বাজর মূল্য উর্ধ্বমুখী রোধের সহজ উপায়
আলী ফোরকান
সারা দেশের বাজারে আগুন। কিছুতেই নিভানো যাচ্ছে না এ আগুন। বর্তমান তত্ত¡াবধায়ক সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কিছু পণ্যের শুল্ক করাদি প্রত্যাহার করেছে। বিগত রাজনৈতিক সরকারগুলোও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল। এতে সরকার অনেক রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া ছুটছে তো ছুটছে। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা শিগগির চ‚ড়ান্ড করা হবে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ।তিনি বলেছেন,এখনো অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণের পথ খুজছে সরকার। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করা হবে। আর এ সমস্যার দ্রুত একটি সমাধান করতে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভোক্তা, উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেয়া হবে একটি কার্যকর ব্যবস্থা। গতসোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সাউথ এশিয়ান সোশিওলজি কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে দু’এক দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা এবং দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, এর আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসার পর ২৪ ফেব্র“য়ারি থেকে ২ মার্চ বাজার স্থিতিশীল ছিল। তারপর থেকে বাজার আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লেও যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে সে জন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু আর্ন্তজাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে সেহেতু স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়তে পারে। তবে সেটার যৌক্তিকতা থাকতে হবে। অর্থাৎ এ মুহ‚র্তে দাম বাড়লেও যাতে বাজার অস্থিতিশীল না হয় সে ব্যাপারে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আর এ প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত আমরা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছি। এছাড়া দু’এক দিনের মধ্যেই আমরা দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারো বসবো। বর্তমানে চালের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এ জন্য বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি পথ খুজে বের করতে হবে। এমনকি বাজার নিয়ন্ত্রণে শাস্তির দেয়ার মাধ্যমেও যদি সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, তাহলে সেটা ও করা হবে।এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। ঈদ, রমজান ও বিভিন্ন পূজার্পবণে দেশে হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হতে থাকে। বর্তমানেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন ও স্থানীয়ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স গঠন করা। এ কমিটি প্রতি মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিম্নলিখিত সুপারিশমালা কার্যকর হলে বাজারদর স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
১. মুল্য নির্ধারণ করা : দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স গঠন। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চাল, ডাল, গম, চিনি, তেল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, গুঁড়ো দুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য নির্ধারণ করতে হবে। এ সব পণ্যের আমদানিকারকদের নিয়ে ও প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর মুল্য নির্ধারণ করতে হবে।
২. নতুন নতুন পাইকারি বাজার সৃষ্টি করা : ঢাকা, চট্টগ্রাম. খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পণ্যের সুষম বণ্টনে জরুরি ভিত্তিতে কাঁচামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বেচাকেনার কমপক্ষে ১০টি পাইকারি বাজার বসাতে হবে। এসব বাজারে পণ্যের উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক অতি সহজে সরাসরি পণ্য বিক্রি করার সুয়োগ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে কোন প্রকার দালাল গোষ্ঠী বা মধ্যস্বত্ব ভোগি থাকবেনা। যাদের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করে। এ সব পাইকারি বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা টাস্কফোর্স। বিশেষত এসব বাজারে পণ্য উৎপাদকদের সমবায় ভিত্তিক বাধ্যতা মূলক বিক্রয় কেন্দ্র সৃষ্টি করতে হবে।
