কিন্ডারগার্টেন সংস্কৃতি
অপরুদ্ধ
সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠে একটা গ্রামে যাচ্ছিলাম খামার দেখার জন্য। গাড়িতে বসে নজর পড়ল রাস্তার পাশে টিনের চালার নিচে বাঁশের বেড়ার ঘরের ওপর একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সাইনবোর্ড। সারাপথ মনে মনে কেবল কিন্ডারগার্টেন স্কুলটির কথাই ভাবছিলাম। সহযাত্রী একজন বললেন, শুধু সাতক্ষীরা শহরে কেন, শ্যামনগর থেকে শুরু করে পাটকেলঘাটা হয়ে খুলনা শহরের অলিগলিতে কতগুলো কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে হিসাব নেই। আসলে এখন বাংলাদেশে এমন কি কোন এলাকা আছে যেখানে কিন্ডারগার্টেন নামক বস্তু গজিয়ে না উঠেছে? আমাদের জাতীয় জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ ধরনের গড্ডালিকা প্রবাহের প্রবণতা লক্ষ্য করি। ব্যবসার ক্ষেত্রে এটা বেশি। যেমন খুলনা শহরে আহসান আহমেদ রোড়ের পিটি আইর কাছে একদিন সবার নজরেই এল একটা মিনি চাইনিজ দোকান বসেছে। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ কিনছে। আর যায় কোথায়, কয়েকদিনের মধ্যে আশপাশের কয়েকটা দোকানেও মিনি চাইনিজ বিক্রি শুরু হয়ে গেল। এখন খুলনা শহরে মিনি চাইনিজ এর দোকানের সংখ্যা কত কে জানে? তেমনি খুলনা শহরে এখানে-ওখানে একটির পর একটি সুপার মার্কেট গড়ে উঠছে, তা সে চলুক কিংবা না চলুক। একইভাবে লাভজনক ব্যবসা বলে কিন্ডারগার্টেন স্কুলও অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো মাথা তুলছে। সরকারের কাছে কি কোন হিসাব আছে, সারাদেশে কোমলমতি শিশুদের জন্য এ ধরনের কত হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে? আমার সন্দেহ, বোধহয় নেই। কেননা সরকারের হাতে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। কোন ধরনের নীতিও নেই। বাড়িতে বাড়িতেও স্কুলগুলো সহজে পাখা মেলে। প্রথমত, এসব স্কুল চালাতে সরকারের কাছ থেকে তেমন কোন অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না; দ্বিতীয়ত, সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণও নেই; তৃতীয়ত, অল্প চালান খাটিয়ে এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যায়; চতুর্থত, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে কিন্ডারগার্টেনগুলোর কিছু চটকদারি ব্যবস্থা আছে। যেমন ছাত্রছাত্রীদের পোশাক, জুতা এবং টুসটাস ইংরেজি বলা শেখানো। অভিভাবকরা দলে দলে এসে ধরনা দিয়ে থাকেন এসব স্কুলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমতো চাঁদাবাজি করেন। তার সন্তানকে ভর্তি করার জন্য এত টাকা দিতে হবে, স্কুলের উন্নয়নের নামে চাঁদা আদায়। এটা আজ থেকে নয়। বহু বছর আগে থেকেই চাঁদাবাজি চলে আসছে। আজ যারা রাস্তায়-পথেঘাটে চাঁদাবাজি করে তারা সম্ভবত এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেই শিখেছে। এ ছাড়াও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে আরও অনেক ব্যবসার সুযোগ করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্রামের ছাড়া গরুগুলোর মতোই ঢাকা শহরের প্রাইমারি স্কুলগুলোর অবস্থা। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবন্ধকতা না পেয়ে ক্রমেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে এর মঙ্গলজনক দিকও আছে, সে জন্যই আমি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নই। আমার কথা, এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা একটা নিয়মনীতির মধ্যে পরিচালিত হোক। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশাপাশি একটু ভিন্নতর শিক্ষা চলতে অসুবিধা কি? এটা পৃথিবীর সব দেশেই আছে। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই তা চলে। আমাদের এখানেও তাই হোক। স্কুলের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতারও একটা মাপকাঠি থাকতে হবে। সিলেবাসও হতে হবে একই রকম, ইংরেজি মাধ্যমটা প্রধান হলেও আমাদের কালচারের বাইরে যেন তা না যায় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। এ প্রশ্নেই আর একটি বিষয় উল্লে¬খ করতে হচ্ছে এবং সেটাই আমার এ লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু অসাধু ব্যাক্তি বিগত আশির দশক থেকে অলিতে-গলিতে কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠার দিকে মনোনিবেশ করে। তারা লক্ষ্য করেছিল যে, এ দেশের নি¤œ মধ্যবিত্তের মধ্যে কিন্ডারগার্টেনের প্রতি আগ্রহ বেশি। তাই তারা লাখ থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যেখানে সম্ভব কিন্ডারগার্টেন স্কুল তৈরি করতে শুরু করে দেয়। তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে ক্লাসের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো হয় না। তাদের সিলেবাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এসব কিছুই নেই। এমনকি শিশুদের বাঙালি কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা থেকেও অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়। তাদের এ পরিকল্পিত কর্মকান্ড কিন্তু আজকের বিষয় নয়। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্র ভাষা উর্দু করার প্রবণতাও কি এর মধ্যে নেই? এসব কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের শেখানো হয় না তুমি মানুষ। তোমার পরিচয় তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ট। বিশ্বে তোমার পরিচয়, তুমি মানব সন্তান। মানুষের মতো তোমাকে বাঁচতে হবে। তুমি বাঙালি কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কোথায় তুমি জš§গ্রহণ করেছ সেটা ভুলে যাও। তোমার জন্য পবিত্র ভাষা হল তোমার মাতৃভাষা। এটাই বাংলাই তোমার মাতৃ ভাষা সুতরাং অন্য কোন ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া ঠিক নয়। এছাড়া সুযোগ বুঝে কিছু কিন্ডারগার্টেনে ছোট ছোট বাচ্চাদের অবাঙালির মতো গড়ে তোলা হচ্ছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তথা জেনারেল ইস্কান্দর মির্জা, জেনারেল আইউব খান এমনটাই চেয়েছিলেন। পাকিস্তানে থাকতে হলে বাঙালিদের ভুলে যেতে হবে তারা বাংলা ভাষায় কথা বলে, তারা বাঙালি, তাদের শিখতে হবে তারা মুসলমান। ইসলাম তাদের ধর্ম। এর বাইরে কিছু চিন্তা করা পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর। আইউব শেষ পর্যন্ত উর্দু অক্ষরে বাংলা লেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে অনেক ইতিহাস। বাঙালি জাতিটাকে বিলুপ্ত করার জন্য একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, তেমনি এ দেশের কিছু অধঃপতিত বাঙালিকে কিনে নিয়েছিল। বহু প্রচেষ্টার পরও বাঙালি জাতিটাকে নিজেদের চিন্তা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি থেকে সরাতে না পেরেও কিন্তু তারা বসে থাকেনি। একটা না একটা পথ ধরেছে।
অবিলম্বে কিন্ডারগার্টেনগুলোর জন্য সরকারের একটি নিয়মনীতি প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষকদের যোগ্যতা ও দেশপ্রেম সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। শিক্ষণীয় তালিকায় কোন অবস্থাতেই যেন বাংলাদেশবিরোধী কিছু না থাকে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করতে হবে। স্কুলঘরের কাঠামো নির্ধারণ করে দিতে হবে। কিন্ডারগার্টেনের মেমোরেন্ডাম আর্টিক্যালের মাধ্যমে নিবন্ধীকরণ করিয়ে নিতে হবে। ইংরেজি মাধ্যম হলেও কমন সিলেবাস তৈরি করতে হবে।
লেখক: সাংবাদিক
