওঠে ছোট ছোট শহর, গাঁও গ্রাম। ফাল্গ-ন- চৈত্র দু’মাস না শীত, না গরমÑএ জন্যইতো বসন্ত ঋতুরাজ। যা কিনা গ্রাম বাংলায় বসেই শুধু উপভোগ করা যায়। দেখা যায় কোকিলকে। কোকিলের কু হুতানে মুখরিত হয় গ্রাম জনপদ, বন-জঙ্গল। অপরূপ বাংলার ঋতু বৈচিত্র্য খুঁজে পেতে হলে গ্রাম বাংলায় ফিরে গিয়েই তা পাওয়া সম্ভব। নগরীর মাঝে বসে ষড়ঋতুর দেখা-সাÿাৎ কোন অবস্থায় যে সম্ভব নয়। যিনি নগরীর মাঝে থেকে থেকে ষড়ঋতু হারিয়েছেন তিনি হয়তো শরৎ, হেমন্ত আর বসন্তকে আর দেখতেই পান না। শুধু বইয়ের পাতায় পড়েন -ষড়ঋতুর কথা। 

0 comments:

Post a Comment