Tuesday, February 27, 2018

পুরাকীর্তি উধাও প্রসঙ্গ


পুরাকীর্তি উধাও প্রসঙ্গ

 আলী ফোরকান 
ফ্রান্সের গিমে পাঠানোর আগেই বাক্সভর্তি পূরাকীর্তি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার এখনো কোনো ক‚লকিনারা মেলেনি। নানাভাবে খোঁজখবর করেও হদিস করতে পারেনি বিষ্ণুমূর্তি দুটির। ঘটনার পর আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।  আনসার দুজনকে ছেড়ে দিয়ে বাকি ১৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ভোলা থেকে শংকর চন্দ্র দে নামে বিমানের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে। সে ঈদের পরদিন কার্গো হাউস থেকে চলে গিয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের গত মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইন্টারপোলে এ ব্যাপারে বার্তা পাঠিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কার্গো ভিলেজের সিসিটিভির ভিডিও দৃশ্য জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে  ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ড. সমর চন্দ্র পাল বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এয়ার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষকে প্রতœসম্পদ ভর্তি ১৩টি কাঠের বাক্স শুক্রবার রাত ২টার দিকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর একটি বাক্স চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কে বা কারা দুটি বিষ্ণুমূর্তি ভর্তি কাঠের বাক্সটি নিয়ে গেছে। এয়ার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাক্স ভর্তি ১৫৪টি পুরাকীর্তি বুঝে নিয়ে তারা সেগুলো বিমানবন্দরের কার্গো শাখাকে বুঝিয়ে দেয়। কার্গো থেকে ১২টি বাক্স বিমানে তোলার পর একটি বাক্স উধাও হওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। তবে কার হেফাজত থেকে এই মহামূল্যবান পুরাকীর্তি দুটি হাওয়া হয়েছে তা নিয়ে চলছে রীতিমতো ঠেলাঠেলি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এয়ার ফ্রান্সের হেফাজত থেকে মূর্তি দুটি খোয়া গেছে। আর এয়ার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ দাবি করছে বিমানের কার্গো শাখা থেকে ঘটেছে চুরির ঘটনা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, এয়ার ফ্রান্সের বিমানটি শনিবার ভোর ৫টায় আসার কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে সেটি আসে সকাল ১১টায়। এরই মধ্যে পুরাকীর্তি খোয়া যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সব কটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একযোগে কাজ করছে। চুরি যাওয়া মূর্তি দুটির ওজন ৬৪ কেজি। গোয়েন্দারা কার্গো ভিলেজের সামনের পুকুর পাড় থেকে এয়ার ফ্রান্সের কার্গো বিমানের একটি স্কেচ অঙ্কন করেছে। জাদুঘরের মহাপরিচালক এজাহারে অভিযোগ করেছেন, এয়ার ফ্রান্সের হেফাজত থেকে পুরাকীর্তি খোয়া গেছে। এ ঘটনায় আটক কর্মকর্তা কর্মচারেিদর  জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  তবে তাদের কথাবার্তায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। দুই আনসার সদস্য সোবাহান ও মিজানুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভোলায় গ্রেপ্তারকৃত শংকরকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিমানবন্দর এলাকায় যে জলাশয়ের পাশে পুরাকীর্তির কাঠের বাক্সটি পাওয়া গেছে সেই জলাশয়ে গত মঙ্গলবার জাল ফেলা হয়েছে। বিমানবন্দরের আশপাশের সব কটি জঙ্গলেও খোঁজ করা হয়েছে। হোমবাউন্ড কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার জর্জ কুইয়ার বলেন, জাদুঘর থেকে বাক্সভর্তি পুরাকীর্তিগুলো এয়ার ফ্রান্সকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল।