শিল্প নগরী খুলনা তার ঐতিহ্য ফিরে পাক
আলী ফোরকান
শিল্প নগরী খুলনায় এখন মিলের হুইসেল শোনা যায় না। শ্রমিকদের পদাচরনা আর দেখা যায় না। যে কয়জন শ্রমিক আছে তারা ও খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছে। অনেকে আবার বাঁচার তাগিদে ভিন্ন পেশা অবলম্বন করেছে। দেশ স্বাধীনের পর থেকে বার-বার খুলনা এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে কারনে, শিল্পনগরী খুলনা এখন মৃতপুরী। তবে যেটুকু শিল্পায়ন ঘটেছিল এক্ষেত্রে খুলনার নাম এখন ও সুবিদিত। খুলনা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্পনগরী। একসময় খুলনা সুন্দরবনের জন্য বিখ্যাত ছিল। এছাড়া লবণ ও গুড় শিল্পের জন্যও খুলনা একসময় বিশেষ ভাবে পরিচিতি লাভ করে। এর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এ জেলা নীলচাষের জন্য সারাদেশে পরিচিত ছিল। ১৮৭০ সাল পর্যন্ত নীল ছিল বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু। সে খুলনা এখন শুধু বন্দরনগরীই নয়- আজ খুলনা শিল্পনগরী হিসেবেও সুপরিচিতি। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ঢাকা, চট্টগ্রামের পরেই খুলনার স্থান। শিল্পের দিক দিয়ে খুলনা সারাদেশে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। তবে এ সবই ১৯৫০ সালের পরবর্তীকালের ঘটনা। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ভিত্তি করেই তৃতীয় শিল্পনগরী হিসেবে খুলনার অভ্যুদয় ঘটে। একমাত্র খুলনা টেক্সটাইল মিল ছাড়া ১৯৪৭ সালের পূর্বে আর কোন ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলনায় ছিলনা। এ অনগ্রসরতার মূল কারন বৃটিশের ঔপনি বেশিক নীতি। ইংরেজরা ভারতবর্ষে প্রায় ২০০ বৎসর রাজত্ব করেছে। তাদের এসব অঞ্চলে ভারী শিল্প গড়ে তোলার কোন আগ্রহ ছিল না। এসব অঞ্চলকে তারা ব্যবহার করেছে কাঁচামালের উৎস ও শিল্পজাত পণ্যের বাজার হিসেবে। এ সময় পূর্বাঞ্চলে যে কটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে তা সবই কলকাতায়। মুর্শিদাবাদ ছিল আঠারো শতকের নবাবদের রাজধানী। তবে এর পাশাপশি কলকাতা স্ব-মহিমায় আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। বৃটিশ বিজয়ের বহু পূর্বে কলকাতা বাংলার প্রধান বন্দের পরিণত হয়। ভারতে বৃটিশ নিয়ন্ত্রণ স¤প্রসারিত হওয়ার পর কলকাতা হয়ে ওঠে এক বিশাল পশ্চাৎভূমির বর্হিদ্বার। ১৭৭২ সালে সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। তখন থেকেই কলকাতায় দু’একটা করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে। দু’চারটা বস্ত্রকল এবং পাটকলগুলোই ছিল এ বৃহৎ শিল্পস্থাপনার ভিত্তি। এর সাথে গঙ্গার ওপারে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন ও ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে আসানসোল পর্যন্ত রেল লাইন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে কলকাতা ও তৎপার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠার পথ প্রসারিত হতে থাকে। তখন এক এক করে আত্মপ্রকাশ করে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সে সময় খুলনাসহ এ অঞ্চল ব্যবহৃত হত পশ্চাৎভূমি হিসাবে। ১৮৮৪ সালে কলকাতা থেকে খুলনা রেল লাইন বসানো হয়েছিল মূলত: শিল্পের কাঁচামাল কলকাতায় পৌঁছানোর জন্য। ১৯২১-২২ সালে ইষ্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে যেসব দ্রব্য পরিবহনের মধ্যে দিয়ে সর্বোচ্চ উপার্জন তালিকায় ওঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আমাদের কাঁচাপাট।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলকাতা অঞ্চলের শিল্পকারখানা-সমূহ আমাদের আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। দেশ বিভাগের সময় এখানে ছিল মাত্র কযেকটা বৃহৎ কাপড়ের কল, দু একটি চিনিকল, একটি সিমেন্ট কারখানা কিছু রাইস মিল ও ময়দার কল। দেশ বিভাগের পর এগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় এক শূণ্যতা ও বিশৃঙ্খলা। তখনই এখানে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন অনিবার্য হয়ে পড়ে। অধিকন্তু দেশ বিভাগের পর শিল্প কারখানা স্থাপনের ব্যাপারে মানুষের মনে বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। সরকারও এক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসে। এগিয়ে আসে শিল্পোদ্যাক্তারাও। কারন খুলনা ছিল শিল্পশহর গড়ার সম্ভাবনার অধিকারী। তা হয়েছিল এর ভৌগোলিক অবস্থার কারনে। খুলনা শহরের অনতিদূরেই রয়েছে সুন্দরবন যা প্রাকৃতিক সম্পদের এক অফুরন্ত উৎস। এখানকার কাঁচামাল অর্থাৎ বনজ সম্পদ প্রচুর পরিমাণে মিলকলকারখানায় ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহও এখানে খুব সুলভ। এছাড়াও