খাদ্য ও পানীয় সংকটের মুখে কোটি কোটি মানুষ জলবায়ুর আগ্রাসন
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা মারাত্মক পরিণতির ইঙ্গিতবহ। এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগের। তাদের অভিমত, জলবায়ু অর্থনীতির প্রত্যক্ষ অনুষঙ্গ না হলেও পরোক্ষ প্রভাব মোটেই অস্বীকার করার মতো নয়। প্রতিদিন জলবায়ু ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় নেমে যাচ্ছে। চলমান এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ খাদ্য ও পানীয় সংকটের মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে বন্যা ও প্রাকৃতিক ঝুঁকিও। সম্প্রতি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানেল অব কাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর সম্মেলনে আগত পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। একই সঙ্গে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় নির্ধারণ করেন। তাতে তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি।
আইপিসিসির চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচৌরি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীই কেবল নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগোষ্ঠীও একই পরিস্থিতির শিকার হবেন। কারণ উল্লেখিত দুই শ্রেণীর জনগোষ্ঠী পরিবর্তনশীল জলবায়ু মোকাবিলার জন্য তেমন প্রস্তুত নয়।সংস্থার কো-চেয়ারম্যান মার্টিন পেরি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ক্ষতিকর দিক বিশ্লেষণে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হওয়া যায় যে, ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জীবজন্তু, বৃক্ষরাজি ও পানি সম্পদ। তার ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সাল নাগাদ আফ্রিকায় অন্তত ২৫ কোটি মানুষ নিদারুণ পানি সংকটে নিপতিত হবে। তেমন পরিস্থিতিতে পূর্ব এশিয়ায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন ২০ ভাগ বাড়লেও মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় কমবে ৩০ ভাগেরও বেশি। অতি বৃষ্টির কারণে কোন কোন দেশে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে ৫০ ভাগ।সবচেয়ে ভয়ানক দিক হচ্ছে তাপমাত্রা দেড় থেকে আড়াই সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেলে ২০ থেকে ৩০ ভাগ বৃক্ষরাজি ও জীবজন্তু বিপন্ন ঝুঁকিতে চলে যাবে। আরো আশংকাজনক তথ্য হচ্ছে দুই মেরুতে জমাট বরফ চাই, গলনের ফলে সমুদ্রের উপরিভাগের উচ্চতা বেড়ে বিশ্বের অনেক দেশেরই বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে যাবে। বিশেষ করে উপকূলীয় বসতি হবে ঝুঁকিপূর্ণ। কোপেনহেগেন শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও বাস্তবভিত্তিক কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় কানকুন সম্মেলনে নতুন কিছু আসবে তেমন আশাও অনেকটা গুড়েবালি। কেননা কার্বন নির্গমন হ্রাসের যে প্রতিশ্রুতি কয়েকটি দেশ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তেমন মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। চীন ও জাপান যদিও আশাব্যঞ্জক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ ব্যাপারে এখনও নীরব। অথচ কার্বন নির্গমনে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমতাবস্থায়, জলবায়ুর রাশ এখনই টেনে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো। তাই তাদেরই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের বুঝতে হবে- শিল্প মানুষের জন্য; মানুষ শিল্পের জন্য নয়। তাদের শিল্প-কারখানায় মানুষের ভোগ্যপণ্য উৎপাদন হয়। বিনিময়ে নির্গত হয় মারণাস্ত্র কার্বন গ্যাস। যা জলবায়ুকে দ্রুত পরিবর্তনশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে অমানবিক পরিণতি হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার লড়াই। সে লড়াইয়ে তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতির শিকার। যা আদৌ কাম্য নয়।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা মারাত্মক পরিণতির ইঙ্গিতবহ। এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগের। তাদের অভিমত, জলবায়ু অর্থনীতির প্রত্যক্ষ অনুষঙ্গ না হলেও পরোক্ষ প্রভাব মোটেই অস্বীকার করার মতো নয়। প্রতিদিন জলবায়ু ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় নেমে যাচ্ছে। চলমান এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ খাদ্য ও পানীয় সংকটের মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে বন্যা ও প্রাকৃতিক ঝুঁকিও। সম্প্রতি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানেল অব কাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর সম্মেলনে আগত পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। একই সঙ্গে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় নির্ধারণ করেন। তাতে তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি।
আইপিসিসির চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচৌরি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীই কেবল নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগোষ্ঠীও একই পরিস্থিতির শিকার হবেন। কারণ উল্লেখিত দুই শ্রেণীর জনগোষ্ঠী পরিবর্তনশীল জলবায়ু মোকাবিলার জন্য তেমন প্রস্তুত নয়।সংস্থার কো-চেয়ারম্যান মার্টিন পেরি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ক্ষতিকর দিক বিশ্লেষণে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হওয়া যায় যে, ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জীবজন্তু, বৃক্ষরাজি ও পানি সম্পদ। তার ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সাল নাগাদ আফ্রিকায় অন্তত ২৫ কোটি মানুষ নিদারুণ পানি সংকটে নিপতিত হবে। তেমন পরিস্থিতিতে পূর্ব এশিয়ায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন ২০ ভাগ বাড়লেও মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় কমবে ৩০ ভাগেরও বেশি। অতি বৃষ্টির কারণে কোন কোন দেশে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে ৫০ ভাগ।সবচেয়ে ভয়ানক দিক হচ্ছে তাপমাত্রা দেড় থেকে আড়াই সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেলে ২০ থেকে ৩০ ভাগ বৃক্ষরাজি ও জীবজন্তু বিপন্ন ঝুঁকিতে চলে যাবে। আরো আশংকাজনক তথ্য হচ্ছে দুই মেরুতে জমাট বরফ চাই, গলনের ফলে সমুদ্রের উপরিভাগের উচ্চতা বেড়ে বিশ্বের অনেক দেশেরই বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে যাবে। বিশেষ করে উপকূলীয় বসতি হবে ঝুঁকিপূর্ণ। কোপেনহেগেন শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও বাস্তবভিত্তিক কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় কানকুন সম্মেলনে নতুন কিছু আসবে তেমন আশাও অনেকটা গুড়েবালি। কেননা কার্বন নির্গমন হ্রাসের যে প্রতিশ্রুতি কয়েকটি দেশ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তেমন মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। চীন ও জাপান যদিও আশাব্যঞ্জক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ ব্যাপারে এখনও নীরব। অথচ কার্বন নির্গমনে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমতাবস্থায়, জলবায়ুর রাশ এখনই টেনে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো। তাই তাদেরই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের বুঝতে হবে- শিল্প মানুষের জন্য; মানুষ শিল্পের জন্য নয়। তাদের শিল্প-কারখানায় মানুষের ভোগ্যপণ্য উৎপাদন হয়। বিনিময়ে নির্গত হয় মারণাস্ত্র কার্বন গ্যাস। যা জলবায়ুকে দ্রুত পরিবর্তনশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে অমানবিক পরিণতি হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার লড়াই। সে লড়াইয়ে তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতির শিকার। যা আদৌ কাম্য নয়।
0 comments:
Post a Comment