চাঁদ ফকির থেকে চাঁদপুর
আলী ফোরকান
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদীবন্দর চাঁদপুর। পাট ব্যবসার অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র ও মৎস্য আহরণ ও অবতরণ কেন্দ্রের জন্যও চাঁদপুর বিখ্যাত। জেলার নামকরণে এ তথ্য পাওয়া যায় যে, ইতিহাস বিখ্যাত বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের নাম থেকেই এ অঞ্চলের নাম হয়েছে চাঁদপুর। আবার অন্য তথ্য মতে, শহরসংলগ্ন কেড়ালিয়া গ্রামের চাঁদ ফকিরের নাম থেকেই চাঁদপুর নামকরণ করা হয়েছে। এ জেলার শিল্প, শিÿা, ব্যবসার ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন। এ জেলার আয়তন ১ হাজার ৭০৪ দশমিক ০৬ বর্গকিলোমিটার। জেলার পূর্বে কুমিলøা; পশ্চিমে মেঘনা নদী ও শরিয়তপুর এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা; উত্তরে মুন্সীগঞ্জ ও কুমিলøা; দÿিণে নোয়াখালী, ল²ীপুর ও বরিশাল জেলা। চাঁদপুর চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা। এ জেলার লোকসংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। বসবাসের ঘনত্বের বিচারে এ জেলার অবস্থান ষষ্ঠ। চাঁদপুর এককালে অবিভক্ত ভারতের ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারত ভাগের পর এটি কুমিলøা জেলার আওতাধীন আসে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর আলাদা জেলার মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে ৮টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা, ৮৭টি ইউনিয়ন এবং ১ হাজার ২৪৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। জেলার প্রধান নদী হচ্ছেÑ ডাকাতিয়া, গোমতি, ধনাগোদা, মতলব, উধমদি। চাঁদপুরে আরো রয়েছেÑ জুট মিল, বরফ কল, হিমাগার, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, ম্যাচ ফ্যাক্টরি ও কুটির শিল্পের জন্য তাঁত শীতল পাটি, মৃৎশিল্প, বাঁশ, বেতের জিনিস, জাল তৈরির কাজ, লবণ রিফাইনারি কারখানা। এসবই চাঁদপুরকে বৃহত্তম নদীবন্দর হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
0 comments:
Post a Comment