Monday, February 19, 2018

ধান ক্ষেতে মাছ চাষ

ধান ক্ষেতে মাছ চাষ
আলী ফোরকান 
মাছ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের এক অপরিহার্য অংশ। যা প্রানিজ আমিষের উৎস। দৈনন্দিন খাদ্যে আমরা যে পরিমান প্রানিজ আমিষ গ্রহণ করে থাকি তার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ পাওয়া যায় মাছ থেকে। কিন্তু বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ ও মৎস্য সম্পদের সংকোচনের কারণে দেশে মৎস্য উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে দিন দিন দেশে মাথাপিছু মাছের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে যেখানে একজন মানুষের দৈনিক গড়ে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম মাছ খাওয়া প্রয়োজন। সেখানে সারাদেশের মানুষের মাথাপিছু মাছের গড় প্রাপ্যতা মাত্র ২০ গ্রাম। অনেকের বেলায় আবার এতটুকু মাছ ও জোটে না। তাই বর্ধিত জনগনের মুখে নুন্যতম মাছের যোগান দিতে হলে দেশের সার্বিক মৎস্যউৎপাদন বৃদ্ধি করা বিশেষ প্রয়োজন। এ দেশ মৎস্য সম্পদে খুবই সমৃদ্ধশালী। এ সব সম্পদ থেকে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশে নানা প্রকার প্রচেষ্টা নেয়া হচ্ছে। ধানক্ষেতে মাছের চাষ সে সব প্রচেষ্টার একটি কার্যকরি পদ্ধতি। এদেশের অসংখ্য ডোবা,নালা ও জমিতে ধান চাষের সাথে মাছ চাষ করা গেলে একদিকে যেমন খাদ্য শষ্যের বাড়তি উৎপাদন পাওয়া যাবে। অপরদিকে স্বল্পতম পুঁজিতে অধিক পরিমানে মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যা দেশের প্রানিজ আমিষের ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। 
ধান ক্ষেতে মাছ চাষের সুবিধা:বাংরাদেশে যত প্রকার শস্য উৎপন্ন হয়, তার মধ্যে ধান প্রধান শস্য। এদেশের মোট কৃষি জমির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগেই ধান চাষ হয়। তাই এসব ধানক্ষেতে মাছ চাষের ব্যবস্থা করলে দেশের সার্বিক মৎস্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। ধানের  জমিতে মাছ চাষ করলে, মাছ ও পাওয়া যায় এবং  ধানও হয় বেশি। ফলে একই জমি থেকে চাষী বাড়তি আয় করতে পারে। মাছ ধানের অনিষ্টকারি কীট পতঙ্গ খেয়ে ফেলে ও আগাছা জম্মাতে পারে না। এছাড়া জমির উপরিভাগে মাছের নড়াচড়ার কারণে ধান গাছ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
ধান ক্ষেতে মাছ চাষের পদ্ধতি:বাংলাদেশে ধান ক্ষেতে দু’ভাবে মাছ চাষ করা যায়। একটি হচ্ছে আমন মৌসুমে মাঝারী উঁচু জমিতে ধানের সাথে মাছ চাষ। অপরটি বাঈদ অঞ্চলে স্বল্পগভীর ডোবা ও পুকুরে বোরো মৌসুমে ধানের পওে মাছ চাষ করা।
ধানের সাথে মাছ চাষ: এ পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান এবং মাছ এক সাথে চাষ করা যায় । আমন মৌসুমে মাঝারী উঁচু জমিতে যেখানে সাধারনত ৩-৪ মাস পানি থাকে অথবা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে। সে সব জমির জন্য এ পদ্ধতি উপযোগি। ধানের সাথে মাছ চাষের কর্ম-পদ্ধতিকে মূলত ৫টি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়। ১। স্থান নির্বাচন ও জমি সমতল করণ (২)ক্ষেত প্রস্তুত করণ (৩) মাটি কর্ষণ ও সার প্রয়োগ (৪) ধানের চাষ এবং (৫) মাছের চাষ। ধান ক্ষেতে মাছ চাষের আয়-ব্যয়: এক হেক্টর জমিতে ধান চাষ করতে খরচ হয় ১৫,২২৫/ টাকা আর ঐ জমিথেকে প্রাপ্ত্য ধানের মুল্য ২৮,৬০০ টাকা। এতে খরচ বাদে  লাভ হয় ১৩,৩৭৫ টাকা। পক্ষান্তেরে একই জমিতে ধানের সাথে মাছ চাষে খরচ হয় ১৯,৩০৫ টাকা। আর আয় হয় ৩৮,৬০০ টাকা। ফলে খরচবাদে লাভ হয় ১৯,২৯৫ টাকা। অনুরুপ ভাবে ঐজমিতে ধান চাষের পরে মাছ চাষ করলে খরচ হয় ২৭,০৩৬ টাকা। আর এতে আয় হয় ৫৫,৬০০ টাকা। এ পদ্ধতিতে খরচ বাদে লাভ থাকে ২৮,৫৫৪ টাকা। অতএব মুনাফার হিসাবে ধান ক্ষেতে মাছ চাষ ব্যবস্থা বেশ লাভজনক।  আশাকরি আমাদের দেশের সরকারি
ও বেসরকারি সংস্থাগুলো দেশের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে আরো বেশি অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।

0 comments:

Post a Comment