Saturday, February 17, 2018

গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে

গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে 
আলী ফোরকান 
দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। গত ১০ বছরে কারখানা এবং শ্রমিকের সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১০ বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে রফতানির পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশের মোট রফতানি আয়ের ৭৬ ভাগ আসে এ খাত থেকে। বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে ও প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায় যে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে দেশে তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫০৯টি। গত ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯০টিতে। অপরদিকে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ। বর্তমানে এ খাতে সরাসরি ২৪ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। প্রতিদিনই এ খাতে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে । ইপিবির তথ্যমতে, তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয় অর্জিত হয়েছিল ১৭ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকায়। শুরুর দিকে ওভেন পোশাক দিয়ে এ খাতের রফতানি যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এ খাতের সঙ্গে নিটওয়্যার এবং স্যুয়েটার উপখাত শক্তিশালী ভ‚মিকা রাখছে। তবে গত ছয় মাসে নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে দুই শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা। এসব কারখানা আকারে ছোট হলেও দেশের রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। এছাড়া ব্যবসায় মন্দা পরিস্থিতির কারণে আরো অনেক প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ক্ষমতা কম, সাব কন্ট্রাক্ট বন্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে অনেক ভাল শিল্প প্রতিষ্ঠানও রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে। বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চালু করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত ২৭০টি রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সহায়তা দিয়ে সচল করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের সুদ মওকুফ, ডাউন পেমেন্টের এককালীন টাকা জমা দেয়ার শর্ত শিথিল করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রখাতের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কয়েক-দফা বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রুগ্ন শিল্পের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর পরও দিন দিন শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে দেশে গার্মেন্টস কারখানা ছিল ৪ হাজার ৫২৪টি। এর মধ্যে চালু ছিল ২ হাজার ৮০৩টি। ১৫০৫টি কারখানা বন্ধ এবং সাময়িক বন্ধ ছিল ২১৬টি। চলতি ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে চালু কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬৫৩টি এবং বন্ধ থাকে ১৮৭১টি। গত মে মাসে গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬০৭টি। বন্ধ কারখানার সংখ্যা ছিল ১৯০৩টি। বর্তমানে চালু আছে ২৬০১টি। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অনেক রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান আর চালিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই এসব রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের এরকম পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি পরিকল্পনা নেয়া উচিত। তাছাড়া ব্যবসা না করতে পারাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রতিদিনই শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কারখানা মালিকরা টিকতে পারছেন না। ১২ ঘন্টা কারখানা চালু রাখার কথা থাকলেও অনেকে ১০ ঘন্টার বেশি তা চালু রাখতে পারছেন না। এতে রফতানিও ক্ষতিগ্র¯Í হচ্ছে। সাভারের ইপিজেড এলাকার মধ্যে সরকার সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করলেও সাভার এলাকার দেশীয় কারখানার মালিকদের বিদ্যুৎ দিচ্ছে না। যার কারণে ডিজেল জেনারেটর চালানোর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ নিতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। দেশীয় কারখানা মালিকদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। তাছাড়া, যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলোর ক্যাপাসিটি কম। ক্রেতারা সেসব কারখানায় সরাসরি অর্ডার দেয় না। অনেকে সাব কন্টাক্টের কাজ করতো। বিজিএমইএ সভাপতির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবার ফলে ছোট ছোট কারখানাগুলোর টিকে থাকা কষ্টকর হবে। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সরকারের হিসাবের খাতায় নীটওয়্যার খাতের কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান রুগ্ন শিল্পের তালিকায় নেই। তবে বিকেএমইএর হিসাবে নীটওয়্যার খাতের ১৯টি রুগ্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমতাবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান করার  কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া সরকারের উচিত যেসব প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হতে চলেছে তাদেরকে সহায়তা দেয়া। বিজিএমইএর প্রাক্তন সহ-সভাপতি বলেন, ২০০৬ সালের শেষের দিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরের বছর অর্থাৎ ২০০৭ সালে পোশাক রফতানি খাতে মন্দা ছিল। এসময় বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পোশাকের দাম কমে যায়। তখনই মালিকদের তাদের কারখানায় ন্যূনতম মজুরি বা¯Íবায়ন করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা টিকে থাকতে পারেনি। তিনি জানান, অর্ডার কম থাকার কারণে অনেক ছোট কারখানা কাজ পায়নি। এজন্য তারা কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ২৭০টি পোশাক শিল্পের ঋণ পুন:তফসিলকরণের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে ২৭০টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ এখনো অমীমাংসিত রয়েছে তাদের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালত আইন ও দেউলিয়া আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ডাউন পেমেন্টের যে নিয়ম রয়েছে তা শিথিল করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ৩০ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সকল তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর আগে গত ১২ ফেব্র“য়ারি অর্থমন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ের বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দেয়। পোশাক শিল্পের তালিকাভুক্ত ২৭০ রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছে বিজিএমইএসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন। রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের প্রধানদের সঙ্গে বিজিএমইএর এক বৈঠকে পোশাক শিল্পের তালিকাভুক্ত ২৭০ রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের কেস-টু-কেস ভিত্তিতে সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ওইসব প্রতিষ্ঠানকে ডাউন পেমেন্ট ছাড়া নতুন ঋণ দিবে ব্যাংকগুলো। বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে বৈঠকে পোশাক শিল্পের রুগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ মওকুফের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিপূর্বে যেসব আদেশ জারি হয়েছে তা বা¯Íবায়ন করার অনুরোধ জানানো হয়। তালিকাভুক্ত ২৭০টি রুগ্ন পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফের ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হয়। ব্যাংকগুলো কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ মওকুফের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়। এছাড়া রুগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডাউন পেমেন্ট ছাড়া খেলাপি ঋণ নবায়ন ও নতুন ঋণ প্রদান করে উৎপাদনমুখী করে তোলার সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেয়। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিকদের সঙ্গে রুগ্ন শিল্প বাঁচানোর লক্ষ্যে বৈঠকে বসে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ। বৈঠকে রুগ্ন গার্মেন্টস শিল্পের সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়। বেসরকারি ২৯টি ব্যাংকে ৮৮টি রুগ্ন গার্মেন্টস শিল্পের ঋণ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের জন্য ১০ বছরের একটি কর্মসূচি নেয়া হয়। এরই মধ্যে এই শিল্পনিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। অভিযোগ উঠেছে দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারি এই শিল্পকে ধ্বংশের ষড়যন্ত্র করছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখাযায়,২০০৮ সালের প্রথম ছয় মাসে সারাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে ছোট বড় ৭২টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে । বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি, মজুরি বৃদ্ধির দাবিই ছিলো এসব আন্দোলনের অন্যতম কারণ। এসব আন্দোলন দমনের নামে পুলিশের লাঠিচার্জ কিংবা শ্রমিক-পুলিশ বা শ্রমিক - মালিকপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৯৮৮ জন শ্রমিক আহত হয়। ৪৫ জন শ্রমিককে গ্রেফতার ও  মামলা করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে। আন্দোলনের পর কারখানা থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে কমপক্ষে ৯৪ জন। বাংলাদশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিল্স এর সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ভিত্তিক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা যায়। জরিপে দেখা গেছে, মোট শ্রমিক অসন্তোষের ৪১টিই সংঘটিত হয়েছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বকেয়া