স্নাতক পর্যন্ত শিার্থীদের বিনামূল্যে লেখাপড়া
ড.ফোরকান আলী
বিনা পয়সায় পড়ার বিষয়টি এখন আর স্বপ্ন নয়। অবশেষে স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে। উন্নত দেশগুলোর মতো øাতক পর্যন্ত বাংলাদেশের শিার্থীদের সরকার ওই সুযোগ করে দিচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে øাতক পর্যন্ত শিার্থীদের বিনামূল্যে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এ ল্েয গঠন করা হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিা সহায়তা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি শিা তহবিল। ওই তহবিলের আওতায়ই সরকার শিার্থীদের øাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেবে। জাতীয় সংসদে গত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী তহবিলটি গঠন এবং ওই খাতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থকে বলা হবে ‘সিডমানি’ বা ‘বীজঅর্থ’। এছাড়া চলতি বছরই তহবিলটিতে বেসরকারি খাত থেকেও আরও অন্তত ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। ফান্ডটি মূলত সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে গঠিত হবে। এদিকে সরকারি এই নতুন উদ্যোগের ফলে কার্যত øাতক পর্যন্তই শিা জাতীয়করণ হয়ে গেল। কেননা, বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিা কার্যকর রয়েছে। এখন øাতক পর্যন্ত তা বিস্তৃত হওয়ার পথে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, øাতক পর্যন্ত সব শিার্থীই অবৈতনিক পড়ালেখার সুযোগ পাবে কি না। শিা, অর্থ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় ষষ্ঠ থেকে øাতক পর্যন্ত প্রথমে সরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের সবাই এবং বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের ১০ ভাগ শিার্থীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের বাকিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রথম ধাপে কেবল দরিদ্র ও মেধাবীদেরই বিনা বেতনে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; যা অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, বিনা বেতনের সুবিধাপ্রাপ্ত শিার্থীর সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ আর্থিক সংকট। সব শিার্থীকে অবৈতনিক পড়ানোর ল্েয তহবিলটিতে সরকারের (নতুন বাজেটে) তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু সার্বিক অর্থনৈতিক প্রোপটের কারণে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। আগামী অর্থবছরই বিষয়টির কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এখন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিার্থীরাই কেবল বিনামূল্যে পড়ার সুযোগটি পাবে। ২০২১ সালে গিয়ে প্রক্রিয়া চ‚ড়ান্ত রূপ পাবে। এ ল্েয প্রাথমিকভাবে ১১ হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড গঠন করছে সরকার। সিডমানি এবং উপবৃত্তি বিতরণÑ এই দুই নামে ফান্ডে অর্থ থাকবে। ফান্ডের বেশির ভাগ অর্থই আসবে সরকারের তহবিল থেকে। এছাড়া ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলি’ (সিএসআর) নামে আর্থিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকেও বছরে কমপে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। তবে এ জন্য কোন শিা-ট্যাক্স আরোপ করা হবে না। যারা স্বেচ্ছায় অর্থ দেবে তাদের ১০ ভাগ পর্যন্ত ট্যাক্স-রিমুভ বা ট্যাক্স-ওয়েভার দেয়া হতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ সম্মানও দেয়া হবে সংশিষ্টদের। বর্তমানে চারটি উপবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৮ লাখ ৯২ হাজার শিার্থীকে সরকার আর্থিক সহায়তা (উপবৃত্তি) দিচ্ছে। এছাড়া মেধাবৃত্তি হিসেবে আরও এক লাখ ১৫ হাজার শিার্থী অর্থসহায়তা পেয়ে থাকে। এর বাইরে øাতক স্তরের ছাত্রীদের জন্য পৃথক আরও একটি উপবৃত্তি প্রকল্প তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এভাবে বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে অর্থ বিতরণের কারণে অনেক ‘নয়ছয়’ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ‘পিঁপড়ায়’ খেয়ে ফেলছে অনেক অর্থ। উপবৃত্তির অর্থ প্রকৃতরা অনেক েেত্র পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপরীত দিকে ভাতার েেত্র সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া সব বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক-কর্মচারীদের বর্তমানে শতভাগ বেতন-ভাতা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু সুবিধা বাড়ানোর পরও এসব বিদ্যালয়ে শিার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি, সেশন