Tuesday, April 19, 2016

প্রসঙ্গ:সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও জনস্বার্র্থ?



প্রসঙ্গ:সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও  জনস্বার্র্থ?
ড.ফোরকান আলী
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কখনও-সখনও কিছু কথাবার্তা হলেও এ বিষয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনা বিশেষ দেখা যায় না। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের ওপর সরকারি আক্রমণ হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয় ও এই আক্রমণকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে নিন্দা করা হয়। কিন্তু এই প্রতিবাদ ও নিন্দাবাদের সময়েও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের কর্তব্য ও দায়িত্ব বিষয়ে এমন কোন আলোচনা হয় না। যা এই মাধ্যম সম্পর্কে জনগণের চিন্তাভাবনা স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন করতে সাহায্য করে। এ কারণে সংবাদপত্রের দায়িত্ব-কর্তব্য ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিষয়ে একটা ঘোলাটে চিন্তা নিয়েই জনগণ সংবাদপত্রের ভূমিকা বিচার করেন। সংবাদপত্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ওতপ্রোত এবং অবিচ্ছেদ্য। জনগণ ছাড়া সংবাদপত্রের চিন্তাই করা যায় না। সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে যা সত্য, রেডিও-টেলিভিশন ইত্যাদি সব প্রচার মাধ্যমের ক্ষেত্রেও তা সত্য। তবে এখানে আমরা আমাদের আলোচনা সংবাদপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব। বিজ্ঞাপনের পয়সা সংবাদপত্রে প্রকাশনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠকরাই হলেন সংবাদপত্রের প্রাণ। বিজ্ঞাপন না থাকলেও সংবাদপত্রের কল্পনা করা যায়। বস্তুতপক্ষে কোন কোন সাময়িকপত্র বিজ্ঞাপন ছাড়াই প্রকাশিত হতে দেখা যায়। কিন্তু পাঠক ছাড়া সংবাদপত্র বা কোন ধরনের সাময়িকপত্রের কল্পনাও করা যায় না। এর থেকেই সংবাদপত্রের সঙ্গে পাঠকদের অর্থাৎ জনগণের সম্পর্কের আসল গুরুত্ব বোঝা যায়। জনগণ ছাড়া যেখানে সংবাদপত্রের কল্পনা পর্যন্ত করা যায় না অর্থাৎ যেখানে জনগণের ওপর সংবাদপত্রের অস্তিত্ব নির্ভরশীল, সেখানে জনগণের প্রতি সংবাদপত্রের দায়িত্ব গুরুতর এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু জনগণের ওপর সংবাদপত্রের এই নির্ভরশীলতা যেমন আছে, তেমনি সংবাদপত্রের নির্ভরশীলতা আছে যারা এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে তাদের ওপর। নির্ভরশীলতা আছে যারা বিজ্ঞাপন দেয় তাদের ওপর। এই ত্রিবিধ নির্ভরশীলতার মধ্যে জনগণ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবত ও কার্যত দেখা যায় সংবাদপত্রে জনস্বার্থের গুরুত্বই সব থেকে কম। বিনিয়োগকারী বা মালিক সংবাদপত্রে বিনিয়োগ করেন প্রধানত অর্থনৈতিক ও তার সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থে। অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা বিজ্ঞাপনদাতাদের তোয়াজ করে চলেন। রাজনৈতিক স্বার্থে তারা সংবাদ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন যাতে জনস্বার্থ নয়, তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থই রক্ষিত হয়। এ রাজনৈতিক স্বার্থ কোন বিশেষ দলের হতে পারে। আবার হতে পারে তারা যে মালিক শ্রেণীর, শাসক শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করেন সেই শ্রেণীর। বাস্তবে দেখা যায়, জনগণের স্বার্থে সংবাদপত্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন সব থেকে গুরুতরভাবে জড়িত থাকলেও বাংলাদেশের মতো দেশে যত প্রকার স্বার্থের সঙ্গে সংবাদপত্র জড়িত থাকে তার মধ্যে জনস্বার্থই সব থেকে উপেক্ষিত। শুধু তাই নয়, সংবাদপত্র অন্য স্বার্থের তাগিদে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে ও জনস্বার্থ খর্ব করতে দ্বিধাবোধ করে না। সরকার সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ করে। মালিকরা সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ করে। আবার সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ করে বিজ্ঞাপন দাতারা। এ তিন পক্ষই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিন্তু সংবাদপত্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনগণ উপরোক্ত তিন পক্ষের মতো সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। উপরন্তু