Saturday, April 11, 2015

বাজেটে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যাশা

বাজেটে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যাশা
আলী
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে সব বাজেটই বৈষম্যপূর্ন। এ পর্যন্ত ঘোষিত সকল বাজেটে গতানুগতিক একই ধারা পরিলতি হয়। কোন বাজেটেই এই অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে বাস্তবমুখি পদপে গ্রহণ করা হয়নি। গৃহিত প্রকল্পসমূহে অর্থ বরাদ্দের েেত্রও ছিল প্রতিবন্ধকতা। ফলে বার বার পিছিয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা। দুর্বল হয়ে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি। তাই এবার খুলনাসহ এ অঞ্চলের সকল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতে আগামী জুনের বাজেটে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রত্যাশা করছে এখানকার বঞ্চিত মানুষ। তাদের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

# অবহেলা ও বঞ্চনার ইতিহাস
উন্নয়ন বাজেটে খুলনাসহ এ অঞ্চলের বঞ্চনার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতা উত্তরকালে এখানে কোন ভারী শিল্প স্থাপিত হয়নি। অর্থের অভাবে একের পর এক বন্ধ হয়েছে পাটকলগুলো। এক সময়ের কর্মচঞ্চল শিল্পাঞ্চল আজ মৃতপ্রায়। মংলা বন্দর আধুনিকায়নে কার্যত নেয়া হয়নি কোন উল্লেখযোগ্য পদপে। পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, পদ্মা সেতু নির্মাণ, আধুনিক রেল স্টেশন, বিমান বন্দর নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ ইপিজেড চালু, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল সম্প্রসারণ, আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ আজো অপূর্ণ প্রত্যাশা। এ অঞ্চলের ইতিহাস তাই চির বঞ্চনার ইতিহাস। বাধ্য হয়ে বৈষম্য ও বঞ্চিত দণি-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য রাজপথে আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছে এখানকার বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আন্দোলনের অংশ হিসাবে মিছিল, সমাবেশ, ঘেরাও অবরোধসহ নানা ধরনের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে।

# রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও অনগ্রসর জনপদ
দণি-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায় সঙ্গত অধিকার থেকে অতীতে বঞ্চিত হয়েছে। সুষম বরাদ্দের অভাবে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিগত সরকারগুলোর রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও বঞ্চনায় দণি-পশ্চিমাঞ্চল অনগ্রসর রয়ে গেছে। উন্নয়নের েেত্র রাষ্ট্র তার যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে সংবিধার স্বীকৃত ন্যায়সঙ্গত বরাদ্দের প্রত্যাশা করছে বঞ্চিত মানুষ। রাষ্ট্র এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দণি-পশ্চিমাঞ্চল দারুনভাবে বৈষম্যের স্বীকার হবে এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থমকে যাবে। উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুন্দরবন রাসহ উন্নত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণসহ এবারের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও আইলা এলাকাকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

# পাট শিল্পকে অগ্রাধিকার
পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পূর্ব সময় পর্যন্ত খুলনাঞ্চলে গড়ে উঠেছিল ১১ টি পাটকল। আশির দশকে এর কয়েকটি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়। বর্তমানে খুলনা-যশোরে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রয়েছে নয়টি পাটকল। যার মধ্যে দু’টি বন্ধ। বাকী সাতটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী এক বক্তৃতায় বলেছেন, বন্ধ মিল চালুর ব্যাপারে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে না। কিন্তু এ অঞ্চলের অস্তিত্বের স্বার্থে বন্ধ পাটকলগুলো চালুর প্রয়োজন রয়েছে। পাট ও পাটশিল্প রা কমিটি সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন শিল্পাঞ্চলের বন্ধ পাটকল চালু ও চালু পাটকল সচল রাখতে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।


# অবহেলিত শিা স্বাস্থ্য কৃষিখাত
আইলা বিধ্বস্ত দণি-পশ্চিমাঞ্চলের শিা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাত এখনো বিপর্যয়ের মুখে। বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দিলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এ অঞ্চল আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তাই শিা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতসহ সামগ্রিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র, খুলনা জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিক গনমুখি বাজেট চাই’ শীর্ষক প্রাক বাজেট আলোচনায় বক্তারা এ দাবি জানান। নবলোক পরিষদের নির্বাহী প্রধান কাজী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ঘোষিত বাজেট হতে হবে গনমুখি। এতে জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন থাকতে হবে।

# প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি
খুলনাসহ এ অঞ্চলের উন্নয়নে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও আইলা এলাকাকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছে পেশাজীবী, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বেসরকারি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাজেটে “দণি-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যাশা” শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, পাট ও পাটশিল্প রা কমিটি, এ্যাকশান এইড বাংলাদেশ ও খুলনা বিভাগীয় প্রেস কাব ফেডারেশন যৌথভাবে খুলনা কাবের সম্মেলন কে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে।
নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমান। খুলনার বিভিন্ন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবিতে এসময় হভপযল সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সংসদ সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোল্লা জালাল উদ্দিন, নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও ননী গোপাল মণ্ডল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ সাইফুদ্দিন শাহ, কুয়েট উপাচার্য ড. নওশের আলী মোড়ল বক্তৃতা করেন। সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় প্রেস কাব ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী।

# দাবি আদায়ের আন্দোলন
নানা বৈষম্য ও বঞ্চিত দণি-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেয়া হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। আন্দোলনের অংশ হিসাবে মিছিল, সমাবেশ, ঘেরাও অবরোধসহ নানা ধরনের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি কর্মসূচীর ঘোষনা দেয়া হয়েছে। সংবিধান স্বীকৃত সুষমবণ্টন নীতিমালার ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারনী মহলের কাছ থেকে দাবি আদায়ের ল্েয এ আন্দোলন। দণি-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায় সঙ্গত অধিকার থেকে অতীতে বহুবার বঞ্চিত হয়েছে। উন্নয়নের েেত্র রাষ্ট্র তার যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে সংবিধান স্বীকৃত ন্যায় সঙ্গত বরাদ্দের প্রত্যাশা করছে সকলে। বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে চেষ্টা করছে। তাই সকলের আশা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণে এবারের বাজেটে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকবে। এ অঞ্চলের মানুষের দাবি সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানো হবে।

# সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ
উন্নয়ন কমিটির মহাসচিব হায়দার গাজী সালাউদ্দিন রুনু বলেছেন, উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, সুপেয় পানি সরবরাহসহ শিা স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। সাবেক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সুন্দরবন রাসহ উন্নত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সকল প্রকল্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বলেছেন, শুধু সেমিনার ও সমাবেশ করে দাবি আদায় করা যায় না। দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে হয়। তিনি বলেন, খুলনার অস্তিত্বের স্বার্থে সকলকে রাজপথে আন্দোলনে শরীক হতে হবে। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান বলেন, বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। বর্তমান সরকার সুষম উন্নয়নে যথেষ্ট আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাাত করে দাবিসমূহ তুলে ধরা হবে।

0 comments:

Post a Comment