Sunday, March 11, 2018

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকট

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকট 
আলী ফোরকান
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৪৩ ভাগ শিÿার্থী আবাসিক সুবিধা পায়। অবশিষ্ট শিÿার্থীদের এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক হলে থাকলেও তাদের জন্য কোন সিট বরাদ্দ নেই। একই রুমে গাদাগাদি করে তাদের থাকতে হয়। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে ওঠার আগে সিটের জন্য আবেদনও করা যায় না। আবার ছাত্রী ভর্তির হার বেড়ে যাওয়ায় ছাত্রীদের সিট সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিÿার্থী অনুপাতে আবাসিক হল না থাকা, শিÿার্থীর হার অনুযায়ী হলের সম্প্রসারণ না করা, ছাত্র নেতাদের নামে পৃথক রুম বরাদ্দ থাকা, সিট বন্টনে পরিকল্পনার অভাব এবং দলীয় প্রভাবের কারণে আবাসিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এসব কারণে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে একই রুমে গাদাগাদি করে ১০ থেকে ১৫ জন শিÿার্থীকে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হলে ‘গণরুম’ নামে এক বা একাধিক কÿ থাকে। যেখানে একই কÿে ৩০ থেকে ৩৫ জন বা তারও বেশি শিÿার্থীকে থাকতে হয়। ফলে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েই লেখাপড়ায় বিঘœ ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি আবাসিক হলের সবগুলোই বেদখল হয়ে আছে। এসব হল উদ্ধারে কর্তৃপÿ কোন ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপÿ দাবি করছে তারা ৬টি হলের প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে।  হলের সিট বন্টনে ছাত্রনেতাদের দৌরাত্ম্যের কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে আবাসিক সুবিধা থেকে। হলের প্রতিটি কÿই থাকে কোন না কোন রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্রনেতাদের দখলে। বিশেষ করে ÿমতাসীন দলের দখলে থাকে বেশিরভাগ কÿ। রাজনৈতিক সংগঠনগুলো মেধাবীদের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়দের আবাসিক সুবিধা দেয়ার ÿেত্রে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। প্রতিটি হলের কয়েকটি কÿ থাকে নেতাদের নামে বরাদ্দ। ভিআইপি আদলে নির্মিত এসব কÿে চারজন থাকার সুযোগ থাকলেও থাকছে মাত্র একজন শিÿার্থী। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির হার বেশি হওয়ায় ছাত্রী হলে সিট সংকট প্রকট। অন্যদিকে ছাত্রদের হলের পর্যাপ্ত কÿ খালি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি হল ছাত্রীদের জন্য ছেড়ে দেয়া হলে ছাত্রদের সিট সংকট হবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে ওঠার আগে সিটের জন্য আবেদনও করা যায় না। তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত তাদের একই রুমে কয়েকজনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিÿার্থীর মধ্যে ৯০ ভাগই আবাসিক সুবিধা বঞ্চিত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৬২ হাজার ১৪৫ জন শিÿার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৭ হাজার ৩৩৯ জন শিÿার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ হাজার ৫১৫ শিÿার্থীর মধ্যে ১৮টি হলে ১৫ হাজার ৮৭৯ জন শিÿার্থী আবাসিক সুুবিধা পাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ হাজার ৩৩১ জন শিÿার্থীর মধ্যে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে ২৮ শতাংশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ হাজার ২৯৭ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৮৭ শতাংশ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ২৪৩ শিÿার্থীর মধ্যে ৩৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ হাজার ৩৩১ শিÿার্থীর মধ্যে ২৪ শতাংশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার ৪ জন শিÿার্থীর ৭৫ শতাংশ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৪১ শিÿার্থীর মধ্যে ১৯ শতাংশ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ হাজার ২৮৭ জন শিÿার্থীর মধ্যে ২৪ শতাংশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫২ শিÿার্থীর মধ্যে ২৯ শতাংশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৯ শিÿার্থীর মধ্যে ৮২ শতাংশ, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ২৬৯ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৫২ শতাংশ, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮ শিÿার্থীর মধ্যে ৩৩ শতাংশ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ২৩৩ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৯৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৭৫১ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৮৬ শতাংশ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৬৯৪ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৯০ শতাংশ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৯৮৯ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৭৬ শতাংশ, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৭৩৮ জন শিÿার্থীর মধ্যে ৪৯ শতাংশ শিÿার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪৮ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬৩, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৫ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২৯ জন শিÿার্থীর সবাই আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দাবি করেছে। 

0 comments:

Post a Comment