নদীপথে খুলনার সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহায়ক। এ কারণে বহুপূর্ব থেকে খুলনার “মংলা” নদীবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সম্ভব হয়েছিল। জলপথের মত স্থল যোগাযোগও ছিল উন্নত। ১৮৮৪ সালে কলকাতা-খুলনা রেল লাইন স্থাপিত হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের সাথে স্থাপিত হয় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ১৯১৭ সালে নির্মিত হয় রূপসা-বাগেরহাট রেলপথ। দেশ বিভাগের পূর্বে এ অঞ্চলের আমদানী রফতানি চলতো কলকাতা বন্দর দিয়ে। ১৯৪৭ এর পর কলকাতা বন্দর আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেলে ১৯৫০ সালে মংলা বন্দরের সূত্রপাত ঘটে। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা বন্দর। এসব কারণে ঐ সময় থেকে দেশী-বিদেশী শিল্পোদ্যাক্তারা খুলনায় শিল্প কলকারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসে। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭০ সালের মধ্যে খুলনা শহর ও তার আশেপাশের দৌলতপুর, খালিশপুর, রূপসা আটরা প্রভৃতি স্থানে ভৈরব ও রূপসা নদীর তীর ধরে অনেক ছোট বড় কলকারখানা স্থাপিত হতে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পাটকল, নিউজপ্রিন্ট মিল, শিপইয়ার্ড, কেবল ফ্যাক্টরী, হার্ডবোর্ড মিল, ম্যাচ ফ্যাক্টরী, রিরোলিং মিলসহ নানা রকম কল-কারখানা । এসব প্রতিষ্ঠান খুলনা শহরে আনে এক বিরাট পরিবতৃন। একটি সাধারণ জেলা শহর দ্রুত লাভ করে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্পনগরীর মর্যাদা। দেশে বিদেশে খুলনা হয়ে যায় একটা সুপরিচিত নাম।
কাগজপত্রে খুলনা অঞ্চলে ৩১টি বৃহৎ শিল্প ৬০টি মাঝারি শিল্প, ও ২২ হাজার ক্ষুদ্রকুিটর শিল্পের কথা থাকলেও এর অনেকগুলোই ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এখনও যা আছে তা ও উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে এখানে গড়ে উঠে ১৫/১৬টি পাটকল। খুলনার সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ছিল নিউজপ্রিন্ট মিলস্। মিলটি খালিশপুর এলাকায় ১৯৫৪ সালে ভৈরব নদীর তীরে গড়ে উঠে । খুলনার আর এক গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনা শিপইয়ার্ড। যা স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে রূপসার লবণচরা এলাকায়। খুলনায় রয়েছে একটি হার্ডবোর্ড মিল। যার উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। খুলনা শিল্পাঞ্চলের সবচেয়ে অভিজাত শিল্প হচ্ছে,বাংলাদেশ কেবল শিল্প। এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক ছোটবড় শিল্প কলকারখানা। এসব কলকারখানায় উৎপাদিত দ্রব্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি-তা বিদেশে রপতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়তা করেছে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে যে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের বেকার সমস্যার সমাধানেও সহায়তা করেছিল।
এ কারনে একদা খুলনাকে বলা হতো শিল্পনগরী। শিল্প আর কলকারখানার শহর হিসাবেই খুলনার পরিচিতি। এ নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রূপসা নদী। মাত্র এক দশকের ব্যাবধানে একে একে কয়েকশ’ ছোট-বড় শিল্প-কলকারখানা গড়ে ওঠে। খরস্রোতা রূপসার পাড়ে সারি সারি শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠায় রূপসা নদীর রূপকে আরো বাড়িয়ে তোলে। দিনরাত হাজারো মানুষের কর্মচঞ্চলতা আর উৎপাদন প্রবাহের ফলে রূপসা তীরের শিল্পনগরী খুলনা হয়ে ওঠে আরো রূপসী। ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং কমদামে শ্রমিক পাওয়ার সুবিধার কারণে বিগত শতকের মাঝামাঝি থেকে খুলনায় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে। এখানে হাজার হাজার মানুষের কোলাহল আর কারখানাগুলোর রমরমা উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে খুলনা তখন সকলের কাছে এক পছন্দের নগরীতে পরিণত হয়। খুলনায় এতগুলো পাটকল নির্মিত হওয়ার পর উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানির জন্য প্রায় ঐ একই সময়ে গড়ে ওঠে দেশের বৃহত্তম মংলা সমুদ্র বন্দর। প্রথম এ বন্দরটি স্থাপিত হয় চালনায়। পরে তা বর্তমান স্থান বাগেরহাটের মংলায় স্থানান্তরিত হয়। মংলা বন্দর গড়ে ওঠার কারণও ছিল খুলনার শিল্প-কারখানা। খালিশপুর এলাকা জুড়ে অধিকাংশ শিল্প গড়ে ওঠায় ঐ এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। দেশ-বিদেশের অনেক ব্যবসায়ী তখন খুলনায় শিল্প কারখানা স্থাপন করে। সমুদ্র বন্দর গড়ে ওঠায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন আরো গতিলাভ করে। উৎপাদিত পাটজাত পণ্যের