এদিকে তদন্ত কমিটি ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো পুরাকীর্তির মধ্যে কয়টি পুরাকীর্তি চুরি হয়েছে তা তদন্তে নেমেছে। এর আগে ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ উঠলে সরকার এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্ত কমিটি ৬ নভেম্বর জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত ১৮৭টি পুরাকীর্তির কার্টন পরীক্ষা করে জানিয়েছিল সেখানে ১৬৮টি পুরাকীর্তি রয়েছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর সময় গোয়েন্দা সংস্থা তা আটক করে জাতীয় জাদুঘরে এনেছিল। সূত্র জানায়, ওই সময় অত্যন্ত গোপনে জাতীয় জাদুঘর থেকে পুরাকীর্তিগুলো হোমবাউন্ড কুরিয়ার সার্ভিস নিয়ে গিয়েছিল। সে সময় পুরাকীর্তিগুলো চুরি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, ৬৪ কেজি ওজনের একটি কার্টন একজন ব্যক্তির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। একাধিক ব্যক্তিই তা বহন করেছে। কার্গো ভিলেজের বাইরে রানওয়ে পর্যন্ত সিসিটিভি রয়েছে। এ সিসিটিভির দৃশ্য থেকেই পুরাকীর্তি চোর শনাক্ত করা সম্ভব। এদিকে গত রোববার রাতে বিমানবন্দর থানায় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ড. সমর চন্দ্র পাল বাদী হয়ে একটি চুরির মামলা করেছেন। দণ্ডবিধি ৩৮০/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় চুরির ব্যাপারে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব ইন্সপেক্টর সোহেল ইমতিয়াজকে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তদন্তকাজ চালানো হচ্ছে। আটক ১৫ কর্মকর্তা কর্মচারীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০০৭-এর রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকার ১.৭ ধারায় পুরাকীর্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে পুরাকীর্তি আইন-১৯৬৮ সালের ২২ ধারায় বলা আছে, সকল প্রকার পুরাকীর্তি রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়া অন্য দেশে স্থানান্তর করা যাবে না। পুরাকীর্তি রপ্তানি করলে সে ক্ষেত্রে সরকারকে ৩টি শর্তে লাইসেন্স নিতে হবে। স্বল্প মেয়াদে পুরাকীর্তি প্রদর্শনী, মেরামত ও পুরাকীর্তি বিনিময় শর্তে লাইসেন্স নিতে হবে। এ তিন শর্তের যে কোনো একটি শর্তে লাইসেন্স নিয়ে তবেই পুরাকীর্তি বাইরে পাঠানো যাবে না। লাইসেন্স ছাড়া পুরাকীর্তি বিদেশে পাঠালে তা কাস্টমস অ্যাক্টের ১৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর পুরাকীর্তির প্রথম চালান ও শনিবার দ্বিতীয় চালান পাঠানোর ব্যাপারে কোনো লাইসেন্স ছিল না বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। যেসব পুরাকীর্তি ফ্রান্সে পাঠানো হচ্ছিল তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের একমাত্র ব্রোঞ্জের তৈরি ব্রজসত্য, প্রজ্ঞা পারমিতা, ধ্যানরত ব্রোঞ্জের মূর্তি, পাথরের তৈরি ‘ছাড়পত্র মুড়া’ যা বাংলাদেশে পাথর যুগের সভ্যতার প্রমাণ, কপার ধাতুর থালা-বাটি, র"টি তৈরির পিড়ি-বেলুন, পঞ্চমুখ লিঙ্গ, টেরাকোটা মূর্তি, বুদ্ধের ব্রোঞ্জের মূর্তি, বেহুলা-লখিন্দরের থালা-বাটি, পিঁড়ি-বেলুন, ব্রোঞ্জের বদনা, স্বর্ণের মুদ্রা, ভিসুপট্রা, সূর্যমূর্তি, পৃথিবীর একমাত্র কালো পাথরের তৈরি অগ্নিদেবীর মূর্তি, গন্দর্ভ মূর্তি, মঞ্জুশ্রী মূর্তি, ব্রোঞ্জের তারা মূর্তি, ১৩ শতকে সুলতান জালাল উদ্দিন মাহমুদের ব্যবহৃত পরিধানের কালো পাথরে তৈরি বর্ম, পারস্য শাসক শাহ আব্বাসের ধাতুর মূর্তি, পুণ্ড্রুনগরের বেহুলা-লখিন্দরের পৌরাণিক কাহিনীতে ব্যবহৃত র"টি তৈরির পাথরের পিঁড়ি ও বেলুন, ৮ম ও ৯ম শতাব্দীর পাল আমলের চামুন্ডা, নবগৌড়, কল্যাণ সুন্দরী, গজ ল²ী, পর্ণ শর্বরী, হেরুকা কাঠের বুদ্ধের মূর্তি, ১০-১১ শতাব্দীর বিষ্ণুমূর্তি, লোকনাথ মূর্তি, মহামায়া, সূর্যমূর্তি, হরিণ-সিংহের জোড়া মূর্তি, যোগিনী তারা মূর্তি, কুমারী মূর্তি, ১৪-১৬ শতাব্দীর টেরাকোটার মনসার কয়েকটি মূর্তি, মৌর্য যুগের ৮টি স্বর্ণের মুদ্রা ও সুলতানী আমলের ৫০টি রৌপ্য মুদ্রা। যার প্রতিটিই মাস্টারপিস। এর মধ্যে ৪২টি আইটেমের পুরাকীর্তি ময়নামতি, মহাস্থানগড় এবং পাহাড়পুর জাদুঘর থেকে জাতীয় জাদুঘরে এনে দ্বিতীয় দফায় ১৪৫টি পুরাকীর্তি ফ্রান্সে পাঠানোর আগেই ঘটে গেছে মহামূল্যবান দুটি বিষ্ণুমূর্তি চুরির ঘটনা। