Sunday, April 26, 2015

নতুন দশকের প্রারম্ভে বাংলাদেশের অর্থনীতি


নতুন দশকের প্রারম্ভে বাংলাদেশের অর্থনীতি
অপরুদ্ধ
সীমিত পরিসরের কারণে বিগত বছরের ঘটনাপ্রবাহের ওপর দৃকপাত করব না, বরং সরাসরি আগত বছরের কিছু সম্ভাবনা ও শংকার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করব। বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না গিয়ে কিছুটা বিক্ষিপ্তভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করব। এসবের বিশদ যোগসূত্র খুঁজে বের করার দায়িত্ব পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম। সে প্রয়াসকে সহজ করার উদ্দেশ্যে পরিসংখ্যান অনুপস্থিত।
খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আগামী এপ্রিল-মে অবধি আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি থাকবে বলে অনেকেই মনে করেন। উপযুক্ত সময়ে বহির্বিশ্ব থেকে পর্যাপ্ত সংগ্রহের অভাবে দেশের অভ্যন্তরে ব্যক্তি খাত এবং সরকারি মজুদ ও সরবরাহে বিশৃংখলার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি শীতের মৌসুম প্রলম্বিত হয় এবং বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির কারণে সরকার খোলাবাজারে কম দামে চাল বিক্রিতে উদ্যোগী হলে মজুদ ও সরবরাহে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা হয়তো সাধারণ বাজারকেও অস্থিতিশীল করবে।
সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির আপেক্ষিক দাম অদূর ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই ধারণা করা হয়। এ ধরনের প্রবণতা যদি আপেক্ষিক সরবরাহের প্রতিফলন হয়, জোর করে বাজারদর নিুমাত্রায় বেঁধে রাখা উচিত কি? খাদ্যশস্যের অধিক দাম সাধারণত জমির মালিককে উপকৃত করে, তবে অভিজ্ঞতার নিরিখে নিশ্চিত বলা যায়, কৃষি শ্রমিকের মজুরিও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণভাবে অ ম ও নির্দিষ্ট আয়ের ব্যক্তি ছাড়া গ্রামীণ জনসাধারণ উপকৃত হবে। বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি অতীতের মতো শহুরে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্য ও নিু-মধ্যবিত্তের জীবন মানকে সংকটাপন্ন করবে। অনেকে তাই মনে করেন, দেশে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়লে অনেক গরিব উপকৃত হবে, নিু আয়ের অনেকেই গরিব হবে ও সার্বিকভাবে অধিক মজুরির কারণে শিল্পায়ন বিঘিœত হবে এবং যদি দেশীয় পর্যায়ে অধিক দাম থেকে লাভ করার জন্য স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ না থাকে, তাহলে জাতীয় সঞ্চয়ের বড় অংশ আমদানি খাতে ব্যয় হবে।
আমরা অনেককাল হাজারো জাতের দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বললেও সবাই স্বীকার করবেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ক্রমাগত আয়মুখী সম্পদ বৃদ্ধি ব্যতিরেকে স্থায়ীভিত্তিক দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে উল্লেখ্য, সব অর্থনৈতিক অগ্রগতিই স্থায়িত্ব পায় না। অন্যান্য উপাদানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি, প্রযুক্তি ও বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ যা স্থানীয় বাজার বড় হলে সুগম হয়। দেশজ-স্বার্থ চিহ্নিত ও এগিয়ে নেয়ার জন্য যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্থায়ীভিত্তিক অগ্রগতি আনার ক্ষেত্রে সহায়ক। বিগত দেড়-দু’দশকজুড়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি ছিল ক্রমবর্ধমান শ্রম-রফতানি ও পোশাক/বুনন বস্ত্র রফতানি। একই সময়ে এনজিও ও  ুদ্রঋণ-কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে এবং সেবা সরবরাহে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বলয়ের সঙ্গে পেশাজীবীদের অধিকতর পরিচিতির কারণে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের ফলেও সেবাধর্মী খাতে অনেক উদ্ভাবনী উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। এসব প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে নিঃসন্দেহে এক বিশালাকার মানবসম্পদ গড়ে উঠেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা উত্তরোত্তর এগিয়ে যেতে পারি অথবা উপযুক্তভাবে ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে আমরা অস্থিরতার পথকে সুগম করতে পারি। আমার ধারণায়, আগামী দশকের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক কিছু পরিবর্তন ঘটবে, যার পরিকল্পনা কেবল বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। এ উন্নয়ন-চিন্তার সম্যক ধারণা ও সে চিন্তায় অধিকাংশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতির কল্যাণ ও স্থায়ীভিত্তিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