অপরুদ্ধ
সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠে একটা গ্রামে যাচ্ছিলাম খামার দেখার জন্য। গাড়িতে বসে নজর পড়ল রাস্তার পাশে টিনের চালার নিচে বাঁশের বেড়ার ঘরের ওপর একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সাইনবোর্ড। সারাপথ মনে মনে কেবল কিন্ডারগার্টেন স্কুলটির কথাই ভাবছিলাম। সহযাত্রী একজন বললেন, শুধু সাতক্ষীরা শহরে কেন, শ্যামনগর থেকে শুরু করে পাটকেলঘাটা হয়ে খুলনা শহরের অলিগলিতে কতগুলো কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে হিসাব নেই। আসলে এখন বাংলাদেশে এমন কি কোন এলাকা আছে যেখানে কিন্ডারগার্টেন নামক বস্তু গজিয়ে না উঠেছে? আমাদের জাতীয় জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ ধরনের গড্ডালিকা প্রবাহের প্রবণতা লক্ষ্য করি। ব্যবসার ক্ষেত্রে এটা বেশি। যেমন খুলনা শহরে আহসান আহমেদ রোড়ের পিটি আইর কাছে একদিন সবার নজরেই এল একটা মিনি চাইনিজ দোকান বসেছে। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ কিনছে। আর যায় কোথায়, কয়েকদিনের মধ্যে আশপাশের কয়েকটা দোকানেও মিনি চাইনিজ বিক্রি শুরু হয়ে গেল। এখন খুলনা শহরে মিনি চাইনিজ এর দোকানের সংখ্যা কত কে জানে? তেমনি খুলনা শহরে এখানে-ওখানে একটির পর একটি সুপার মার্কেট গড়ে উঠছে, তা সে চলুক কিংবা না চলুক। একইভাবে লাভজনক ব্যবসা বলে কিন্ডারগার্টেন স্কুলও অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো মাথা তুলছে। সরকারের কাছে কি কোন হিসাব আছে, সারাদেশে কোমলমতি শিশুদের জন্য এ ধরনের কত হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে? আমার সন্দেহ, বোধহয় নেই। কেননা সরকারের হাতে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। কোন ধরনের নীতিও নেই। বাড়িতে বাড়িতেও স্কুলগুলো সহজে পাখা মেলে। প্রথমত, এসব স্কুল চালাতে সরকারের কাছ থেকে তেমন কোন অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না; দ্বিতীয়ত, সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণও নেই; তৃতীয়ত, অল্প চালান খাটিয়ে এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যায়; চতুর্থত, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে কিন্ডারগার্টেনগুলোর কিছু চটকদারি ব্যবস্থা আছে। যেমন ছাত্রছাত্রীদের পোশাক, জুতা এবং টুসটাস ইংরেজি বলা শেখানো। অভিভাবকরা দলে দলে এসে ধরনা দিয়ে থাকেন এসব স্কুলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমতো চাঁদাবাজি করেন। তার সন্তানকে ভর্তি করার জন্য এত টাকা দিতে হবে, স্কুলের উন্নয়নের নামে চাঁদা আদায়। এটা আজ থেকে নয়। বহু বছর আগে থেকেই চাঁদাবাজি চলে আসছে। আজ যারা রাস্তায়-পথেঘাটে চাঁদাবাজি করে তারা সম্ভবত এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেই শিখেছে। এ ছাড়াও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে আরও অনেক ব্যবসার সুযোগ করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্রামের ছাড়া গরুগুলোর মতোই ঢাকা শহরের প্রাইমারি স্কুলগুলোর অবস্থা। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবন্ধকতা না পেয়ে ক্রমেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে এর মঙ্গলজনক দিকও আছে, সে জন্যই আমি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নই। আমার কথা, এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা একটা নিয়মনীতির মধ্যে পরিচালিত হোক। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশাপাশি একটু ভিন্নতর শিক্ষা চলতে অসুবিধা কি? এটা পৃথিবীর সব দেশেই আছে। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই তা চলে। আমাদের এখানেও তাই হোক। স্কুলের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতারও একটা মাপকাঠি থাকতে হবে। সিলেবাসও হতে হবে একই রকম, ইংরেজি মাধ্যমটা প্রধান হলেও আমাদের কালচারের বাইরে যেন তা না যায় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। এ প্রশ্নেই আর একটি বিষয় উল্লে¬খ করতে হচ্ছে এবং সেটাই আমার এ লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু অসাধু ব্যাক্তি বিগত আশির দশক থেকে অলিতে-গলিতে কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠার দিকে মনোনিবেশ করে। তারা লক্ষ্য করেছিল যে, এ দেশের নি¤œ মধ্যবিত্তের মধ্যে কিন্ডারগার্টেনের প্রতি আগ্রহ বেশি। তাই তারা লাখ থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যেখানে সম্ভব কিন্ডারগার্টেন স্কুল তৈরি করতে শুরু করে দেয়। তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে ক্লাসের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো হয় না। তাদের সিলেবাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এসব কিছুই নেই। এমনকি শিশুদের বাঙালি কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা থেকেও অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়। তাদের এ পরিকল্পিত কর্মকান্ড কিন্তু আজকের বিষয় নয়। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্র ভাষা উর্দু করার প্রবণতাও কি এর মধ্যে নেই? এসব কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের শেখানো হয় না তুমি মানুষ। তোমার পরিচয় তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ট। বিশ্বে তোমার পরিচয়, তুমি মানব সন্তান। মানুষের মতো তোমাকে বাঁচতে হবে। তুমি বাঙালি কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কোথায় তুমি জš§গ্রহণ করেছ সেটা ভুলে যাও। তোমার জন্য পবিত্র ভাষা হল তোমার মাতৃভাষা। এটাই বাংলাই তোমার মাতৃ ভাষা সুতরাং অন্য কোন ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া ঠিক নয়। এছাড়া সুযোগ বুঝে কিছু কিন্ডারগার্টেনে ছোট ছোট বাচ্চাদের অবাঙালির মতো গড়ে তোলা হচ্ছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তথা জেনারেল ইস্কান্দর মির্জা, জেনারেল আইউব খান এমনটাই চেয়েছিলেন। পাকিস্তানে থাকতে হলে বাঙালিদের ভুলে যেতে হবে তারা বাংলা ভাষায় কথা বলে, তারা বাঙালি, তাদের শিখতে হবে তারা মুসলমান। ইসলাম তাদের ধর্ম। এর বাইরে কিছু চিন্তা করা পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর। আইউব শেষ পর্যন্ত উর্দু অক্ষরে বাংলা লেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে অনেক ইতিহাস। বাঙালি জাতিটাকে বিলুপ্ত করার জন্য একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, তেমনি এ দেশের কিছু অধঃপতিত বাঙালিকে কিনে নিয়েছিল। বহু প্রচেষ্টার পরও বাঙালি জাতিটাকে নিজেদের চিন্তা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি থেকে সরাতে না পেরেও কিন্তু তারা বসে থাকেনি। একটা না একটা পথ ধরেছে।
অবিলম্বে কিন্ডারগার্টেনগুলোর জন্য সরকারের একটি নিয়মনীতি প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষকদের যোগ্যতা ও দেশপ্রেম সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। শিক্ষণীয় তালিকায় কোন অবস্থাতেই যেন বাংলাদেশবিরোধী কিছু না থাকে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করতে হবে। স্কুলঘরের কাঠামো নির্ধারণ করে দিতে হবে। কিন্ডারগার্টেনের মেমোরেন্ডাম আর্টিক্যালের মাধ্যমে নিবন্ধীকরণ করিয়ে নিতে হবে। ইংরেজি মাধ্যম হলেও কমন সিলেবাস তৈরি করতে হবে।
লেখক: সাংবাদিক
0 comments:
Post a Comment