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার নাইম আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরের আশপাশ এলাকায় খোঁজ করেও খোয়া যাওয়া পুরাকীর্তির সন্ধান মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, চোরচক্র মূর্তি দুটি বিমানবন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলেছে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ বলেন, এয়ার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে বাক্সভর্তি পুরাকীর্তি দুটি গায়েব হয়ে গেছে। এগুলো উদ্ধারের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পুলিশের উত্তরা জোনের ডিসি খন্দকার রাফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার কড়া পুলিশ প্রহরায় জাদুঘর থেকে বাক্সভর্তি পুরাকীর্তি বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর রাত ২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে যে কোনো সময় এই চুরির ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থানার ওসি র"হুল আমীন বলেন, ঘটনার এখনো কূলকিনারা হয়নি।  এদিকে তদন্ত কমিটি ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো পুরাকীর্তির মধ্যে কয়টি পুরাকীর্তি চুরি হয়েছে তা তদন্তে নেমেছে।  এর আগে ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ উঠলে সরকার এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্ত কমিটি ৬ নভেম্বর জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত ১৮৭টি পুরাকীর্তির কার্টন পরীক্ষা করে জানিয়েছিল সেখানে ১৬৮টি পুরাকীর্তি রয়েছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর সময় গোয়েন্দা সংস্থা তা আটক করে জাতীয় জাদুঘরে এনেছিল। সূত্র জানায়, ওই সময় অত্যন্ত গোপনে জাতীয় জাদুঘর থেকে পুরাকীর্তিগুলো হোমবাউন্ড কুরিয়ার সার্ভিস নিয়ে গিয়েছিল। সে সময় পুরাকীর্তিগুলো চুরি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, ৬৪ কেজি ওজনের একটি কার্টন একজন ব্যক্তির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। একাধিক ব্যক্তিই তা বহন করেছে। কার্গো ভিলেজের বাইরে রানওয়ে পর্যন্ত সিসি টিভি রয়েছে। এ সিসি টিভির দৃশ্য থেকেই পুরাকীর্তি চোর শনাক্ত করা সম্ভব। এদিকে রোববার রাতে বিমানবন্দর থানায় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ড. সমর চন্দ্র পাল বাদী হয়ে একটি চুরির মামলা করেছেন। দণ্ডবিধি ৩৮০/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় চুরির ব্যাপারে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব ইন্সপেক্টর সোহেল ইমতিয়াজকে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তদন্তকাজ চালানো হচ্ছে। আটক ১১ কর্মচারীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০০৭-এর রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকার ১ দশমিক ৭ ধারায় পুরাকীর্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে পুরাকীর্তি আইন-১৯৬৮ সালের ২২ ধারায় বলা আছে সব প্রকার পুরাকীর্তি রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়া অন্য দেশে স্থানান্তর করা যাবে না। পুরাকীর্তি রপ্তানি করলে সে ক্ষেত্রে সরকারকে ৩টি শর্তে লাইসেন্স নিতে হবে। স্বল্প মেয়াদে পুরাকীর্তি প্রদর্শনী, মেরামত ও পুরাকীর্তি বিনিময় শর্তে লাইসেন্স নিতে হবে। এ তিন শর্তের যেকোনো একটি শর্তে লাইসেন্স নিয়ে তবেই পুরাকীর্তি বাইরে পাঠানো যাবে না। লাইসেন্স ছাড়া পুরাকীর্তি বিদেশে পাঠালে কাস্টমস অ্যাক্টের ১৬ ধারায় একটি শা¯িÍযোগ্য অপরাধ। সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর পুরাকীর্তির প্রথম চালান ও শনিবার দ্বিতীয় চালান পাঠানোর ব্যাপারে কোনো লাইসেন্স ছিল না বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ইন্টারপোল) আনোয়ার কামাল জানান, ফ্রান্সে ইন্টারপোল সদর দপ্তর বিষয়টি পত্রপত্রিকার রিপোর্ট এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে। তিনি আরো জানান, খোয়া যাওয়া মূর্তি দুটির ছবি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জোগাড় করেছে। এগুলো গত মঙ্গলবার ইন্টারপোল সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সরকারের একটি বিশ্বস্ত সূত্র গত মঙ্গলবার রাতে জানায়, ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন অনিয়ম অস্বচ্ছতার অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২৫ অক্টোবর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটি ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করে। সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সকল পুরার্কীতির বীমা মূল্য আগের চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ বর্ধিত করা হয়। প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে পুরাকীর্তি প্রেরণে কুরিয়ারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরাকীর্তির তালিকাসমূহ আরো বিস্তারিতভাবে প্রস্তুত করা হয়। এসব পদক্ষেপের পর সরকার ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, স¤প্রতি র‌্যাব দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুরাকীর্তি পাচারের প্রায় ৫০টি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে। এদের সঙ্গে পুরাকীর্তি পাচারের আর্ন্তজাতিক নেটওয়ার্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এরা নানা কৌশলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুরাকীর্তি সংগ্রহ করে আন্তজাতিক চোরচক্রের হাতে তুলে দেয়। বিমানবন্দরের পুরাকীর্তি গায়েবের সঙ্গে ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রের যোগসূত্র আছে কিনা তাও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে দেখছে। 
আগাগোড়াই চলেছে ছলচাতুরী: বাংলাদেশ সরকারের রপ্তানি বাণিজ্য নীতিমালায় ‘পুরাতাত্তি¡ক দুর্লভ বস্তু’ রপ্তানি নিষিদ্ধের তালিকায় থাকার পরও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মানেনি। এ মন্ত্রণালয় আইন লঙ্ঘন করে দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য প্রতœসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়া এবং নিষিদ্ধের তালিকায় থাকা মহামূল্যবান এসব প্রতœসম্পদ দেশের বাইরে পাঠানো আইনত অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু' সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদের মুখে এবং আইনকানুন লঙ্ঘন করেই প্রতœসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দেশের প্রতœসম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রতœসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর ব্যাপারে জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে পাত্তাই দেয়নি। ফ্রান্সের বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য যে চুক্তি স্বাক্ষর হয় তাতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব। ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। মহামূল্যবান প্রতœসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর জন্য প্রচলিত আইনকানুনের থোড়াই কেয়ার করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। চুক্তির সঙ্গে পাঠানো প্রতœতত্তে¡র যেমন হিসাব মিলছে না তেমনি চুরি হয়ে যাওয়া প্রতœসম্পদের সংখ্যা আসলে কয়টি তা নিয়েও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে চুরি হয়ে যাওয়া প্রতœসম্পদ দুটিকে বিষ্ণুমূর্তি বলা হলেও এগুলোর অ্যাকসেশন নাম্বার বলা হচ্ছে না। একটি অনুসন্ধান রির্পোটে জানা যায়, ফ্রান্সে পাঠানোর জন্য প্রতœসম্পদগুলোর মধ্যে সবগুলোতে পৃথক পৃথকভাবে অ্যাকসেশন নাম্বার দেওয়া হয়নি। প্রতœতত্ত¡ বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মহামূল্যবান প্রতœসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পদে পদে আইন লঙ্ঘন করেছে ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। যেমন প্রতœতত্ত¡ আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী কোনো প্রতœতত্ত¡ দেশের বাইরে প্রদর্শনীর জন্য পাঠাতে হলে এজন্য প্রত্যেক প্রতœতত্তে¡র জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স থাকতে হবে। ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য মহামূল্যবান যেসব প্রতœসম্পদ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাতে প্রত্যেক প্রতœসম্পদের জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স করা হয়নি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব চুক্তি করলেও প্রতœতত্ত¡ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রতœসম্পদগুলো পাঠানোর ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়েছেন। এই অনাপত্তি সনদ নিয়েই প্রতœসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করা হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতœসম্পদের লাইসেন্সে প্রতœসম্পদটির বিস্তারিত বর্ণনা উলে¬খ করতে হয়। যেমন এটি কোন সময়ের, কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার ইতিহাস, প্রতœসম্পদটির ফটোগ্রাফ (সিডি, ভিডিও), ইনসিওরেন্স ইত্যাদি উলে¬খ থাকতে হয়। সরকারের বাণিজ্য নীতিমালা অনুযায়ী রপ্তানিযোগ্য হলেই কেবল কোনো প্রতœসম্পদ প্রদর্শনীর জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ২০০৬-২০০৯ রপ্তানি নীতিমালা অনুযায়ী ‘পুরাতাত্তি¡ক দুর্লভ বস্তু’ রপ্তানি নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে। এই তালিকায় যেসব বস্তু নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘পুরাতাত্তি¡ক দুর্লভ বস্তু'।’ কাস্টমস অ্যাক্টের ১৬ ধারা অনুযায়ী সরকার গেজেট করে বলে দেয় কোন কোন বস্তু রপ্তানি করা যাবে না। এই সরকারি গেজেটেও দুর্লভ পুরাতত্ত¡ দেশের বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে।  এদিকে গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য প্রকৃতপক্ষে কতোগুলো প্রতœসম্পদ পাঠানো হয়েছে এবং পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে গিমে জাদুঘরের চুক্তিতে বলা হয়েছে ১৮৯টি প্রতœতত্ত¡ প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে নেওয়া হবে। কিন্তু দুটি প্রতœসম্পদ চুরির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বলা হচ্ছে ১৩টি কার্টনে ১৪৫টি প্রতœসম্পদ ছিল। এর আগে ৩০ নভেম্বর পাঠানো হয়েছে ৪২টি। ফলে সব মিলিয়ে ১৮৭টি প্রতœসম্পদের কথাই বলা হচ্ছে। অথচ চুক্তিতে ১৮৯টি প্রতœসম্পদ প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতœসম্পদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে।  শুধু তাই নয়, প্রতœসম্পদগুলোর অ্যাকসেশন নাম্বারেও রয়েছে গরমিল। কোনোটাতে অ্যাকসেশন নাম্বার বসানো হয়েছে আবার কোনোটাতে অ্যাকসেশন নাম্বার না বসিয়েই বাক্সবন্দী করা হয়েছে। মহামূল্যবান বজ্রশক্তি প্রতœতত্ত¡টি গত ৩০ নভেম্বর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর অ্যাকসেশন নাম্বারে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়েছে। অনুসন্ধান রির্পোটে জানা গেছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালায় বজ্রশক্তির যে অ্যাকসেশন নাম্বার দিয়েছে তা হলো ৭৬৩। কিন্তু গত ৪ ডিসেম্বর ফ্রান্স দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তাতে দেখা যায় বজ্রশক্তির অ্যাকসেশন নাম্বার হলো ১১৬৫। এই তফাত কেন হলো এ নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। এছাড়া প্রত্যেক প্রতœসম্পদ শনাক্তকরণের জন্য জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিস্বাক্ষর করেনি। ফলে মাস্টারপিস হারিয়ে গেলেও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে না। এভাবে আরো নানাবিধ গরমিলের তথ্য সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতœতত্ত¡ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব প্রতœসম্পদ ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মূলটি (মাস্টারপিস) ফেরত না দিয়ে যদি হুবহু নকল (রেপি¬কা) করে ফেরত পাঠানো হয় তা হলেও চিহ্নিত করার কোনো উপায় থাকবে না। প্রসঙ্গত, গিমে জাদুঘরের রেপি¬কা তৈরির খ্যাতি রয়েছে। যে দুটি প্রতœসম্পদ চুরি হয়ে গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেগুলোর অ্যাকসেশন নাম্বার, ইনসিওরেন্স কী ছিল তাও বলা হচ্ছে না। ফলে এগুলো চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। মোট কথা বাংলাদেশের মহামূল্যবান প্রতœসম্পদ ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে পাঠানোর জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আগাগোড়াই ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। প্রচলিত আইনকানুনেরও কোনো তোয়াক্কা তারা করেনি। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও প্রতœতত্ত¡ বিশেষজ্ঞদের প্রতিবাদকে আমলেই নেয়নি। হাইকোর্টের দু’দফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের আদেশ নিয়ে পাচার করে দিয়েছে মহামূল্যবান এসব সম্পদ। এর পেছনে কী রহস্য রয়েছে, সরকারের উদ্যোগেই তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন আইয়ুব কাদরী: ফ্রান্সে পাঠানোর প্রাক্কালে মূল্যবান দুটি বিষ্ণুমূর্তি চুরি হওয়ার দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে পুরাকীর্তি চুরি হওয়ার দায় তিনি এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রেন দুর্ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করে ভারতের রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির আছে। তেমনি মূর্তি চুরি হওয়ার দায় স্বীকার করে তিনিও পদত্যাগ করবেন কিনা, সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ওই কথা বলেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনারা কী চান? এ পর্যায়ে সাংবাদিকরা তার অভিপ্রায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখি, বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। গত সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মূর্তি চুরি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন, মূর্তিগুলো ফ্রান্স থেকে সঠিকভাবে ফেরত আসবে না এই আশঙ্কার কারণে প্রতিবাদ ছিল। কিন্তু ফ্রান্সে পাঠানোর সময়ই মূর্তি চুরি যাবে এ ধরনের আশঙ্কার কথা কেউ বলেননি। নিরাপত্তা জোনের ভেতর থেকে কীভাবে মূর্তি চুরি হয়ে গেলো, সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। এ মুহূর্তে কোনো রকম মন্তব্য করা যুক্তিসঙ্গত হবে না। পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও আলাদা কমিটি তদন্ত করে দেখছে।  উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী বলেন, এয়ার ফ্রান্সের এই বিমান থেকে সব মালপত্র নামিয়ে চুরি হওয়া মূর্তিগুলো খোঁজ করা হয়েছে। বাকি ১২ বাক্স অক্ষত রয়েছে বলে তিনি উল্লে¬খ করেন। এয়ার ফ্রান্সের এই বিমানে পুরাকীর্তিগুলো যাবে না। তাছাড়া চুরি যাওয়া দুটি মূর্তির বিষয়টি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত কোনো পুরাকীর্তি পাঠানো ঠিক হবে না। এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এ ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। ইনাডয়ার শিলিগুড়িতে চারটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়েছে। এ ব্যাপারে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, খবরের কাগজ পড়ে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। ইনডিয়ায় উদ্ধার হওয়া মূর্তিগুলো পাথরের তৈরি। কিন্তু আমাদের চুরি হওয়া মূর্তিগুলো টেরাকোটার। আমরা আশা করি, যে বিষ্ণুমূর্তি দুটি চুরি হয়েছে যে কোনো মূল্যে তা উদ্ধার করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। পাশ্চাত্যের দেশগুলো অনেক টাকা খরচ করে চুরি যাওয়া পুরাকীর্তি কিনে নেয় বলে আমরা শুনেছি। কারণ প্রতœ সম্পদ হচ্ছে একটি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক। একটি জাতি কেমন ছিল, তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি কতোটুকু উন্নত ছিল তা বোঝা যায় প্রতœ সম্পদের মাধ্যমেই। আমরা চাই না আমাদের ইতিহাস কেউ চুরি করে নিয়ে যাক। তা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব। জাতির সবচেয়ে বড় প্রয়োজনটুকু সরকার উপলব্ধি করতে পারলে আমরা খুশি হবো।                               

0 comments:

Post a Comment