প্রথমে লক্ষণীয়, রেমিটেন্স অর্থাৎ বিদেশে কর্মরতদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির হার কমছে। বাইরে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭ ভাগ কমেছে বলে শোনা যায়। পোশাক রফতানি শিল্পে আগামীতে বিপরীতমুখী ধারার সংঘাত আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি এতদিন টিকে ছিল মূলত শ্রমের স্বল্প দামের কারণে। সংকুচিত বিদেশের শ্রমবাজার ও স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা একদিকে যেমন বেকারের সংখ্যা বাড়াবে, তেমনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ভোগবাদী সংস্কৃতির প্রসার ও প্রক্ষেপিত উন্নয়নধারায় কিছু লোকের হাতে অধিক সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক মজুরির দাবিকে জোরদার করবে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর সহজ সমাধান নেই। সে কারণে আগামী দশকের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পোশাক খাতকে দেখতে আমার দ্বিধা রয়েছে।
সবাই জানেন, বিগত কয়েক বছর কিছু বৃহদাকারের ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয় আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু, গভীর সমুদ্রবন্দর, আঞ্চলিক যোগসূত্রতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তা ও রেলব্যবস্থা, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করে তোলা ও যানজট হ্রাসের উদ্দেশ্যে মেট্রো-ট্রানজিট (ঝুলন্ত সড়ক ও রেলপথ) এবং দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগের জন্য দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ অপটিক ফাইবারের নেটওয়ার্ক উল্লেখ্য। মাত্র দু’দিন আগে সংবাদ মাধ্যমে আরও জানা গেল, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকল্পে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ঘটনাপ্রবাহ পরিকল্পনার স্তর পেরিয়ে যে বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে, তার নমুনা পাওয়া যায় বেশ কিছু উদ্যোগে। পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা স্তর পেরিয়ে জমি অধিগ্রহণ শুরু, ভারতের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রাস্তা ও রেলব্যবস্থায় বিনিয়োগ, গভীর সমুদ্রবন্দরের কারিগরি নিরূপণের কাজ শেষ ও তা অর্থায়নের চেষ্টা চলছে এবং শেষোক্ত দুটি কাজও শুরু হয়েছে বলে শোনা যায়। যদি পরিকল্পিত পথে সব এগোতে পারে, আসছে বছর থেকে শুরু করে আগামী দশকজুড়ে তাই অবকাঠামো নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলবে। সেই সুবাদে এদেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর আসবে কারিগরি সহায়তার নামে বিদেশী পরামর্শক ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশী নাগরিক। যেখানে এমন বিরাট আয়োজন চলে, সেখানে স্বল্পসময়ে দ্রুত লাভের আশায় অনেক সুযোগসন্ধানীর ভিড়ও জমবে। স্বল্পাকারে হলেও এসবের প্রাথমিক প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০১৫ সালেই।
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কেন এ আয়োজন? সবকিছু একত্র করলে বিনিয়োগের পরিমাণ বিশাল এবং তা থেকে প্রাপ্তির বিচারেই এর যৌক্তিকতা যাচাই সম্ভব। বিভিন্ন আলোচনায় দুটি সম্ভাব্য লাভের খাত উল্লেখ করা হয়। প্রথমত, ভারত ও পশ্চিমের সঙ্গে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য প্রসারে এক নতুন যুগের সূচনায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের ভূমিকা। একই সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের পণ্যপ্রবাহ থেকে প্রাপ্তিতে অংশীদারিত্ব পাওয়া। দ্বিতীয় লাভজনক খাতটি মূলত ভূগর্ভ থেকে (উত্তর-পূর্ব ভারত, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমুদ্রের তলদেশে) জ্বালানিসম্পদ উত্তোলন। তথ্যের দুর্লভ্যতার কারণে এ বিষয়ের আলোচনা অনুমানধর্মী হতে বাধ্য। তথাপি শেষোক্ত লক্ষ্যই বিশাল বিনিয়োগের মূল যৌক্তিকতা মনে হয় এবং তাই