Sunday, March 4, 2018

কৃষিতে বায়োটেকনোলজি

কৃষিতে বায়োটেকনোলজি
আলী ফোরকান
সভ্যতার জš§ হয়েছিল মানুষের শ্রম ও মেধার সমন্বয়ে। সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। প্রযুক্তি মানব সভ্যতাকে গুহা মানব থেকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।  বর্তমান শতকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল বায়োটেকনোলজি। বায়োটেকনোলজি হল জীবন্ত ÿুদ্রাণুকে কাজে লাগিয়ে তাদের বিভিন্ন উপাদানে রূপান্তরের মাধ্যমে বাণিজ্যিক দ্রব্য মানব কল্যাণে ব্যবহার করা। উদ্ভিদ সম্পদের উন্নয়ন এবং উদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ, নতুন নতুন রোগ প্রতিরোধÿম প্রজাতির উদ্ভাবন। প্রজাতির উন্নয়ন ও উদ্ভিদ বৈচিত্র সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয় এর আওতাভুক্ত। উদ্ভিদে জৈব প্রযুক্তি সবচেয়ে আলোচিত ও প্রয়োগিক দিক হল টিস্যু কালচার। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বীজহীন ফল উৎপাদন ও যে সকল ফসলের বীজ হয় না সেগুলো উৎপাদন করতে পারি। এই টিস্যু কালচারের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লান্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ছোট ছেলে-মেয়েদের ভিটামি-‘এ’র অভাবে হাজার হাজার শিশু অন্ধ হয়ে যায়। এশিয়ার লোকদের প্রধান খাদ্য ভাত। তাই ভাতের মাধ্যমে ভিটামিন-‘এ’র অভাব পূরণ করতে পারলেই আমাদের সন্তানেরা আর রাতকানা বা অন্ধ হবে না। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সুইডেনের একদল বিজ্ঞানী ও. চড়ঃৎুশঁং (১৯৯৯) ও তার সহযোগীরা উদ্ভাবন করেন সুপার রাইস। এই ধানের ভাত খেলে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার যারা ভাত খায় তাদের ভিটামিন-‘এ’র অভাবজনিত কারণে আর অন্ধ হবে না এবং মায়েরা রক্তশুন্যতায় ভুগবে না। 
 পৃথিবীর অন্যতম সমস্যা হল পরিবেশ দূষণ। আর পরিবেশ দূষণ কমানো যায় পরিবেশ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে, পরিবেশবান্ধব কৃষি ওষুধ, কীটনাশক ও জীবাণু সারের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে। তাই পৃথিবীব্যাপী কেমিক্যাল পেসটিসাইডের পরিবর্তে বায়োপেসটিসাইডের ব্যবহার বাড়ছে। বায়োটেকনোলজির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্লোনিং -এর মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতিরূপ তৈরি এবং জীন ম্যাপের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। ফলে পছন্দসই বৈশিষ্ট্যে উদ্ভিদ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বায়োটেকনোলজি নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও বায়োটেকনোলজিতে দ্রæত এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের ÿুদ্র দেশ মলদোভিয়ার প্রধান রফতানি হল বায়োটেকনোলজি দ্রব্য। অথচ বাংলাদেশ বায়োটেকনোলজিতে প্রাথমিক অবস্থা বিরাজ করছে। বাংলাদেশের দÿিণ পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা, প্রধান রফতানি চিংড়ির ভাইরাস, সুন্দরবনের প্রাণীবৈচিত্র রÿা ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করতে পারে বায়োটেকনোলজি। বাংলাদেশের কৃষিÿেত্রে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন দÿ জনশক্তি ও উন্নত গবেষণাগার। সকল সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশে বায়োটেকনোলজি এগিয়ে যাবে এটি সবার প্রত্যাশা ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ। 

0 comments:

Post a Comment