চার্জসহ নানা নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ওইসব অর্থের সবই শিা প্রতিষ্ঠানগুলো খেয়ে ফেলছে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকার শিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়। বিপরীতে ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিার্থী থেকে আয় সরকারের কোষাগারে জমা হয়। আবার বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় সিএসআরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শিার্থীদের বিচ্ছিন্নভাবে অর্থসহায়তা দিচ্ছে। সংশিষ্টরা জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এভাবে শিা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া বা বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রশাসনের বেহাল দশার কারণে একটি ‘মাৎস্যন্যায়’ বিরাজ করছে। ব্যয়িত অর্থ বরং প্রকৃত সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে শিা খাতে সব ধরনের ব্যয় সমন্বয় করা হলে সার্বিকভাবে জাতি উপকৃত হবে এবং এগিয়ে যাবে দেশ। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রণীত সরকারি নথিতে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ট্রাস্ট ফান্ডটি শুরুর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গতা পাবে। এর আগে ২০১৪ সালের ড়িসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চালু করা উপবৃত্তিগুলো গুটিয়ে ফেলা হবে। এেেত্র অবশ্য চালুর অপোয় থাকা ‘øাতক পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান’ প্রকল্প ২০১৫ সাল পর্যন্ত চলবে। বিভিন্ন সময়ে উপবৃত্তি বন্ধ হলেও তা চালিয়ে নেয়া হবে ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থের মাধ্যমে। বর্তমানে ৩৩ দশমিক ৩৮ ভাগ শিার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের মধ্যে ৩৮ ভাগে উন্নীত হবে। এ সময়ে উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণও কমবে। বর্তমানে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণীতে মাসে গড়ে ১৪০, নবম-দশম শ্রেণীতে ১২৫, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে ১৭৫ এবং øাতকে ২০০ টাকা করে উপবৃত্তি রয়েছে। এটা বাড়িয়ে (ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায়) উলেখিত চারটি ধাপে যথাক্রমে ১৫০, ২০০ থেকে ২৫০, ৩০০-৩৫০ এবং ৩৫০-৪০০ টাকা করে দেয়া হবে। মূলত এই বাড়তি অর্থই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে (সরকারি) টিউশন ফিসহ অন্যান্য খরচের পেছনে ব্যয় করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে তিন হাজার কোটি টাকা দিতে না পারলেও আগামী অর্থবছরে আরও তিন হাজার কোটি টাকা ফান্ডে বরাদ্দ দেয়া হতে পারে। এর বাইরে উপবৃত্তি তহবিলে পৃথকভাবে পাঁচ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা আসবে। এই টাকা জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দ হবে। সিএসআরের অধীনে প্রতিবছর ১০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ২০ ফেব্র“য়ারির সভায় সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে ৬০-৮০ কোটি টাকা বছরে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্ট ফান্ড প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই ফান্ডের অর্থ বাড়ানোর ল্েয বিনিয়োগ করা হবে। এেেত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখার মাধ্যমে মুনাফাভিত্তিক বৃদ্ধির চিন্তাভাবনা প্রাধান্য রয়েছে। কেননা মুনাফা না করতে পারলে ফান্ড অল্প দিনে শেষ হয়ে যাবে। অনেকে এই চিন্তাভাবনাকে যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের আলোকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে শিা অর্জনটা ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মতো হবে। তিনি বলেন, এভাবে শিার্থীদের সহায়তার দিকটি জাতীয় ও একক ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে (আর্থিক দিক) নিয়ন্ত্রণ করা হলে অর্থের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি ঘরে ঘরে সুফল পৌঁছে যাবে। এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে ফান্ডটি যাতে বন্ধ না হয়, সে ল্েয এর একটি আইনি রূপ দেয়া হবে। এ ল্েয আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পরীা-নিরীা ও গবেষণা চালাচ্ছে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় জানান, এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা ও আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা আশাকরি সরকারের এ মহতী উদ্যোগ যথাযথ বাস্তবায়ন হউক।
