Saturday, April 11, 2015

ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিপর্যস্ত কৃষক

ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিপর্যস্ত কৃষক
ড.ফোরকান আলী
ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিপর্যস্ত কৃষক। আলু, পেঁয়াজ, পাট, ধানসহ উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে তারা বঞ্চিত। মনের কষ্টে কৃষক প্রতিবাদ জানিয়েছে রাস্তায় আলু ফেলে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবিতেও কৃষক তার উৎপাদিত পেঁয়াজ রাস্তায় ট্রাকের নিচে ফেলে দিচ্ছে। মন্দার কারণে কৃষক পাট চাষ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ধান উৎপাদনেও বিরাজ করছে একই আশঙ্কা। চলতি বছরে সেচ বিঘ্নতা, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ডিজেল সংকট, সার সংকট, কৃষি উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণে বোরো ধান উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়ার আশংঙ্কা করছে কৃষক। গত সপ্তাহে দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় কৃষককে আরও বিপাকে ফেলেছে। শুধু ধান নয়, শিলা ঝড়ে মৌসুমি ফসল ও শাক-সবজিও ব্যাপক তির মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকের মাথায় হাত। সব মিলিয়ে কৃষকের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। কৃষকদের এই দু:খ দেখার যেন কেউ নেই। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর বিরূপ প্রভাব পড়বে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে। এই তি কাটিয়ে উঠতে তারা সরকারের প থেকে কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি প্রদান; ন্যায্য মূল্যে কৃষকের কৃষকের পণ্য কিনে নেয়া এবং ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্যক্রমে আলু-পেঁয়াজ  অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রতিবাদে ও ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মেহেরপুরে চাষীরা সড়কের উপর পেঁয়াজ  ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুক্রবার মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের উপরে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ  ফেলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে এ প্রতিবাদ জানায় কৃষক। এ সময় তারা  পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্যের দাবি করেন। তিগ্রস্ত চাষীরা জানান, প্রতি বছর পেঁয়াজ উত্তোলনের সময় ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ  আমদানি করা হয়। ফলে বাজার দর কমে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয় কৃষকদের। এ বছরও হাজার হাজার কৃষক লোকসানের মুখে। মেহেরপুরের বামনপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর তিনি প্রায় এগার লাখ টাকা খরচ করে ২৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছিলেন। বর্তমানে ৩০০ টাকা মণ দরে পেঁয়াজ  বিক্রি করে তাকে তিন লাখ টাকা লোকসান গুণতে হবে। একই গ্রামের আহসান হাবিব জানান, তিনি ৩২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ  চাষ করে আড়াই লাখ টাকা লোকসান গুণেছেন।শাহাদ খান জানান, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে  পেঁয়াজের চাষ করেছিলেন। কিন্তু পেঁয়াজ  বিক্রি করে খরচটাও ওঠেনি। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। আসাদুল হক বলেন, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদন করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৩৫০ থেকে ৩৭৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ  বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে। ফলে কৃষকরা লোকসান গুণতে গিয়ে দিশেহারা। অনেকের পেঁয়াজ  বিক্রি করতে না পারায় পচে নষ্ট হচ্ছে। এবার দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন। জমি আবাদের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ৮ মে. টন পিয়াঁজ উৎপাদনের ল্যমাত্রা ধারা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আবাদ বেড়ে প্রায় ২ লাখ হেক্টরে দাঁড়াবে। উৎপাদনও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। শুধু পেঁয়াজ  নয়; ন্যায্য মূল্যের দাবিতে গত মাসে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পথে নামে আলুচাষীরা। তারা এ সময় বস্তায় বস্তায় আলু রাস্তা ও নদীতে ফেলে প্রতিবাদ জানায়। অপরদিকে হিমাগারগুলোতে অধিক মুনাফার লোভে গত বছরের আলু রেখে দেয়ায় এবং ওই আলু অবিক্রীত থাকায় উভয় সংকটে পড়েন কৃষকরা। তারা গত বছরের আলু হিমাগারে থাকায় না পাড়ছেন হিমাগারে রাখতে আবার না পাড়ছেন বিক্রী করতে। আলু চাষীরা তাই তাদের ভর্তুকি দিয়ে ভিজিএফ, ভিজিডি ও রেশনের মাধ্যমে সরবরাহ এবং রফতানির দাবি জানান। মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ির হাসাইলের ইলিয়াস মোল্লা জানান, বিগত কয়েক বছর আলু উৎপাদনে লোকসান হওয়া সত্ত্বেও লাভের আশায় এবারও আলু চাষ করেছিলাম। কিন্তু মূলধনও