Sunday, February 18, 2018

দেশের চিংড়ি শিল্পকে বাঁচাতে হবে

দেশের চিংড়ি শিল্পকে বাঁচাতে হবে 
  আলী ফোরকান 
দেশের সাদা সোনা, চিংড়ি নিয়ে ষড় যন্ত্র চলছে। রফতানি আয় কমে যাচ্ছে দেশের। কারণ বহুবিধ। তবে প্রধান একটি কারণ হচ্ছেÑ একশ্রেণীর রফতানিকারকের অনৈতিকতার কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হওয়া। আস্থা না থাকলে আমদানিকারক দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিতে অনাগ্রহ দেখাতেই পারে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিমায়িত চিংড়ি। বর্তমানে চিংড়ি খাত থেকে বাংলাদেশ বছরে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। ২০০৮ সালে দেশের চিংড়ি খাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু এক শ্রেণীর অতিলোভী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রফতানিরকারকের কারণেই হিমায়িত চিংড়ি আমদানিকারক ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় চিংড়ি রফতানি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারসহ যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ না করায় বিশ্ববাজারে চিংড়ি রফতানিতে মার খাচ্ছে বাংলাদেশ। শুধু রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না তাই নয়Ñ কোটি ডলার খরচ করে রফতানি করা চিংড়ি দেশে ফেরতও এসেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ইজ্জতহানির বিষয়টিও বিবেচনার বাইরে থাকতে পারে না। অফুরন্ত সম্ভাবনার এই রফতানি শিল্পটি কিছু অসৎ রফতানিকারকের লোভের অনলে পুড়ে এখন ছাই হওয়ার পথে। চিংড়ি রফতানি খাতের ভবিষ্যৎ এখন বাংলাদেশ সফররত ইইউ বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের হাতে। ইইউ বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসেছিল গত বছরের  ১৬ অক্টোবর। তারা বিভিন্ন চিংড়ি কারখানা পরিদর্শন করছে। দুই সদস্যের ইইউ বিশেষজ্ঞ দল উৎপাদন পর্যায় থেকে হিমায়িতকরণ পর্যন্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া পর্যবেÿণ করছে। তারা খুলনা ও সাতক্ষীরা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ  দেশের চিংড়ির বিভিন্ন খামার পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশের চিংড়ি সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করেছেন। বলাবাহুল্য, ইইউ প্রতিনিধি দলের সিদ্ধান্তের খড়গ উঁচিয়ে আছে বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্পের ওপর। তাদের যাচাই, পর্যবেক্ষণের অসন্তুষ্টিতে খড়গের কোপটি পড়ে যেতে পারে চিংড়ি রফতানির ওপর। আর এতে হারাতে হতে পারে চিংড়ি রফতানির একমাত্র বৃহৎ বাজার ইউরোপীয় দেশগুলো। আর তা হচ্ছে কেবল অতিলোভী, অসৎ চিংড়ি রফতানিকারকদের জন্য। আমরা অবশ্যই আশা করব, ইইউ প্রতিনিধি দলের সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের জন্যে ইতিবাচক। তবে এমনতরো তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে জন্য করণীয় এখনই ঠিক করতে হবে সংশ্লিষ্টদের । বিনষ্ট ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সচেতন এবং কঠোর না হলে চিংড়ি রফতানি বরাবর প্রশ্নের মুখে থেকে যাবে। চিংড়ি খাতে বিনিয়োগ হাজার হাজার কোটি টাকার। দেশের আর্থিক সংস্থাগুলোর লগ্নিও এই খাতে কম নয়। এই সাদা সোনা উৎপাদনের সঙ্গে অগণিত মানুষের শ্রম জড়িয়ে আছে এবং সব শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় খাত হচ্ছে চিংড়ি শিল্প। এতে জড়িয়ে আছে দেশের মর্যাদা ও সম্মান। কিছু লোকের লোভের কারণে বিপন্ন হবে এই শিল্প, দেশের ভাবমূর্তি হবে ভুলণ্ঠিত তা হতে পারে না। এই অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অত্যাবশ্যকতা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। 
বিভিন্ন অস্থিরতার কারণে ৭২টি চিংড়ি রফতানিকারক কোম্পানি ডুবতে বসেছে: রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝড়, জলোচ্ছ¡াস এবং ক্রেতা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ডুবতে বসেছে ৭২টি চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্য  রফতানিকারক কোম্পানি। এর মধ্যে অনেক কোম্পানির অবস্থা খুবই শোচনীয়। একই কাতারের ষোলটি কোম্পানিকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভ¢ব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে। এই ষোলটি কোম্পানির ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হলে এসব কোম্পানি চালু থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব’র সভাপতিত্বে ওই সভায় চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারকরা ওই পরিমাণ দেনা মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় রফতানিকারকরা বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কোম্পানিগুলো যথাসময়ে চিংড়িসহ অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য রফতানি করতে সক্ষম হয়নি। এতে ক্রেতারা বিমুখ হয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার  নানা কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার করণে বিগত দিনে এ খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।  রফতানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভায় ব্লক ঋণ সংক্রান্ত দেনার ৪০ শতাংশ মওকুফ, ৪০ শতাংশ সরকার কর্তৃক ভর্তুকির ব্যবস্থা এবং বাকি ২০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বহন করবেন বলে সুপারিশ চ‚ড়ান্ত করা হয়। উদ্যোক্তারা পাঁচ বছরে নির্দিষ্ট কিস্তির ভিত্তিতে এই ২০ শতাংশ দেনা পরিশোধ করবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শুধু খুলনা থেকেই  চিংড়ি রপ্তানী করে  ৫ হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভবঃ খুলনা অঞ্চল থেকে উৎপাদিত চিংড়ি রপ্তানি মাধ্যমে বছরে  ৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। খুলনাঞ্চলের প্রায় দু-লাখ হেক্টর বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষের জমিকে “সোনালী সম্ভাবনার দ্বার”হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মৎস্য বিশেজ্ঞরা। এই অঞ্চলের মৎস্য সেক্টরে অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ,প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সার্পোট সার্ভিস প্রদান করে টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।মৎস্য খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পুজিঁ,উপকরণ,লগ্নী ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার তাগিদ দিয়ে বিশেজ্ঞরা বলেছেন,পৃথক মৎস্য ব্যাংক স্থাপন,প্রয়োজনীয় ৪থেকে ৫শ কোটি গলদা ও বাগদার পোনা সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে বছরে এ অঞ্চল থেকে ৫হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব হবে।বিশেষজ্ঞ সুত্র আরো জানায়,বৃহত্তর খুলনার মাটি ও পানি মৎস্য চাষের উপযোগী।এছাড়া দেশের ৪৪ টি হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনার মৃত্যুর হার ও ০৮% থেকে ০% (শুন্য)কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোণা মৎস্য পকল্পে ছাড়ার আগে নার্সিং পয়েন্টে নার্সিং করার পরামর্শ দিয়েছেন।মৎস্য চাষ প্রকল্প এলাকায় নার্সিং সেন্টার গড়ে তোললে উপযুক্ত পোণা সরবরাহে এক নতুন সম্ভবনা দেখা দেবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। পোনা প্রাপ্তির নিশ্চিত হলে ও পোনার মৃত্যু হ্রাস পেলে খুলনাঞ্চলের এক হাজার কোটি চিংড়ি থেকে বছরে আরো অতিরিক্ত ৫হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী চিংড়ির চাহিদাঃ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী চিংড়ির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। চাহিদা ও রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য স্থানে গড়ে ওঠেছে প্রায় ১৫০টি মৎস্য ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প। কিন্তু কাঁচামালের অভাবে এসব শিল্পগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতার শতকরা মাত্র ৪০ ভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। মাছ একটি পচনীয় পণ্য হওয়ায় আহরণের পর পরই বাজারজাত করা জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু দেশের অনুন্নত অবকাঠামো ও দুর্বল পরিরবহন ব্যবস্থার কারণে মাছের সুষ্ঠু বাজারজাত সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বরফ, প্রক্রিয়াজাত ক্রমানুসারে সাজানো, হিমায়িত করে সঠিকভাবে কার্য সম্পন্ন করা হয় না বলে ভোক্তার নিকট সঠিক সময় গ্রহণযোগ্যভাবে মাছ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয় না। স¤প্রতি এক  তথ্যে জানা যায়, আহরণ থেকে শুরু করে ভোক্তার নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত ৩০ ভাগের ওপরে মাছ নষ্ট হয়ে যায় এবং মাছের বিপণন খরচ ও মুনাফা ভোক্তা প্রদত্ত মূল্যের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। মূলত অদক্ষতার জন্যই এমনটি হয়ে থাকে। তাছাড়া মাছ আহরণের কাজটি এলাকা ও মৌসুম নির্ভর হওয়ায় স্থান ও কাল ভেদে মাছের মূল্য বিরাট ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। সময়ভেদে এ ব্যবধান শতকরা ৫৫-৫০ ভাগ। আবার কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ৪ ভাগ পর্যন্ত মাছ হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহন ব্যবস্থার যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে এসব অসুবিধাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আমাদের বিশ্বাস সরকার যদি সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানা মৎস্য খাতের সর্বস্তরে যথাযথ নজর দেন তাহলে এই শিল্পটি আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০৩০ সালে বিশ্বে খাদ্য হিসেবে মাছের চাহিদা ৩৭ মিলিয়ন টন বেড়ে যাবে। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে মাছের সরবরাহ দিগুণ বাড়াতে হবে। আর এ সময়ে অতিরিক্ত ২ কোটি লোকের চাহিদা পূরণে প্রতিবছর ৮৫ মিলিয়ন টন মাছের প্রয়োজন হবে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে সরকার তথা সকলকে। অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের আগে আমাদের দেশ থেকে ব্যাঙের পা রফতানি করা হতো। ব্যাঙের পা রফতানি বন্ধ করে দেয়া হলে হিমায়িত খাদ্য খাতে চিংড়ির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। চিংড়ি রফতানির পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়তে থাকে। ১৯৯৭-৯৮ হতে ২০০৬-০৭ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৩ কোটি ২৭ লাখ পাউন্ড হিমায়িত খাদ্য রফতানি করা হয়। যার মধ্যে চিংড়ির পরিমাণ হচ্ছে ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ পাউন্ড। আমাদের দেশে এখনো অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ হয় না বললেই চলে। সাধারণত সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি সেমি ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করা হয়। এতে উৎপাদন কাম্য স্তরে উন্নীত হতে পারছে না। যদি সম্পূর্ণ চিংড়ি চাষ ইনটেনসিভ বা নিবিড় পদ্ধতির আওতায় আনা যায়। তা হলে উৎপাদন অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশে হেক্টর প্রতি চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ ৪’শ হতে ৫’শ কেজি, সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে হেক্টর প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ ২৩’শ থেকে ২৫শ’ কেজি। 
ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’র ভূমিকা ঃ বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও চিংড়ী চাষী সমিতি নানাভাবে চিংড়ি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তারা রফতানিকৃত চিংড়ির মান নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে চলেছে। যাতে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট না হয়। অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে চিংড়ি চাষে বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে এক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘ভিশন টু থাউজেন্ড টেন’ নামের এই পরিকল্পনার অধীনে ২০১০ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের চিংড়ি রফতানি আয় ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে। চিংড়ী চাষী সমিতির আহবায়ক,লে (অব:)বি,এন,বীর প্রতিক স¤প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অনেকের কাছে এটি একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা মনে হলেও এটি অর্জনযোগ্য একটি কর্মসূচি। এ জন্য চিংড়ি চাষের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো বাড়াতে হবে। সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিংড়ি উৎপাদন ও বিপণন করতে হবে। বর্তমানে দেশের ১ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে খামার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ চলছে। আরও ১ লাখ হেক্টর জমিকে চিংড়ি চাষের আওতায় আনা সম্ভব। তাই এই পরিকল্পনা  বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সরকার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখতে পারে। দেশের যে সব চিংড়ি খামার নানা কারণে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন করতে পারছে না তাদের সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর সহযোগিতা দিতে হবে। চিংড়ি খাতকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে ঘোষণা করে উদ্যোক্তাদের কম সুদে এবং সহজ শর্তে স্বল্প সময়ে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। চিংড়ি চাষিদের প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি বিপুল পরিমাণে বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের বিজ্ঞানসম্মতভাবে চিংড়ি চাষে যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা দিতে হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে চিংড়ির বাজার স¤প্রসারণ করতে হবে। বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারক সমিতির প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। এই টাস্কফোর্সের কাজ হবে চিংড়ি রফতানি বৃদ্ধির এবং এই সেক্টরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সহায়তা করা। আমাদের মনে রাখাত হবে, চিংড়ি আমাদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। যেসব পুকুর-জলাশয় এখনো পতিত পড়ে আছে সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চিংড়ি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া ঘুর্ণিঝড় সিড়রে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় সব চিংড়ি উৎপাদনকারী ফার্মই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের সহযোগিতাও ভীষণ প্রয়োজন হবে। এগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের জাতীয় স্বার্থেই দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। 

0 comments:

Post a Comment