লেখক:গবেষক
ড.ফোরকান আলী
বিনা পয়সায় পড়ার বিষয়টি এখন আর স্বপ্ন নয়। অবশেষে স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে। উন্নত দেশগুলোর মতো øাতক পর্যন্ত বাংলাদেশের শিার্থীদের সরকার ওই সুযোগ করে দিচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে øাতক পর্যন্ত শিার্থীদের বিনামূল্যে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এ ল্েয গঠন করা হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিা সহায়তা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি শিা তহবিল। ওই তহবিলের আওতায়ই সরকার শিার্থীদের øাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেবে। জাতীয় সংসদে গত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী তহবিলটি গঠন এবং ওই খাতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থকে বলা হবে ‘সিডমানি’ বা ‘বীজঅর্থ’। এছাড়া চলতি বছরই তহবিলটিতে বেসরকারি খাত থেকেও আরও অন্তত ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। ফান্ডটি মূলত সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে গঠিত হবে। এদিকে সরকারি এই নতুন উদ্যোগের ফলে কার্যত øাতক পর্যন্তই শিা জাতীয়করণ হয়ে গেল। কেননা, বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিা কার্যকর রয়েছে। এখন øাতক পর্যন্ত তা বিস্তৃত হওয়ার পথে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, øাতক পর্যন্ত সব শিার্থীই অবৈতনিক পড়ালেখার সুযোগ পাবে কি না। শিা, অর্থ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় ষষ্ঠ থেকে øাতক পর্যন্ত প্রথমে সরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের সবাই এবং বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের ১০ ভাগ শিার্থীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের বাকিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রথম ধাপে কেবল দরিদ্র ও মেধাবীদেরই বিনা বেতনে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; যা অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, বিনা বেতনের সুবিধাপ্রাপ্ত শিার্থীর সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ আর্থিক সংকট। সব শিার্থীকে অবৈতনিক পড়ানোর ল্েয তহবিলটিতে সরকারের (নতুন বাজেটে) তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু সার্বিক অর্থনৈতিক প্রোপটের কারণে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। আগামী অর্থবছরই বিষয়টির কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এখন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিার্থীরাই কেবল বিনামূল্যে পড়ার সুযোগটি পাবে। ২০২১ সালে গিয়ে প্রক্রিয়া চ‚ড়ান্ত রূপ পাবে। এ ল্েয প্রাথমিকভাবে ১১ হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড গঠন করছে সরকার। সিডমানি এবং উপবৃত্তি বিতরণÑ এই দুই নামে ফান্ডে অর্থ থাকবে। ফান্ডের বেশির ভাগ অর্থই আসবে সরকারের তহবিল থেকে। এছাড়া ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলি’ (সিএসআর) নামে আর্থিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকেও বছরে কমপে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। তবে এ জন্য কোন শিা-ট্যাক্স আরোপ করা হবে না। যারা স্বেচ্ছায় অর্থ দেবে তাদের ১০ ভাগ পর্যন্ত ট্যাক্স-রিমুভ বা ট্যাক্স-ওয়েভার দেয়া হতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ সম্মানও দেয়া হবে সংশিষ্টদের। বর্তমানে চারটি উপবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৮ লাখ ৯২ হাজার শিার্থীকে সরকার আর্থিক সহায়তা (উপবৃত্তি) দিচ্ছে। এছাড়া মেধাবৃত্তি হিসেবে আরও এক লাখ ১৫ হাজার শিার্থী অর্থসহায়তা পেয়ে থাকে। এর বাইরে øাতক স্তরের ছাত্রীদের জন্য পৃথক আরও একটি উপবৃত্তি প্রকল্প তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এভাবে বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে অর্থ বিতরণের কারণে অনেক ‘নয়ছয়’ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ‘পিঁপড়ায়’ খেয়ে ফেলছে অনেক অর্থ। উপবৃত্তির অর্থ প্রকৃতরা অনেক েেত্র পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপরীত দিকে ভাতার েেত্র সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া সব বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক-কর্মচারীদের বর্তমানে শতভাগ বেতন-ভাতা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু সুবিধা বাড়ানোর পরও এসব বিদ্যালয়ে শিার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি, সেশন চার্জসহ নানা নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ওইসব অর্থের সবই শিা প্রতিষ্ঠানগুলো খেয়ে ফেলছে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকার শিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়। বিপরীতে ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিার্থী থেকে আয় সরকারের কোষাগারে জমা হয়। আবার বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় সিএসআরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শিার্থীদের বিচ্ছিন্নভাবে অর্থসহায়তা দিচ্ছে। সংশিষ্টরা জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এভাবে শিা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া বা বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রশাসনের বেহাল দশার কারণে একটি ‘মাৎস্যন্যায়’ বিরাজ করছে। ব্যয়িত অর্থ বরং প্রকৃত সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে শিা খাতে সব ধরনের ব্যয় সমন্বয় করা হলে সার্বিকভাবে জাতি উপকৃত হবে এবং এগিয়ে যাবে দেশ। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রণীত সরকারি নথিতে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ট্রাস্ট ফান্ডটি শুরুর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গতা পাবে। এর আগে ২০১৪ সালের ড়িসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চালু করা উপবৃত্তিগুলো গুটিয়ে ফেলা হবে। এেেত্র অবশ্য চালুর অপোয় থাকা ‘øাতক পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান’ প্রকল্প ২০১৫ সাল পর্যন্ত চলবে। বিভিন্ন সময়ে উপবৃত্তি বন্ধ হলেও তা চালিয়ে নেয়া হবে ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থের মাধ্যমে। বর্তমানে ৩৩ দশমিক ৩৮ ভাগ শিার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের মধ্যে ৩৮ ভাগে উন্নীত হবে। এ সময়ে উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণও কমবে। বর্তমানে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণীতে মাসে গড়ে ১৪০, নবম-দশম শ্রেণীতে ১২৫, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে ১৭৫ এবং øাতকে ২০০ টাকা করে উপবৃত্তি রয়েছে। এটা বাড়িয়ে (ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায়) উলেখিত চারটি ধাপে যথাক্রমে ১৫০, ২০০ থেকে ২৫০, ৩০০-৩৫০ এবং ৩৫০-৪০০ টাকা করে দেয়া হবে। মূলত এই বাড়তি অর্থই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে (সরকারি) টিউশন ফিসহ অন্যান্য খরচের পেছনে ব্যয় করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে তিন হাজার কোটি টাকা দিতে না পারলেও আগামী অর্থবছরে আরও তিন হাজার কোটি টাকা ফান্ডে বরাদ্দ দেয়া হতে পারে। এর বাইরে উপবৃত্তি তহবিলে পৃথকভাবে পাঁচ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা আসবে। এই টাকা জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দ হবে। সিএসআরের অধীনে প্রতিবছর ১০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ২০ ফেব্র“য়ারির সভায় সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে ৬০-৮০ কোটি টাকা বছরে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্ট ফান্ড প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই ফান্ডের অর্থ বাড়ানোর ল্েয বিনিয়োগ করা হবে। এেেত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখার মাধ্যমে মুনাফাভিত্তিক বৃদ্ধির চিন্তাভাবনা প্রাধান্য রয়েছে। কেননা মুনাফা না করতে পারলে ফান্ড অল্প দিনে শেষ হয়ে যাবে। অনেকে এই চিন্তাভাবনাকে যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের আলোকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে শিা অর্জনটা ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মতো হবে। তিনি বলেন, এভাবে শিার্থীদের সহায়তার দিকটি জাতীয় ও একক ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে (আর্থিক দিক) নিয়ন্ত্রণ করা হলে অর্থের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি ঘরে ঘরে সুফল পৌঁছে যাবে। এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে ফান্ডটি যাতে বন্ধ না হয়, সে ল্েয এর একটি আইনি রূপ দেয়া হবে। এ ল্েয আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পরীা-নিরীা ও গবেষণা চালাচ্ছে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় জানান, এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা ও আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা আশাকরি সরকারের এ মহতী উদ্যোগ যথাযথ বাস্তবায়ন হউক।
লেখক:গবেষক
0 comments:
Post a Comment