সংবাদপত্রই জনগণের স্বার্থসংশ্লি¬ষ্ট সংবাদ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যাতে জনস্বার্থ লংঘিত হয়। জনগণের স্বার্থ রোধ করা হয়। নিউজ রুমে সংবাদ হত্যার মাধ্যমেই এ কাজ করা হয়ে থাকে। সরকার ও মালিক পক্ষ নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থী সংবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞাপনদাতারাও চেষ্টা করে এ কাজ করতে। এর দৃষ্টান্ত অসংখ্য। সরকার কর্তৃক বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণের একটা পরিচিত উপায়। কিন্তু সরকার ছাড়া অন্যরাও এ কাজ করে থাকে। আমার মনে আছে, মাত্র দুই-তিন মাস আগে আমি একটি ব্যাংকের ওপর এক সংবাদপত্রে একটি লেখা দেয়ার পর তারা এই বলে সেটি ছাপতে অপারগতা প্রকাশ করেন যে, তারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বড় অংকের বিজ্ঞাপন পেয়ে থাকেন। আমার প্রবন্ধ ছাপলে ওদিক দিয়ে তাদের অসুবিধা হবে। শুধু গ্রামীণ ব্যাংকই নয়, এ ধরনের দুষ্ট প্রকৃতির বিজ্ঞাপনদাতার অভাব বাংলাদেশে নেই। দেখা যায়, সব শ্রেণীর ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবহির্ভূত রাজনৈতিক দলগুলোর খবর সংবাদপত্রগুলোতে বেশ ফলাও করে প্রকাশ হয়। তুচ্ছ থেকে অতি তুচ্ছ কথাবার্তা ও ঘটনা পর্যন্ত সংবাদপত্রে গুরত্ব পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, শাসকশ্রেণীর প্রান্তদেশে যে বামপন্থী দলগুলোর অবস্থান সেগুলোর খবরও মোটামুটিভাবে সংবাদপত্রে ছাপা হয়ে থাকে। কারণ এদের কার্যকলাপ সাধারণভাবে শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে যায় না এবং শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে তারা কিছু কথা বললেও তারা নিজেদের কার্যকলাপ এমনভাবে পরিচালনা করে যা পরিশেষে শাসকশ্রেণীর স্বার্থই রক্ষা করে। অনেক সময় তারা যেসব ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করে সেগুলো জনগণের দৃষ্টিকে তাদের আসল সমস্যা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই সাহায্য করে। এ হল অনেক রকম প্রগতিশীল বাগাড়ম্বরের আড়ালে শাসক শ্রেণীর স্বার্থে কাজ করার এক চালাকিপূর্ণ ও ধূর্ত কৌশল! কাজেই এসব বামপন্থীর খবর ছাপতে শাসকশ্রেণী পরিচালিত সংবাদপত্রের কোন অসুবিধা হয় না। অসুবিধা হয় তখনই যখন জনগণের মৌলিক অধিকারের জন্য তাদের নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে তারা এমন আন্দোলন করেন যা শাসকশ্রেণীর স্বার্থকে আঘাত করে। যে আন্দোলনকে তারা নিজেদের স্বার্থ এবং অস্বিত্বের ক্ষেত্রে হুমকি মনে করে। এ ধরনের আন্দোলনের সংবাদ তারা নিজেদের নিউজ রুমে হত্যা করে। অনেক সময় এর সংবাদ নিউজ রুম পর্যন্ত যায় না। তার আগেই রিপোর্টারদের দ্বারা এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকে। বলাই বাহুল্য, সবাই না হলেও সংবাদপত্রে যারা কাজ করেন সেই সাংবাদিকরা নিজেরাও অনেকে জনস্বার্থবিরোধী হওয়ার কারণে সরকার বা মালিকের নিষেধাজ্ঞার অপেক্ষা না করে তারা নিজেরাই আন্দোলনের সংবাদ হত্যা করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করেন। সংবাদপত্রে কর্মরত কিছু কর্মী বা সাংবাদিক যে সত্যনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশে আগ্রহী ও সচেষ্ট এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তারা অনেক ক্ষেত্রেই নিরুপায়। প্রকৃত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের, জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ের সংবাদ তারা নিউজ রুমে দিলেও তা ছাপা হয় না। নিউজ এডিটর বা নিউজ রুমের প্রভাবশালী অন্য সাংবাদিক সেগুলো হত্যা করেন। বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে এ এক সাধারণ এবং অতি পরিচিত ব্যাপার। এ ব্যাপারে এক অতি সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লে¬খ আমি এখানে করবÑ বাংলাদেশে জনস্বার্থ, গরিব লোকের স্বার্থ, সমাজে সব থেকে শোষিত ও নিগৃহীত জনগণের স্বার্থ কিভাবে সংবাদপত্রের দ্বারা উপেক্ষিত হয়, তাদের আন্দোলনের সংবাদ কিভাবে সংবাদপত্রে হত্যা অথবা খর্ব করা হয় তার দৃষ্টান্ত হিসেবে। কিছুদিন আগে ‘ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় কমিটি’ কর্তৃক বাংলাদেশের জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের একটি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে এখন বাঙালি ছাড়া অন্য যেসব জাতির বসবাস তাদের সংখ্যা ৪৫-এর ওপর। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে বাংলাদেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের পাঁচশ’ প্রতিনিধি এই কনভেনশনে অংশগ্রহণ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে যেমন অনেক জাতির বাস, তেমনি বাংলাদেশের সমতলভূমিতেও বাস অনেক জাতির। এখানে যে সাঁওতালরা আছেন তাদের সংখ্যা পাহাড়ের বিভিন্ন জাতির জনসংখ্যার থেকেও বেশি। এছাড়া আছেন ওঁরাও, মণিপুরি, খাসি, হাজং, রাখাইন, মান্দি, তেলেগু, রাজবংশী, চা জনগোষ্ঠী, উর্দুভাষী ইত্যাদি ৪৫ জাতিসত্তাভুক্ত ও বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ। বাংলাদেশের শ্রমজীবী বাঙালিরা আজ দারুণভাবে শোষিত ও নির্যাতিত। কিন্তু এই জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুরাই হলেন এদেশে সব থেকে গরিব, শোষিত ও নির্যাতিত। তাদের কোন সাংবিধানিক স্বীকৃতি পর্যন্ত নেই। এই সংখ্যালঘু জাতিগত ও ভাষাগত জনগণের জন্যই মূলত ঐ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে বা দক্ষিণ এশিয়ায় বহু জাতির বাস। তাদের ওপর শোষণ নির্যাতনের সীমা নেই। পাকিস্তান থেকে নিয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা দেশীয় শোষক, শাসক ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের মতো করে সংগ্রাম করে থাকেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘু হিসেবে একত্রিত করে কোন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের দৃষ্টান্ত এই সমগ্র অঞ্চলে নেই। এদিক দিয়ে জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের কনভেনশন এই অঞ্চলের ইতিহাসে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার এই, এ ধরনের একটি কনভেনশনের সংবাদ, জনগণের সব থেকে শোষিত নির্যাতিত অংশের এই সংগ্রামের খবর বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। এমনকি কোন কোন প্রথম সারির দৈনিকে এই কনভেনশনের ওপর এক লাইনের কোন সংবাদও পরিবেশন করা হয়নি। সংবাদপত্র জগতে এর থেকে দায়িত্বহীন, কর্তব্যবোধহীন ও জনস্বার্থ বিরোধী কাজ আর কী হতে পারে? সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অর্থ তো শুধু সংবাদপত্র মালিক, সংবাদপত্রে কর্মরত সম্পাদক থেকে নিয়ে উচ্চ পদের কর্মচারীদেরই স্বাধীনতা নয়। এর অর্থ তাদের বেতন ভাতা ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার গ্যারান্টিই নয়, যদিও তা উপেক্ষা করা চলে না। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অর্থ জনগণের মতামত। জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের সংবাদ যথাযথভাবে অবিকৃতভাবে প্রকাশিত হওয়া। অভিজ্ঞতার মধ্যে দেখা যায়, এদিক দিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের অবস্থা শোচনীয়। বাস্তবত বাংলাদেশে সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ বলতে যা দেখা যায় তা হচ্ছে, যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের দ্বারা অন্য দলের সমর্থক সংবাদপত্র ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ। এর সঙ্গে জনস্বার্থের কোন সম্পর্ক নেই। এ হল শাসকশ্রেণীর দুই অংশের লড়াই। এই পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার আন্দোলন হল, সরকারি দল কর্তৃক বিরোধী দলের সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ বিরোধী আন্দোলন। এখানে যা উল্লে¬খযোগ্য তা হল, সরকার ও বিরোধীদলীয় এসব সংবাদপত্র নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ করলেও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত সংবাদ হত্যা করা এবং হত্যা না করতে তার গুরুত্ব খর্ব করার ক্ষেত্রে একইভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং উৎসাহী। এদিক থেকে বিচার করলে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সঙ্গে জনস্বার্থের সম্পর্ক সামান্য এমনকি নেই বললেই চলে। এ কারণে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অর্থ হল শাসকশ্রেণীর অভ্যন্তরীণ স্বার্থ সংঘাত সত্ত্বেও সংবাদপত্র কর্তৃক মালিক ও মালিক সমর্থিত দলের স্বার্থে সংবাদ পরিবেশনের স্বাধীনতা। মালিকদের রাজনৈতিক দলগুলোর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। 
 লেখক:গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ
০১৭১১৫৭৯২৬৭

0 comments:

Post a Comment