প্রথমটি বাবদ কিছু পেলে তা হবে উপরি পাওয়া। বড় কোন অঘটন না ঘটলে সবাই একমত হবেন, আগত দশকে চীনের অগ্রগতি মূলত এশিয়া অঞ্চলের বাণিজ্য প্রবাহের দিক ও গতি নির্ণয় করবে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, এ ব্যাপারে চীন মূলত দক্ষিণমুখী। সে পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে এবং লাওস, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার ভূখণ্ড দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর রাস্তা নির্মাণে চীন অধিক আগ্রহী। নেপালের মাধ্যমে স্থলপথে ভারতের বাজারে প্রবেশ চীনের জন্য সহজতর। এছাড়া জলপথে ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য কম খরচের। সার্বিক বিচারে তাই জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উত্তোলনের উদ্দেশ্যেই এ বিশাল বিনিয়োগের যথার্থতা পাওয়া সম্ভব। এ ধারণাটি আরও জোরালো হয়, যখন দেখি বাণিজ্য চাহিদা গণনার ভেতর না এনেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের আয়োজন চলছে।
উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে আগামী বছর ও আসছে দশকে বাংলাদেশের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি কেমন হবে, তার ভিন্ন একটি আঙ্গিক আলোচনায় আসে। সংক্ষিপ্তসারে সেটাতেই এ নিবন্ধের সমাপ্তি টানা হবে। অনুমানের খাতিরে ধরা যাক সব পূর্ব-আয়োজন শেষ হয়েছে, বিভিন্ন দেশ, দল ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে অয়েল-রিগ বঙ্গোপসাগরে কাজ শুরু করল। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আগেই যদি খননস্থল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, উৎপাদন প্লাটফর্ম তৈরি করতে আরও দু’বছর লাগবে উৎপাদন শুরু করতে। গভীর সমুদ্রবন্দরে উপযুক্ত প্লাটফর্ম তৈরি করে সেটা রফতানি হবে, নাকি কূলে প্লাটফর্ম তৈরি করে স্থলভূমিতে ব্যবহার করা হবে, সেটা দেখার অপেক্ষা রাখে। সংবাদ মাধ্যমে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা সম্পর্কে যা জানা যায়, তা থেকে মনে হয় ২০১৫ সালে সেই অধ্যায় শুরু হবে। অর্থাৎ কী হবে, সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা নেই। এখন তা বাস্তবায়নে কে পারদর্শিতা দেখাতে পারে, সে প্রতিযোগিতাই মুখ্য। যারা এ বিশাল বিনিয়োগ করবেন, তারা স্বাভাবিক কারণেই বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইবেন এবং বিলম্ব অথবা অযাচিত ঘটনায় অধিক খরচ করতে চাইবেন না।
যদি কোন কারণে এখনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হয়ে থাকেÑ আগামী বছরে অস্থিরতা বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হবে, যতদিন না এর মীমাংসা হচ্ছে। আমরা চাই বা না চাই, আমার ধারণামতে, বাংলাদেশের জন্য সম্পদ আহরণে এক নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। কিছুটা স্থূলভাবে বললে, এ প্রক্রিয়ায় এখানকার বাসিন্দারা মূলত দর্শকের ভূমিকায়। দুঃখ এই যে, যারা এখানে রাজার ভূমিকায় থাকবেন তাদের অনেকেই আবার ভিনদেশে প্রজা হিসেবে অবনত। তারা কি পারবেন দরকষাকষিতে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে? ইচ্ছামতো মানুষ যদি সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে যেতে পারত, ‘ ুদ্র’ স্থানীয় স্বার্থের কথা বলতাম না। কিন্তু আমাদের অনেককেই এবং আগামী প্রজন্মকে এই মাটি ও জলের সঙ্গেই বেঁচে থাকতে হবে। তাই তাকে রক্ষা করা প্রয়োজন এবং ভূগর্ভস্থ সম্পদ থেকে প্রাপ্তি সর্বাধিক করে তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর বিপরীতে প্রচলিত ধারায় জনসাধারণকে দান-খয়রাতের বেড়াজালে আটকে রেখে এবং সাময়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মাধ্যমে দৃষ্টি সরানোর চিরাচরিত পথ বেছে নিলে জাতি হিসেবে দাঁড়ানো অসম্ভব হবে। পথটি পিচ্ছিল। বরং প্রয়োজন এসব আলোচনায় অধিককে সম্পৃক্ত করা, দক্ষিণাঞ্চলে পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা, ভৌত অবকাঠামো গড়ার কাজে স্থানীয়দের অধিক কর্মসংস্থান, প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায্য দাম নির্ধারণে মেধার প্রয়োগ এবং (সম্পদ) বিক্রি থেকে আয়ের উপযুক্ত বিনিয়োগÑ যেন নাইজেরিয়ার পরিণতি আমাদের না হয়। আশা করব, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন।

0 comments:

Post a Comment