শতভাগই মংলা বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজে করে বিদেশে রফতানি করা হতো। রফতানি বাণিজ্যের এই ধারা স্বল্প পরিসরে হলেও এখনো অব্যাহত আছে। সত্তরের দশকে খুলনা এলাকায় ব্যাপকহারে লবণ কলকারখানা গড়ে ওঠে। একে একে এখানে প্রায় ৪০টি লবণ শিল্প-কারখানা নির্মিত হয়। ওই একই সময়ে খুলনা এলাকায় শুরু হয় চিংড়ি চাষ। চিংড়ি চাষ ব্যাপকহারে প্রসার লাভ করার ফলে তা বিদেশেও রফতানি শুরু হয়। আয় হতে শুরু করে শত শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা। এই চিংড়ি শিল্প প্রসারের সাথে সাথে এ অঞ্চলে গড়ে ওঠে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। প্রায় অর্ধশত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে ওঠে কেবলমাত্র খুলনায়। এসব শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। চিংড়ি চাষের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ধারায়ও পরিবর্তন চলে আসে। কিন্তু খুলনার সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই। এককালের শিল্পনগরী খুলনা তার রূপযৌবন হারাতে শুরু করে নব্বইয়ের দশক থেকে। দেশের একমাত্র নিউজপ্রিন্ট মিলটি বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে এখানে শিল্প-কারখানা ধ্বংসের কাজটি শুরু হয়। এর পর দৌলতপুর জুট মিল ও খুলনা টেক্সটাইল মিলসহ ছোট-বড় অনেকগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে একে একে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুলনা এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও দারুণ মন্দা দেখা দেয়। ব্যবসায়ীদের অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে দেশের অন্যত্র চলে যায়। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করে চলে যায় অন্য পেশায়। এ ভাবে শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুলনার খলিশপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি প্রভৃতি শিল্প এলাকা বর্তমানে যেন বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এক সময় যখন এসব এলাকা দিন-রাত শ্রমিকদের পদভারে মুখরিত থাকত, আজ সেখানে সেই রমরমা অবস্থা আর নেই। রাস্তার দুই ধারে দোকান-পাটের সারিও উঠে গেছে। হাতেগোনা শ্রীহীন কয়েকটি দোকান মিল এলাকায় কোনমতে টিকে আছে। খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বর্তমানে ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি কয়েক মাস লে-অফ করে রাখার পর আংশিক খোলা হলেও এরই মধ্যে চলছে শ্রমিক ছাঁটাই। ইতিমধ্যে প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। বিগত সরকারামলে শিল্প বিকাশের উদেশ্যে খুলনায় বিনিয়োগ বোর্ডের একটি অফিস খোলা হয়। কিন্তু গত সাত বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগকারিরা আগ্রহী হয়নি। কারণ যেখানে একে একে কল-কারখানা বন্ধ হচ্ছে, সেখানে নতুন করে আর কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলের অনেক বেকার শ্রমিক-কর্মচারি কাজের অভাবে রিকশা চালানো থেকে শুরু করে কুলি-মজুরের কাজ করছে। তবে এখানে কল-কারখানা গড়ে না ওঠার ব্যাপারে বিনিয়োগ বোর্ড বেশ কিছু কারণের কথা উলেখ করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে উদ্যোগ নিলেও খুলনায় কোন বিমান বন্দর স্থাপিত হয়নি। তা ছাড়া মংলা বন্দরের অচলাবস্থা, গ্যাস সরবরাহ না থাকার মতো কিছু কারণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বৃহত্তর খুলনায় মন্ত্রীকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে নতুন স্বপ্ন জেগেছে। তারা আশায় বুক বেধেছে, আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। অবহেলিত, উন্নয়ন বঞ্চিত খুলনার উন্নয়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, মংলা বন্দরের উন্নয়ন, মাওয়ায় পদ্মা সেতু বিমান বন্দর, বন্ধ কলকারখানা চালু, গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভোমরা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তর, সুন্দরবনে পর্যটন কেন্দ্র, কৃষি কলেজ স্থাপন ও বন্ধ মিল কারখাখানা চালু করার দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। অতীতের কোন সরকার খুলনার মানুষের কথা ভাবেনি। যে কারনে খুলনার সব মিল-কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। আমরা আশাকরি বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খুলনার বন্ধ মিলকারখানাকে চালুকরে হাজার - হাজার শ্রমিক কর্মচারিকে বেকারর অভিশাপ থেকে মুক্তি দিবেন। পাশাপাশি আইলায় ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক পুর্নবাসনে এগিয়ে আসবেন।
0 comments:
Post a Comment