Thursday, March 8, 2018

পলাশীর ট্র্যাজেডি ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট


পলাশীর ট্র্যাজেডি ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

আলী  ফোরকান 
পলাশীর যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের মর্মান্তিক ঘটনা ।১৭৫৬ সালে বাংলা ,বিহার ও উড়িষ্যার নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।তখন বাংলায় ডাচ(ওলন্দাজ),ফরাসি ও ইংরেজ বণিকেরা বাণিজ্য করছিল।ইংরেজ বণিকদের বাণিজ্য সংস্থার নাম ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।ক্ষমতা গ্রহনের পর নানা কারনে নবাবের সাথে  রর্বাট ক্লাইভের বিরোধ দেখা দেয়।আলীনগরের সন্ধি স্থাপিত হলেও রর্বাট ক্লাইভ সিরাজউদ্দৌলাকে নবাব হিসেবে মেনে নিতে পারেনি।এক পর্যায়ে রর্বাট ক্লাইভ নবাবকে ক্ষমতা থেকে সরানোর গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করে।ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সূত্র ধরে বাংলাদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।রর্বাট ক্লাইভ  ফরাসিদের চন্দননগর দখল করে নেয়।এসময় ফরাসিরা আতœরক্ষার জন্য মুর্শিদাবাদে আশ্রয় নেয়।সিরাজ ইংরেজদের উদ্ধত আচরণে শংকিত হয়ে দাক্ষিণাত্যের ফরাসি সেনাপতি বুসির সাথে পত্রালাপ করেন।মুর্শিদাবাদে নবাব কতৃক ফরাসিদের আশ্রয় প্রদান ও বুসির সাথে পত্রালাপের গুরুত্ব অনুধাবন করে সুচতুর ক্লাইভ মুর্শিদাবাদের  সিংহাসনে সিরাজের পরিবর্তে তার মনোনীত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।ক্লাইভের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এদেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা,রায় দুর্লভ,জগৎ শেঠ,মীর জাফর,উমিচাঁদ,রাজবল্লভ প্রমুখ।১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নদীয়া জেলার পলাশীতে বাংলার নবাব সিরাজ উদদৌলা,  ইংরেজ ও দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের শিকারে পরিণত হয়।স্বাধীন নবাবের ৫০ হাজার সৈন্য ষড়যন্ত্রের কারণে ইংরেজদের মাত্র ৩ হাজার ২০০ সৈন্যের কাছে পরাজিত হয়।এখানে পলাশী ট্র্যাজেটির শেষ নয়।দেশীয় চক্রান্তকারিদের সহযোগিতায় ক্লাইভের নির্দেশে বাংলার নবাবকে বন্দীপূর্বক নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।পলাশীর ইতিহাস বিশ্ব মুসলিম সমাজসহ এ দেশের মুসলমান সমাজের জন্য আজ ও এক সর্তক বাণী।পলাশীর ট্র্যাজেডি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়,দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী,ক্ষমতালোভী,বিশ্বাসঘাতক,নিজের স্বার্থ চরির্থাত করার জন্যে একটি সমৃদ্ধশালী স্বাধীন দেশকে ২০০ বছরের গোলামীর শিকল পরিয়েছিল।পৃথিবীর সবচেয়ে ৫৫০ বছরের মুসলিম শাসনকে কি কুট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়েছিল।আজো বাংলাদেশের মাটিতে মীর জাফর,মীরন,দুর্লভ রায়,উর্মিচাঁদ,জগৎ শেঠ,নন্দকুমারদের ষড়যন্ত্র অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।তারা অপপ্রচারের মাধ্যমে  দেশের সরকার,নিবার্চন,বিচার বিভাগ,সেনাবাহিনীসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে কলষ্কিত করে তুলেছে।অত্যান্ত সুনিপূণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপের আমন্ত্রণ জানাচেছ।তারা দেশে বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুর্ণ করছে।সংখ্যালঘুদের অত্যাচারের ধোঁয়া তুলে আমেরিকার নিউর্ইক শহরে জোসেফ ক্রাউলি কে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংখ্যা লঘুদের নিধন চলছে বলে কল্প কাহিনী তৈরি করা হয়।এছাড়া হিন্দু-বৌদ্ব খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যনারে ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে।১৯৪৬ সাল থেকে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা বলতে যে সংঘটিত সন্ত্রাস বুঝায়,তা বোধ হয় একটি ও ঘটেনি এ দেশে।কিন্তু খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে দেখা যাবে যে,গত ৬০ বছরে বাংলাদেশে যত মানুষ খুন হয়েছে তার মধ্যে হিন্দুর সংখ্যা ৩ বা ৪ জনের বেশি নয়(অথচ হিন্দু জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩%)।আরো দেখা যাবে যে,এই অতি সামান্য সংখ্যাক হিন্দু নিহত হয়েছেন,তারাও নিহত হয়েছেন তাদেরই স্বজাতি,অর্থাৎ হিন্দুদের হাতেই,জমিজমা ব্যবসা সংক্রান্ত দন্ধ,প্রেমজ ঘটনা ইত্যাদির কারণে। কিন্তু  এখনও তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের ধারণা, বাংলাদেশে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা চলছে।আর এই গল্প যদি এক নাগারে চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে বিশ্বে বাংলাদেশকে সা¤প্রদায়িক মৌলবাদীর দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে তাদের স্বার্থচরিথার্ত করার পথ সহজ হবে।এছাড়া ষড়যন্ত্রকারিদের প্রভাবাধীন বিভিন্ন মিড়িয়ার ক্রমাগত প্রচার,তাদের ওয়েব সাইট,হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মাধ্যমে তারা দেশকে সা¤প্রদায়িক দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচেছ। পলাশীর পথ ধরে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিরা দেশের স্বাধীনতাকে হরণের তৎপরতায় রয়েছে।পলাশীর ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করে সামনে চলতে হবে।তাহলে দেশীÑবিদেশী কোন ষড়যন্ত্রকারি আর কোন সিরাজ,জিয়াকে হত্যা করতে পারবেনা।দেশকে ও পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত রাখা যাবে।

0 comments:

Post a Comment