৩. রমজান মাস, ঈদ ও পূজাঁপর্বণ : সাধারণত রমজান মাস, ঈদও পূজাঁর্পবণ আসলে আমদানিকৃত পণ্যের সাথে দেশে উৎপাদিত খাদ্যশস্য, তরিতরকারির মূল্যও বহু গুণে বেড়ে যায়। এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর । এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন / পৌরসভা টাস্কফোর্স পাইকারী ও খুচরা বাজরের মূল্যে তালিকা নিধারণ করবে। এ নির্ধারিত মুল্যতালিকা বাস্তবায়নে বাজার পরিদর্শকের মাধ্যমে কঠোরভাবে মনিটরিং করবে। সাধানত কাঁচাবাজারগুলো সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মালিকানাধীন। এসব হাট বাজারের ইজারাদারদের মূল্য তালিকা না মানলে কঠিন শর্তাবলী আরোপ করতে হবে।
৪. পরিবহন ব্যবস্থা সহজীকরণ : একটি বিষয় আমাদের সকলেরই জানা যে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও দোহাজারীতে মুলা ৩ কেজি ১ টাকায় বিক্রি করতে না পেরে গরুকে খাওয়ায়, তখনও দেশের রাজধানীসহ বেশিরভাগ বিভাগীয় শহরে তা বিক্রি হয় ১০-২০ টাকায়। নরসিংদীতে যখন করলার কেজি ১ টাকা, ঢাকায় তখন ২০ টাকা। উত্তরবঙ্গে বেগুন ও মুলা কৃষকেরা যখন বিক্রি করতে না পেরে বাজারে ফেলে যায়, তখনও রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ বিভাগীয় শহরবাসী বেগুন ১৫-৩০ টাকা কেজি এবং মুলা ১০-২০ টাকা কেজিতে ক্রয় করে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে প্রতিক‚ল পরিবহন ব্যবস্থা। আমাদের এমন একটি সহজ পদ্ধতির পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে করে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য অতি সহজে কম খরচে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের পাইকারি বাজারে সরাসরি বিক্রি করতে পারে। এতে কৃষকেরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে ও রাজধানীসহ শহরবাসী অত্যন্ত কম মূল্যে শাকসবজি ও তরিতরকারি ক্রয় করতে পারবে। এ জন্য বেসরকারি পর্যায়ে অত্যাধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় পণ্যসামগ্রী দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকারী কাভার্ড ভ্যানের কি.মি. প্রতি ভাড়া নির্ধারিত হারে থাকবে। নিত্যপ্রয়েজনীয় পণ্যের পরিবহণে প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় নির্ধারিত অফিস থাকবে। উৎপাদক ও পাইকারগণ সার্বক্ষণিক এসব অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবহন সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য পরিবহন রাস্তায় চলাচলের সময় অ্যাম্বুলেন্সের মতো অগ্রাধিকার পাবে। কোথাও কোনো টোল থাকবে না। সারা দেশে চলাচলের জন্য এদের রুট পারমিট থাকবে। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের কাছের বাজারে বা নির্দিষ্ট পরিবহন অফিসে পণ্য মজুদ করবে। পরিবহন ভ্যানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য বোঝাই করে দেশের যে প্রান্তে বা শহরে এ সব পণ্যের চাহিদা বেশি সেখানে পৌঁছে দেবে। এসব কাভার্ড ভ্যান হবে গ্যাসচালিত যাতে জ্বালানি খরচও কম হয়। এ সব কাভার্ড ভ্যান শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত থাকবে। অন্য কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারবে না।
৫. মৌসুমি পণ্যের গুদামজাতকরণ : আমাদের দেশে এমন অনেক পণ্য রয়েছে যা নির্দিষ্ট মৌসুমে উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত মৌসুমে এসব পণ্যের দাম অনেক কম থাকে, পরে অনেক বেশি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে মৌসুমী পণ্য ক্রয় করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করতে পারে। যা অফসিজনে বাজারে ছেড়ে বাজারদর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সাধারনত সিজনে বেগুন, কাঁচা মরিচ, শসা, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য কম থাকে। এসময় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা টাস্কর্ফোস এসব পণ্য ক্রয় করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করবে। রমজান মাস ও ঈদ,পূজাঁপর্বন আসার সাথে সাথে বাজারে চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করবে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ থাকলে, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ১ দিনের ব্যবধানে ১০-১৫ টাকার শসা ৬০ টাকা, ১২ টাকার বেগুন ৯০ টাকায় বিক্রি করার সুযোগ পাবেনা।
৬. ব্যাংক ঋণ সুলভকরণ : আমদানিকৃত পণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ দিয়ে থাকে, সেই একই হারে আমদানিকারকদের ঋণ দিয়ে পণ্যের আমদানি খরচ মিটিয়ে পণ্যের অবতরণ মূল্য কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে ভর্তুকি দিতে হলেও তা সরকারের রাজস্ব খাতে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।