আদায়ের দাবিতে। এছাড়া সহকর্মী কোনও শ্রমিককে হত্যা বা নির্যাতনের প্রতিবাদে শ্রমিক রা¯Íায় নেমে বিক্ষোভ করেছে কমপক্ষে ১৩ বার। অন্য যেসব কারণে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা গেছে তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে কারখানা লে-অফ ঘোষণা, বিনা নোটিসে ছাটাই, ছুটির দাবি কিংবা বোনাস বা টিফিনের দাবি। বছরের শুরুতেই শ্রমিক অসন্তোষে রাজধানীর মিরপুর এলাকা অচল হয়ে পড়ে। কারখানার ভেতর একজন শ্রমিক হত্যার ঘটনায় রা¯Íায় নামে মিরপুর পল্লবী এলাকার প্রায় সকল গার্মেন্টস শ্রমিক। এছাড়াও জানুয়ারি মাসে ঢাকা ও এর আশপাশে কমপক্ষে ১৩ বার শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। ফেব্র“য়ারি মাসে শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায় তিনটি, মার্চে ৭টি। এপ্রিলে এসে আবার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং এ মাসে রাজধানী ও তার আশপাশে ব্যাপক শ্রমিক আন্দোলন হয়। চট্টগ্রামেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সারামাস জুড়ে মোট ২২টি ছোট বড় আন্দোলন হয়। মে মাসে আন্দোলন হয় ১১টি এবং জুন মাসে ১৬টি। চট্টগ্রামে আন্দোলন হয়েছে ৪০টি গার্মেন্ট কারখানায়। অর্থনীথিবীদরা বলছেন, তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ঝিয়ে রাখা উচিত নয়। শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে নানাবিধ আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এই বিকাশমান শিল্প দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে বেশ চাঙ্গা করে রেখেছে। এর পাশাপাশি দেশের বেকার সমস্যাকেও অনেকটা লাঘব করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে অনেক দুঃস্থ ও অসহায় মেয়েদের ঠাঁই হয়েছে এ শিল্পে। বলতে গেলে, তারা জীবন নির্বাহের সুযোগ পেয়েছে। আর সে শিল্প নিয়ে নানামুখী হাঙ্গামা ও সংকট দেখা দিলে, তখন সংশয় দেখা দেয়। প্রশ্ন ওঠে এ বিকাশমান শিল্প কী মুখ থুবড়ে পড়বে? এর পাশাপাশি আর একটি প্রশ্ন দেখা দেয়Ñ এ শিল্পকে অস্থিতিশীল করে তুলতে কারা কলকব্জা নাড়াচ্ছে । বিভিন্নভাবে অভিযোগ উঠেছে, এ শিল্পের অভ্যন্তরে যে অস্থিরতা, অসন্তোষ ও মাঝে-মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়Ñ তার পেছনে কোনো অপ শক্তির ইন্ধন রয়েছে। তারা বহিঃদেশীয়। তারা চাচ্ছে না এ দেশে পোশাক শিল্পের উত্তরোত্তর উন্নতি করুক, এবং দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগ এ খাত থেকে আয় হোক। তাদের এসব নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এ খাত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এ বিষয়টি যখন বলাবলি হচ্ছে বিভিন্নভাবে তখন এর বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আবার দেখা যায়, এ শিল্পের মালিকেরা একচেটিয়া ব্যবসায়িক প্রবণতাও শ্রমিক অসন্তোষের কারণ। মালিকরা শ্রমিকদের যথোপযুক্ত বেতন থেকে বঞ্চিত করছে। সময়মতো বেতন না দেয়া, ছুটিছাটার ব্যাপারে অনীহা; মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম করিয়ে নেয়া, কথায় কথায় চাকরিচ্যুতিÑ এসবও শ্রমিক অসন্তোষের কারণ হিসেবে দেখা যায়। আমরা মনে করি দেশের ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে যে শিল্পে, সে শিল্পের ব্যাপারে কখনো হেলাফেলা করা উচিত হবে না। এ ছাড়া দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৭৫ ভাগ এ খাত থেকেই আসছে। এসব কারণে এ শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে হবে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে এ খাতে চরম প্রতিযোগিতা চলছে। কোটা সিস্টেম ওঠে যাওয়ার পর এই চরম প্রতিযোগিতা দেখা দেয়। এর মধ্যেও বাংলাদেশ এ শিল্পকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এ শিল্পের অভ্যন্তরে ঘনঘন উত্তপ্ত অবস্থা দেখা দেয়ায় এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা আমাদের কাম্য নয়। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কিংবা এর পরিসর বৃদ্ধি করতে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যদিও এ নিয়ে সরকার ও তৈরি পোশাক শিল্প সংগঠন বিজিএমইএ সমন্বিতভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এরপরও আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে এ শিল্পকে পরিচালনা করা দরকার। মালিকপক্ষ শুধু একচেটিয়া ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে এ শিল্প পরিচালনা করতে চাইলে তা চলবে না। শ্রমিক-কর্মচারীদের মানবিক দিকগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। তা না হলে শ্রমিক অসন্তোষ থেকে যাবে। অভিযোগ উঠেছে বহিঃদেশীয় কোনো পক্ষ এ শিল্পকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন কারসাজি করছে। এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা আশাকরি নবনির্বাচিত সরকার এব্যাপারে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ নিবেন।                                                         

0 comments:

Post a Comment