দীর্ঘ বৈঠকেও সমুদ্রসীমান্ত অমিমাংসিত
আলী ফোরকান
দীর্ঘ বছর পর ঢাকায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বৈঠক। কারিগরি পর্যায়ের এ বৈঠকটির মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে সরকার। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কে মাহমুদ। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির নৌবাহিনীর চিফ হাইড্রোগ্রাফার রিয়ার এডমিরাল বি আর রাও। দলটি বিকালে ঢাকা পৌঁছায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনক্লস বিভাগে বৈঠকে বসছে দু’দেশের প্রতিনিধিদল। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে আলোচনা করতে এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। মিয়ানমারের সঙ্গে ১৯৮৬ সালের পর এ বছর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আর ১৯৮২ সালের পর ভারতের সঙ্গেও আর কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু জাতিসংঘে সমুদ্রসীমার দাবি উত্থাপনের সময় ঘনিয়ে এলে ঊভয় দেশ আবারও আলোচনা শুরুর তাগিদ অনুভব করে। বাংলাদেশকে ২০১১ সালের জুলাই, ভারত ২০০৯ সালের ২৯ জুন এবং মিয়ানমারকে ২০০৯ সালের ২১ মের মধ্যে সমুদ্রসীমার দাবিসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ জাতিসংঘে পেশ করতে হবে। এর পরই প্রতিবেশী এ তিন দেশ নিজ নিজ পক্ষে তৎপরতা বাড়ায়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দু’দফায় আলোচনার টেবিলে বসেছে। গত এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা। এর পরই নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনার দিন-ক্ষণ ঠিক হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় নাফ নদী ও তার মোহনা সীমানা নির্বিশেষে বিঘœহীনভাবে ব্যবহারে সম্মত হয় দ’ুদেশ। এ ছাড়া উভয় দেশই ১৯৭৪ সালের এডহক সম্মতিপত্র অনুযায়ী সমুদ্র সীমানা সংক্রান্ত দুদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা স্পষ্টীকরণে সক্ষম হয়। তবে এখনও এ ব্যাপারে দ’ুদেশের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়ে গেছে। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠকে এ ব্যাপারে আরও অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ না হওয়ায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চরম বিপত্তির মধ্যে পড়েছে এই তিন প্রতিশেী দেশ। গত বছর ভারত ও মিয়ানমার সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আর্šÍজাতিক দরপত্র আহŸান করলে বাংলাদেশ আপত্তি জানায়। অন্যদিকে এ বছর বাংলাদেশ একই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহŸান করলে প্রতিবেশী দেশদ’ুটি চরম আপত্তি জানায়। এ নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাধাগ্র¯Í হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের আপত্তির মুখে মিয়ানমার কোন অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশে তার দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ব্লকগুলো পড়েছে তা জানিয়েছে। তবে ভারত এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো তালিকা বাংলাদেশকে দেয়নি। এবারের বৈঠকে এসব সমস্যার নিষ্পত্তি হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে। শুরু হওয়া বৈঠকের বিষয়ে সরকারে মুখপাত্র বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণসংক্রান্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। এক পরিসংখানে দেখা যায়, দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতের সাথে বহুবার বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো বৈঠকেই সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়নি। কেন হয়নি সেটা জানা না গেলেও ভারত সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে। তবে এর কুফল ভোগ করতে হচেছ সমগ্র জাতিকে। গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে দীর্ঘকাল সমুদ্রসীমা অনির্ধারিত থেকে যায়। এতে করে আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থই শুধু ক্ষতিগ্র¯Í হচেছ না, একই সাথে নিত্যনতুন সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে । এসব সমস্যাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেরও অবনতি ঘটছে। যাহা মোটেও অভিপ্রেত নয়। সমুদ্রসীমা অনির্ধারিত থাকায় এক দেশের জেলেরা ঢুকে পড়ছে অন্য দেশের সমুদ্রসীমায়। একই ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড এবং মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর ক্ষেত্রেও। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানীরাও এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে পুরোদমে। অন্যদিকে, বিনা অপরাধে জেল খাটছে উভয় দেশের বহু নিরীহ হতদরিদ্র মানুষ। এগুলো তুচ্ছ সমস্যা। এর চেয়ে ও গুরুতর সমস্যার উদ্ভব হয়েছে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে। গত বৎসর ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানায়। এ বৎসর বাংলাদেশ একই উদ্যোগ গ্রহণ করলে ভারত ও মিয়ানমারের প্রতিবাদ করে। ফলে বাংলাদেশের তেল - গ্যাস অনুসন্ধান অসমাপ্তই থেকে যায়। এ ধরনের টানাপোড়েন প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যতদ্রুত সম্ভব এর স্থায়ী অবসান হওয়া দরকার। বিলম্বে হলেও সে সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। সুযোগের একটি কারণ হচ্ছে জাতিসংঘের বাধ্যবাধকতা। ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অন দ্য ল অফ দ্য সি’ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মধ্যে মিয়ানমার ও ভারতকে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমুদ্রসীমার দাবি সম্পর্কিত জরিপ এবং তথ্যউপাত্ত জাতিসংঘে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এই সময়সীমা হচ্ছে ২০১১ সাল। ভারত ও মিয়ানমারকে ২০০৯ সালের মধ্যে এবং বাংলাদেশকে ২০১১ সালের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে জাতিসংঘই সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করবে। তবে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতেও বিষয়টি নির্ধারণ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে এনিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির দুটি বৈঠক হয়েছে। আর একটি বৈঠক চলছে ঢাকায়। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও একটি সভা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানা যায়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জেনারেল মাউং আইএর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি এ সময়ে নিষ্পত্তি হতে পারে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে। এ সুযোগকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বর্তমানে এনিয়ে ভারতের সাথে বৈঠক চলছে। যতদূর জানা যায়, বাংলাদেশের প্র¯Íুতিও আশাব্যঞ্জক। পররাষ্ট্রসচিব সেই রকমই আভাস দিয়েছেন। উভয় দেশ দ্রুততর সময়ের মধ্যেই সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর। আমাদেরও তাই কাম্য। গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশী দেশের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি শুধু জটিলই নয়, স্পর্শকাতরও। এসব ব্যাপারে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। কোনো অজুহাতেই যেন এ ক্ষেত্রে অযথা কালক্ষেপণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে । সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে অবশ্যই তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি সমুদ্রসীমাসহ অন্যান্য সব অমীমাংসিত বিষয়াদি নিরসনের মাধ্যমে উভয় দেশ এখন পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হবে। বর্তমান নবনির্বাচিত সরকার আশাকরি এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
আলী ফোরকান
দীর্ঘ বছর পর ঢাকায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বৈঠক। কারিগরি পর্যায়ের এ বৈঠকটির মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে সরকার। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কে মাহমুদ। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির নৌবাহিনীর চিফ হাইড্রোগ্রাফার রিয়ার এডমিরাল বি আর রাও। দলটি বিকালে ঢাকা পৌঁছায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনক্লস বিভাগে বৈঠকে বসছে দু’দেশের প্রতিনিধিদল। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে আলোচনা করতে এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। মিয়ানমারের সঙ্গে ১৯৮৬ সালের পর এ বছর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আর ১৯৮২ সালের পর ভারতের সঙ্গেও আর কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু জাতিসংঘে সমুদ্রসীমার দাবি উত্থাপনের সময় ঘনিয়ে এলে ঊভয় দেশ আবারও আলোচনা শুরুর তাগিদ অনুভব করে। বাংলাদেশকে ২০১১ সালের জুলাই, ভারত ২০০৯ সালের ২৯ জুন এবং মিয়ানমারকে ২০০৯ সালের ২১ মের মধ্যে সমুদ্রসীমার দাবিসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ জাতিসংঘে পেশ করতে হবে। এর পরই প্রতিবেশী এ তিন দেশ নিজ নিজ পক্ষে তৎপরতা বাড়ায়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দু’দফায় আলোচনার টেবিলে বসেছে। গত এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা। এর পরই নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনার দিন-ক্ষণ ঠিক হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় নাফ নদী ও তার মোহনা সীমানা নির্বিশেষে বিঘœহীনভাবে ব্যবহারে সম্মত হয় দ’ুদেশ। এ ছাড়া উভয় দেশই ১৯৭৪ সালের এডহক সম্মতিপত্র অনুযায়ী সমুদ্র সীমানা সংক্রান্ত দুদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা স্পষ্টীকরণে সক্ষম হয়। তবে এখনও এ ব্যাপারে দ’ুদেশের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়ে গেছে। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠকে এ ব্যাপারে আরও অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ না হওয়ায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চরম বিপত্তির মধ্যে পড়েছে এই তিন প্রতিশেী দেশ। গত বছর ভারত ও মিয়ানমার সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আর্šÍজাতিক দরপত্র আহŸান করলে বাংলাদেশ আপত্তি জানায়। অন্যদিকে এ বছর বাংলাদেশ একই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহŸান করলে প্রতিবেশী দেশদ’ুটি চরম আপত্তি জানায়। এ নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাধাগ্র¯Í হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের আপত্তির মুখে মিয়ানমার কোন অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশে তার দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ব্লকগুলো পড়েছে তা জানিয়েছে। তবে ভারত এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো তালিকা বাংলাদেশকে দেয়নি। এবারের বৈঠকে এসব সমস্যার নিষ্পত্তি হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে। শুরু হওয়া বৈঠকের বিষয়ে সরকারে মুখপাত্র বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণসংক্রান্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। এক পরিসংখানে দেখা যায়, দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতের সাথে বহুবার বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো বৈঠকেই সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়নি। কেন হয়নি সেটা জানা না গেলেও ভারত সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে। তবে এর কুফল ভোগ করতে হচেছ সমগ্র জাতিকে। গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে দীর্ঘকাল সমুদ্রসীমা অনির্ধারিত থেকে যায়। এতে করে আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থই শুধু ক্ষতিগ্র¯Í হচেছ না, একই সাথে নিত্যনতুন সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে । এসব সমস্যাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেরও অবনতি ঘটছে। যাহা মোটেও অভিপ্রেত নয়। সমুদ্রসীমা অনির্ধারিত থাকায় এক দেশের জেলেরা ঢুকে পড়ছে অন্য দেশের সমুদ্রসীমায়। একই ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড এবং মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর ক্ষেত্রেও। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানীরাও এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে পুরোদমে। অন্যদিকে, বিনা অপরাধে জেল খাটছে উভয় দেশের বহু নিরীহ হতদরিদ্র মানুষ। এগুলো তুচ্ছ সমস্যা। এর চেয়ে ও গুরুতর সমস্যার উদ্ভব হয়েছে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে। গত বৎসর ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানায়। এ বৎসর বাংলাদেশ একই উদ্যোগ গ্রহণ করলে ভারত ও মিয়ানমারের প্রতিবাদ করে। ফলে বাংলাদেশের তেল - গ্যাস অনুসন্ধান অসমাপ্তই থেকে যায়। এ ধরনের টানাপোড়েন প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যতদ্রুত সম্ভব এর স্থায়ী অবসান হওয়া দরকার। বিলম্বে হলেও সে সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। সুযোগের একটি কারণ হচ্ছে জাতিসংঘের বাধ্যবাধকতা। ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অন দ্য ল অফ দ্য সি’ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মধ্যে মিয়ানমার ও ভারতকে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমুদ্রসীমার দাবি সম্পর্কিত জরিপ এবং তথ্যউপাত্ত জাতিসংঘে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এই সময়সীমা হচ্ছে ২০১১ সাল। ভারত ও মিয়ানমারকে ২০০৯ সালের মধ্যে এবং বাংলাদেশকে ২০১১ সালের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে জাতিসংঘই সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করবে। তবে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতেও বিষয়টি নির্ধারণ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে এনিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির দুটি বৈঠক হয়েছে। আর একটি বৈঠক চলছে ঢাকায়। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও একটি সভা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানা যায়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জেনারেল মাউং আইএর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি এ সময়ে নিষ্পত্তি হতে পারে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে। এ সুযোগকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বর্তমানে এনিয়ে ভারতের সাথে বৈঠক চলছে। যতদূর জানা যায়, বাংলাদেশের প্র¯Íুতিও আশাব্যঞ্জক। পররাষ্ট্রসচিব সেই রকমই আভাস দিয়েছেন। উভয় দেশ দ্রুততর সময়ের মধ্যেই সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর। আমাদেরও তাই কাম্য। গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিবেশী দেশের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি শুধু জটিলই নয়, স্পর্শকাতরও। এসব ব্যাপারে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। কোনো অজুহাতেই যেন এ ক্ষেত্রে অযথা কালক্ষেপণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে । সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে অবশ্যই তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি সমুদ্রসীমাসহ অন্যান্য সব অমীমাংসিত বিষয়াদি নিরসনের মাধ্যমে উভয় দেশ এখন পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হবে। বর্তমান নবনির্বাচিত সরকার আশাকরি এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
x
0 comments:
Post a Comment