তুলতে পারিনি। প্রতি কেজি আলু উৎপাদন খরচ পড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা, আর ওইসময় বিক্রি করেছি ৩ থেকে ৪ টাকায়। তিনি আরও জানান, আগের বারের আলু হিমাগারে থাকায় দামের েেত্র এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। চার লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর ৮৫ লাখ টন আলু উৎপাদনের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জমির হিসেবে আলু চাষ ল্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর কৃষকরা চার লাখ ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন। এতে প্রায় ৯০ লাখ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়। বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) চেয়ারম্যান মেজর (অব) জসিমউদ্দীন বলেন, আলু সংরণে দেশে হিমাগারের সঙ্কট রয়েছে। তার ওপর গত বছরের বিপুল পরিমাণ আলু মজুদ থাকায় বিপাকে পড়েছে হিমাগার ব্যবসায়ী ও কৃষক। দাম না পাওয়ায় কৃষক হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করেননি। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে চাষীদের বাঁচাতে হলে একমাত্র উপায় ভিজিএফের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র মানুষকে আলু দেয়া। এদিকে পাট আমাদের দেশের অন্যতম একটি অর্থকারী ফসল হিসেবে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিল্পায়নের ল্েয পূবালী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গত মাসে পাটকলটি বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিভাবে গত দুই মাসে একে একে বন্ধ হয়েছে বেসরকারি মালিকানার আরও পাঁচটি পাটকল। গত দেড় মাসে ১২টি পাট সুতা উৎপাদনকারী কারখানাও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ছয়টি সুতাকল উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। আর গত তিন বছরের হিসাব ধরলে বন্ধ হওয়া পাট এবং পাট সুতাকলের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এসব কারখানায় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পাটের দামের সাথে সাথে কমেছে রপ্তানি। ফলে পাট চাষে উৎসাহ হারাচ্ছে কৃষক। এতে দেশের প্রায় এক কোটি পাটচাষী পড়েছেন মহাবিপাকে। ইতোমধ্যে সারা দেশে পাট রোপণ শুরু হয়েছে। এই পাট উঠবে জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। একদিকে চাষীরা পুরোনো বকেয়া আদায় করতে পারছেন না, অপরদিকে পাটের দর পড়ে যাওয়ায় তাঁরা পথে বসার জোগাড়। গত মৌসুমে পাট বেচে বেশির ভাগ কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি। তার ওপরে আগের বছরের অবিক্রীত পাটের বোঝা তো রয়েছেই। এ বছর পাটের উৎপাদন ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ লাখ বেল। আর এর সঙ্গে যুক্ত হবে গত বছরের অবিক্রীত ২০ লাখ বেল। একসময়কার দেশের সোনালি আঁশের এই বিশাল মজুদ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরে একটি বোঝা হিসেবে তৈরি হবে। পাট খাতের এই করুণ দশার জন্য আন্তর্জাতিক পাটের বাজারে সংকটের পাশাপাশি দেশীয় বাজারে পাটের ব্যবহার না বাড়ানোকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০১০ সালে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন এখনও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। ২০০৩ সালে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করলেও এখনো বাজারে দেদারসে পলিথিন ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারি খাত তো দূরে থাক, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই শতভাগ পাটের ব্যাগের ব্যবহার শুরু করেনি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের পাট খাত নিয়ে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে আগানো দরকার ছিল। সরকারি ও বেসরকারি পাটকলগুলোর বাজার পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে একটি দিকনির্দেশনা দিলে আজ এই সমস্যা হতো না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে সাত লাখ আট হাজার হেক্টর জমিতে ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার বেল পাট হয়। এর পরের বছরগুলোতে চাষের এলাকা এবং ফলন দুটোই কমতে কমতে চলতি অর্থবছরে ছয় লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে ৭৪ লাখ ৩৬ হাজার বেল পাট হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এর পরিমাণ আরও কমবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বিজেএমএর সভাপতি শামসুজ্জোহা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দেশের পাটখাত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল। অথচ দেশে-বিদেশে পাটের বাজারে সংকট, নতুন বাজার সৃষ্টি না হওয়া এবং পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক না করায় ডুবতে বসেছে পাটখাত। দাম ও উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে কমছে পাটের রপ্তানিও। দেশে বেসরকারি মালিকানায় থাকা পাটকলের সংখ্যা ১৩০টি। এসব পাটকল বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, থাইল্যান্ড ও ইউরোপের বাজারে পাট রপ্তানি করত। ২০১১-এর পর মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাট রপ্তানি কমে যায়। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় তারা বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি প্রায় বন্ধ করে দেয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি প্রায় সাত হাজার কোটি টাকায় ছুঁয়েছিল। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা কমে পাঁচ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। জুন নাগাদ তা বড়জোর সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়া পাটের দামও ক্রমাগতভাবে কমছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রতি মণ পাট কৃষক দুই থেকে চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দর কমে হয়েছে এক হাজার  থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। বাংলাদেশ ুদ্র পাট ব্যবসায়ী এবং চাষী সমিতির হিসাবে প্রতি মণ পাট কমপে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করতে না পারলে কৃষকের লাভ থাকে না। ফলে তিন বছর ধরে পাটচাষিরা ক্রমাগত লোকসান গুনছেন।এছাড়া চলতি বছরে সেচ বিঘœতা, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ডিজেল সংকট, সার সংকট, কৃষি উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণে বোরো ধান উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়ার আশংঙ্কা করছে কৃষক। তাই পাটের মত ধান উৎপাদনেও বিরাজ করছে একই আশঙ্কা। গত সপ্তাহে দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় কৃষককে আরও বিপাকে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জের আজিমপুর গ্রামের ইরি চাষি নাসির উদ্দিন জানান, তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে এ বছর উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওযায় তিনি চিন্তিত। তিনি আরো জানান, গত বছর ডিজেল কিনেছেন ৬২-৬৩ টাকা করে। এ বছর সেই ডিজেল কিনতে হচ্ছে ৭২ টাকা করে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধি পায়নি ধান ও চালের দাম। তাই এ বছর লাভের আশা বাদ দিয়ে তিনি উৎপাদন খরচ নিয়ে শঙ্কিত। একই সঙ্গে গত বছর সরকারের প থেকে কৃষিদ্রব্য উৎপাদনে ভর্তুকি দেয়ার কথা শুনলেও পাননি বলে উল্লেখ করেন। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বশাইলের কৃষক মতলেব মোল্লা জানান, সরকার ডিজেলে ভর্তুকি না দিলে আগামী বছরের পর তিনি আর এ পেশায় থাকবেন না। তার অভিযোগ এভাবে কৃষি উৎপাদনের সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেলে তার পে কৃষি কাজ করে সংসার চালানো সম্ভব না। কৃষকরা জানান, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি মওসুমে প্রতি মণ ধানের উৎপাদন ব্যয় ৭০০ টাকার বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে সম্প্রতি শিলা বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক তি হয়েছে। ধান চিটা হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই ধানের আবাদ ও উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
সাবেক সচিব ও বার্কের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. জহুরুল করিম বলেন, শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে টমোটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি বেগুনসহ অন্যান্য সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিবে। আকাশ ছোঁয়া দাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি বোরো ধানের েেত্র বলেন, যে সকল এলাকায় আগাম বোরো ধান উঠার কথা রয়েছে সেখানে ধানের ব্যাপক তি হয়েছে। বিশেষ করে হাওড় এলাকার ধান চিটা হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ঝড়ো বৃষ্টির কারনে যেখানে ধান আঘাতপ্রাপ্ত হবে সেখানে ফলন কমে যাবে আশঙ্কাজনকভাবে। আর উদ্ভিদ প্রযুক্তিবিদ ড. ফেরদৌসি বেগম বলেন, বিশ্বব্যাপী কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া হয়। একই সঙ্গে একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষি কাজ চলে। আমাদের দেশে ৫ হাজার বছর ধরে কৃষি পেশা চলছে। এটা চলবে। কিন্তু ফসলের ন্যায্য মূল্য ও তিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না।  এ নিয়ে তিনি ােভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের উচিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষকের পণ্য কিনে নেয়া। একই সঙ্গে কৃষকের পণ্য মজুদের ব্যবস্থা করা। না হলে দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি তির মুখে পড়বে। তিনি দেশের স্বার্থে যখন যে পণ্য উৎপাদন হবে সে পণ্য আমদানির না করারও আহবান জানান। এতে কৃষকরা তাদের তি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি চাষীদের বাঁচাতে আলু ও পেঁয়াজকে ভিজিডি ও ভিজিএফের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র মানুষকে প্রদানের আহবান জানান।  লেখক: গবেষক

0 comments:

Post a Comment