৭. মূল্য নির্ধারণ : বর্তমান তথ্য প্রবাহের যুগে ইনফরমেশন টেকনোলজি মাুনষের দোরগোড়ায়। সুতরাং বিশ্ব বাজারে পণ্যের মান ও মূল্য যাচাই করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। টাস্কফোর্স পণ্যের উৎস, ক্রয়মূল্য অবগত হয়ে তার ওপর সকল আমাদনি খরচ ও আমদানিকারকের ৫-৭ শতাংশ লভ্যাংশ যোগ করে পণ্যের পাইকারি ও খুচরা মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যাতে করে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ না পায়। এ ব্যবস্থায় আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিং করারও সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি প্রত্যেকটি পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে।
৮. ব্যবস্থাপনা বিপণন পদ্ধতি : বর্তমানে সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এতে করে বাজারদর অনেকটা নিয়ন্ত্রণেও থাকছে। কিন্তু বিডিআর পরিচালিত এসব বিক্রয় কেন্দ্র স্বতন্ত্র জায়গায় স্থাপিত হওয়ায় সবাই এর সুবিধা পাচ্ছে না। এ সব বিক্রয়কেন্দ্র কাঁচাবাজারের মধ্যে থাকলে বাজারেও প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে, জনগণও এর সুফল পাবে। এর পরও এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিপণনের নেটওয়ার্ক থাকে না বা নাই। অন্যদিকে বড় বড় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বিপণনের নেটওয়ার্ক থাকে। টাস্ক ফোর্স, আমদানিকারক ও ব্যবসায়েিদর সম্বন্বয়ে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করে তাদের দিয়েই যদি সারা দেশে বাজারজাত করানো যায়, তা হবে অনেকটা সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি।
৯. হোল্ডিং আইন : পত্রিকার খবরে জানা যায়, ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার হোল্ডিং আইনের একটি খসড়া কপি ব্যবসায়ীদের অবগতির জন্য ফেডারেশনে প্রেরণ করেছে। আমাদের মতে এটা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ মজুদদারি আর অতিরিক্ত পণ্য সংরক্ষণে রাখা এক কথা নয়। মজুদদারি হচ্ছে পণ্য গোডাউনে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি করা। আর সংরক্ষণ হচ্ছে একসঙ্গে অনেক পণ্য আমদানি করে চাহিদা মোতাবেক বাজারে বিক্রি করা। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীরা পণ্যের আমদানি খরচ কমাতে অনেক পণ্য এক সাথে আমদানি করে থাকে। যাতে করে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্য বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কারণ অনেক পণ্য একসঙ্গে আনলে পণ্যের পরিবহনসহ অনেক খরচ কম হয়। সুতরাং হোল্ডিং আইন বাস্তবায়ন করা না করার মধ্যে বাজারদরে বিশেষ কোন প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে আমাদের মনে হয় না। যদি টাস্কফোর্স সার্বিক বিষয়াদি মনিটরিঙের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাহলে কোন ব্যবসায়ীর গুদামে পণ্য বেশিদিন থাকলেও বাজারে এর প্রভাব পড়বে না। এছাড়া এমন অনেক পণ্য রয়েছে যা ভরা মৌসুমে কিনে গুদামজাত করতে হয়। ৬-৯ মাস গুদামে রেখে অফ সিজনে বাজারজাত করতে হয়। এমতাবস্থায় হোল্ডিং আইনকে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী-বান্ধব ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে এই আইনে সংশোধনী আনা প্রয়োজন।
১০. টিসিবি পুনর্গঠন : পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এক বা একাধিক রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান থাকে। তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে। আমাদের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা টিসিবির অতীত কর্মকাণ্ড খুব একটা সুখকর নয়। আমাদের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থাকে নতুন করে সাজানো দরকার। প্রয়োজনে দক্ষ জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে পরামর্শকও নিয়োগ করা যেতে পারে। যারা টিসিবির আমদানি কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে এই রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফলে বেসরকারি আমদানিকারকদের সঙ্গে টিসিবির একটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এ বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় বাজারে পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারিত হবে। উপরোল্লি¬খিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারদর সারা বছর সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সাধারন জনগণও এর সুফল পাবে। জাতীয় অর্থনীতিতে ও স্থিতিশীলতা আসবে।
0 comments:
Post a Comment